সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসের প্রদীপ গুপ্ত (পর্ব – ২৩)

স্ট্যাটাস হইতে সাবধান

ব্যাস, এ কথাটুকুর জন্যই বুঝি সারাজীবনের অশান্তির হাত থেকে কয়েক মুহূর্তের শান্তিকে চুরমার করে কেড়ে নিতে অশান্তি শিকারিপাখির মতো ওৎ পেতে ছিলো। সুযোগ পাওয়া মাত্রই সেও ঝাঁপিয়ে পড়লো ফুলটুসির ঠোঁটের গোড়ায়।
—- কী? কী বললে তুমি? আমার কাঁটাভরা গোলাপের বাগানে কাঁটা ফুটে যাওয়ার ভয়ে তুমি আমাকে আদর করতে পারনি? আর সেজন্যই আমি ওই হতচ্ছাড়া, মেনিমুখো, চুল্লুখোর, চরিত্রহীন লম্পট, মেয়েচাটা লিকপিকে হজাকে — অ মা গো —– আমায় যা নয় তাই বলে — তুমি কি এ্যাঁ? বলি তুমি কি? তোমার চরিত্তির কি আমি জানি না ভেবেছো? আমি কি তোমার মতো নাকি, যে নিজের বৌকে আদর করার মুরোদ নেই, শেয়ালের মতো অন্যের ঘরের দরজার ঝাঁপ ধরে টানাটানি করো।
—- দেখো এসব কিন্তু বাড়াবাড়ি করে ফেলছো বলে রাখছি। কবে, কখন, কোথায়, কার বাড়ির ঝাঁপ তুলে উঁকি দিয়েছি প্রমাণ না দিতে পারলে আজ তোমারই একদিন কি আমারই একদিন। একটা অসচ্চরিত্র, কুলটা মেয়েছেলে, আমারই খেয়ে, আমারই পড়ে কিনা আমাকেই বদনাম দেয়! আমি আজই যাচ্ছি উকিলের বাড়ি। দেখি তোমার কোন ঠাকুরপো তোমাকে ভাতকাপড়ের যোগান দেয়।

—- তোমাকে যেতে হবে না, আমিই যাচ্ছি রে মেনীমুখো। তুই কি ভেবেছিস আমার কোনো উকিল চেনা নেই?
—- এই দ্যাখো কেমন ছোটলোকের মতো তুইতোকারি করছে, আমি কি তোকে একদিনের জন্যেও, এক মুহূর্তের জন্যেও তোকে তুই বলেছি? শিক্ষে — এসব হলো শিক্ষের অভাব। ছোটবেলার থেকে বাপমা কোনোদিনও সুশিক্ষা না দিলে তাদের ছেলেমেয়েরা এরকমটাই হয়। স্বামীকে তুই বলে ডাকে।
— হুঁহ, স্বামী! সোয়ামী আমার! সোয়ামী না ঘরামী, খবরদার বলছি বাপ মা তুলে একটা কথাও কইবে না। আমার বাবামা নিতান্তই ভদ্দরলোক না হলে তোমার মতো ভদ্দরলোকের সাথে বিয়ে দেয়?
— এই তো স্বীকার করলে। স্বীকার তো করতেই হবে। তোমার বাবামা ভদ্রলোক কি অভদ্রলোক সে সার্টিফিকেট তুমি দাও গে, কিন্তু আমি যে একজন বিশিষ্ট ভদ্রলোক সেটাকে স্বীকার করতেই হবে। যাকগে যাক, ন্যাকাকান্না ছেড়ে রান্নাঘরে যাও দেখিনি, দুপুরের খাওয়া সেরে আমাকে আবার নন্দনে যেতে হবে।
— নন্দনে! তুমি?
— হ্যাঁ, আমি। কেন আমার কি পা নেই, আমি কি হাঁটতে পারি না নাকি? না কি আমার চা কফি খাওয়ার অভ্যাস নেই? এই আমি আজ পরিষ্কার ঘোষণা করলুম, আজ থেকে আমিও প্রত্যেকদিন দুবেলা, থুরি সকালবেলা, ধুস, বিকেলবেলা নন্দনের চন্দনবনে যাবো, যাবোই। দেখি আমার গায়ের থেকেও চন্দনের গন্ধ বেরোয় কি না!

ক্রমশ

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।