সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে প্রদীপ গুপ্ত (পর্ব – ১০)

সুন্দরী মাকড়সা

দুলটা থেকে কানের লতিটাকে আলাদা করলো ঋষি। গা টা কেমন যেন গুলিয়ে উঠলো ওর। জন্তু জানোয়ারের চাইতেও যে
মানুষ বেশী জান্তব সেটা উপলব্ধি করলো আরেকবার । দুলটাকে ডানপকেটে রেখে ঘরে ফিরে এলো। খুব সাবধানে পকেট থেকে হাতে নিলো দুলটাকে। তবে একটা জিনিষ দেখে আশ্চর্য হলো যে দুলটাকে আর যবেই হোক গতকাল ছেঁড়া হয় নি। ঝুমকো টাইপের দুলটার খাঁজে খাঁজে মাটি শুকিয়ে জমাট বেঁধে আছে। কিন্তু তাহলে কানের লতিটা! ওটাতো পচে যায় নি। লতিটাকে ফেলে দিয়েছে ঠিক কিন্তু এখনও ওর চোখে ভাসছে সেই টাটকা ছিঁড়ে ফেলা কানের লতিটা। নরম তুলতুলে লতিটার গায়ে লেগে থাকা রক্ত ওর আঙ্গুলেও লেগে গেছিলো। কিন্তু দুলটার যা অবস্থা সেটা সত্যি হলে লতিটার তো…
আর ভাবতে পারছে না ঋষি। তাহলে কি কোনো ম্যাজিশিয়ান ওকে ম্যাজিক দেখাচ্ছে! প্রথমে নতুন কেনা শারদীয়ার পৃষ্ঠার ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো একটা পুরোনো ঝরঝরে, হলদে হয়ে যাওয়া একটা চিরকুট। কিছু পরেই ফের একইরকম দেখতে অন্য একটা, দুটো চিরকুটে লেখার ধরণ আলাদা, গতকাল রাতে ঝোঁপের ভেতর ধ্বস্তাধস্তির আওয়াজ। আজ এই ঝুমকো দুল আর কানের লতি, এটা সত্যিই কোনো ম্যাজিশিয়ানের খেলা নয়তো…
নয়তো কী? নিজের মনেই নিজেকে জিজ্ঞাসা করে ঋষি। উত্তরটাও নিজেই নিজেকে দিয়ে ফেলে — একটা রহস্যময়তার গন্ধ মেখে আছে ঘটনাগুলোর শরীর জুড়ে। গায়ের লোমকুপগুলোয় কাঁটা দিয়ে ওঠে। তাহলে কি এ বাড়ি ছেড়ে অন্যকোনো বাড়িতে শিফট করবে ও? পরমুহূর্তেই নিজেকে সামলে নেয় ঋষি। বনে বাঁদারে মানুষ ঋষি ঠিক করে নেয়, রহস্য যাই হোক, এর শেষ দেখে ছাড়বে ও। স্নানঘরে ঢুকে দরজার কপাট বন্ধ করে দেয় ঋষি।

ক্রমশ

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।