সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে প্রদীপ গুপ্ত (পর্ব – ২)

স্ট্যাটাস হইতে সাবধান

ক্ষান্তমাসির মতো এরকম একজন ছাপোষা মহিলার কাছে হেরে যাওয়াটাকে ফুলটুসি বৌদি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। একদিন ফুচকা খেতে পাড়ার মোড়ের দিকে চতুর্দশীর চাঁদের মতো ঝলমল করতে করতে চৌধুরীদের রোয়াকের সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন, এমনসময় কানের পাশ দিয়ে চিল উড়ে যাওয়ার মতো করে একটা সিটির আওয়াজ উড়ে গিয়ে মিলিয়ে গেলো। আলতোর ওপর সাইড ঝাড়ি নিয়ে বৌদি দেখলেন পাড়ার কোকাই কার্তিক হজা বৌদির দিকে দ্বিতীয় সিটিটা ছুড়তে গিয়ে থমকে গেলো। ফুলটুসি বৌদি এমনভাবে কাঁধের ভেতর একটা ঢেউ তুললেন যে বৌদির কাঁধের ওপর আলগোছে রাখা শাড়িটা যেন পিছলে পড়ছে। কাঁধের সুতোর বাঁধনের ওপর আঁচলটাকে গুছিয়ে রাখতে রাখতে তিনি তাঁর লাল কিসমিস মার্কা ঠোঁটের কোণে যেন একটু হাসির ছোঁয়া লাগালেন। এটুকু বদান্যতাই যে হতভাগাটার জন্য যথেষ্ট সেটা তিনি ভালোভাবেই জানেন।

ব্যাস। এটুকু প্রশ্রয়েরই যেন দরকার ছিলো। হজা ঠেকের সিমেন্ট বাঁধানো সিঁড়ি থেকে তড়াং করে উঠে দাঁড়িয়েই চতুর্দশী চাঁদের ছায়া হয়ে লেপটে থাকতে পা চালালো।

— কী লাগছে গুরু বো বো বৌদি তোমা আপনাকে, যেন ঠিক কোয়েল মল্লিক মাইরি।
— কে?
বৌদি আস্তের ওপর ঘুরে দাঁড়ালেন। কপট রাগ দেখিয়ে বলে উঠলেন —
— ছ্যাবলামো করার মতো আর কাউকে পাননি বুঝি? এসব যার সাথেই হোক না কেন আমার সাথে একদম না। আমি এসব ইয়ার্কি ফাজলামো একদম টলারেট করি না। ভুলে যাবেন না আমার একটা স্ট্যাটাস আছে।
—- ঠিকই তো ঠিকই তো। মানে ইয়ে মানে আরকি, কোথায় যাচ্ছেন বৌদি? বলছিলাম কি ওই ক্ষ্যান্তির কুকুরগুলো —
যেন ঠিক এ কথাটার জন্যই অপেক্ষা করছিলো ফুলটুসি।
— একদম ডিসগাস্টিং। সত্যিই তো ভাই, আপনাদের মানে তোমাদের মতো কালচারর্ড মানুষেরা যে এসব কীভাবে টলারেট করো, সেটা তো আমি বুঝেই পাই না ভাই —
— কী করতে হবে, শুধু একবার মুখফুটে বলো বৌদিমণি, বান্দা জান লড়িয়ে দেবে তোমার জন্য। এলাকার কাউন্সিলর অবদি চমকায় আমাকে সেটা কে না জানে বলো তো? আর ওই তো ঝাটের ক্ষ্যান্তি, এক ফুঁয়ে–

চলবে

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।