সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে প্রদীপ গুপ্ত (পর্ব – ৩৩)

স্ট্যাটাস হইতে সাবধান
কথায় বলে fact is more fictitous than truth, বাস্তব ঘটনা পরম্পরা নাকি সত্যের চাইতেও বেশী চমকপ্রদ।
যে মহিলা এতক্ষণ ভ্যাঁ করে কান্না জুড়েছিলেন তিনিই মুহূর্তের মধ্যে যেন খোরপশের কথা শুনে একেবারে রণরঙ্গিণী মূর্তি ধারণ করলেন। কোমড়ের মধ্যে আঁচল গুঁজে নিয়ে নিয়ে হুঙ্কার দিয়ে উঠলেন — দে – দে দেখি কতোবড়ো মুরোদ তোর দেখি, দে দেখি ডিভোর্স আমাকে। আজকেই দিবি রে হোদল কুতকুত কোথাকার। নইলে আমিই তোকে ঝ্যাঁটাপিটা করে ঘরের বাইরে বের করবো, এই আমি বলে রাখলাম।
ঠিক যেন সানাই বাদন শুরু হয়েছে, এমনিভাবেই পোঁ ধরে নিলো ছেলেটি। নাকিসুরে খোনা গলায় হাত নাচিয়ে বলে উঠলো —
— ঘুঘু দেকেচো ফাঁদ দেখোনি তাই না? দাড়াও তোমাদের ক্যামন তুর্কি নাচন দেখাতে হয় দেখাচ্ছি। দুজনকেই থানায় দৌড় করিয়েই ছাড়বো। যদি না লক আপে রাত কাটানোর ব্যবস্থা না করতে পারি তবে আমার নাম লাটাই না।
এবারে হিড়িম্বার পালা। সে এতক্ষণ চুপচাপ সবার কথা শুনছিলো। লাটাইয়ের কথা শেষ হতে না হতেই তিনি এবারে নাকিসুরে কান্না ধরলেন।
— কি গো ডাল্লিং? চুপ করে আছো কেন? কিছু একটা বলো, ওই লাটাই দেখছি তোমাকেই ঘুড়ি বানিয়ে আকাশে ওড়ানোর চেষ্টা করছে। আমি ওসব থানায় ফানায় যেতে পারবো না কিছুতেই এ আমি পরিষ্কার বলে দিলুম গো। প্রয়োজনে আমি দাদাদের মতোই দল বদলাবো। তোমার দল ছেড়ে লাটাইয়ের দলে গিয়ে ভিড়বো তাও ওই থানা ফানায় — আমি কী মরতেই না তোমার সাথে ভাব করলুম কে জানে?
— ওইসব দল বদল টদল করা চলবে না। আমরা তোমাকে দলে নিলে তো। কি বলো লা টা ই সো না?
— লাটাই সোনা? লাটাই –?? ওই লাটাইয়ের সুতোয় বাঁধা ঘুড়ি আকাশে ওড়ে না। মাটিতে, পার্কে, রেস্টুরেন্টে, লেকের জলে উড়ে বেড়ায়। যদি আমি সে ঘুড়িকে আছড়ে না ভেঙে ফেলি তো আমার নাম তলাপাত্র না। লা টা ই? দাঁড়া দেখাচ্ছি মজা। কে কাকে থানার ভাত খাওয়ায় দেখাচ্ছি।
— চলো তো সোনাবৌদিভাই, আমার সাথে এখুনি চলো দেখি, একটা ফোর নাইনটি এইট মানে বঁধু নির্যাতনের মামলা সাঁটিয়ে দিয়ে আসি। তারপর দেখবো, হাউ মেনি রাইস মে হাউ মেনী ভাত হোতা হ্যায়।
— আরে শোন, জানিস তো ক’বছরের পুরোনো হয়ে গেলে আর বঁধু নির্যাতনের মামলা —
— আরে ওদের কথা ছাড়ো না ডাল্লিং, আমরা ডিভোর্সের মামলা করবো না, কিছুই করবো না, শুধু লিভ টুগেদার করবো, একসাথে থাকবো দুজনাই, আর ওকে দাসীবাঁদী করে রেখে দেবো।
— গ্রেট, তুমি সত্যিই গ্রেট ডিয়ার — বলেই তলাপাত্র হিড়িম্বার দু’গালে চমাস, চকাস করে চুমু খেয়ে একপাক নেচে নিলেন।
ক্রমশ