কবিতায় স্বর্ণযুগে পিনাকী বসু (গুচ্ছ কবিতা)

১| সময়
কথা ছিল, এমনই থাকবে চিরকাল,
তবু,এমনিই পাল্টে নিলে সব।
এমনটাই হয়ত হয়।
দুমুঠো গ্রীষ্মেও কত ফারাক।
কাছেও আড়াল থাকে কত।
সুরের শুরুতেই,
যে সবুজাভ ফোয়ারা ছিল,
আকাশের শিকড়ে,
এখন সেখানে সফেন ঘাস।
ওরাও, অভ্যাস বদলেছে।
নাভিকূপে যে গোপন চিহ্ন এঁকেছ,
এখন তারই গর্ভে পেতে চাই তোমায়।
জন্মদাগ নয় লিখে রাখুক সময়।।
২| প্রাপ্তি
না পাওয়াগুলো, তিল তিল করে,
তিলোত্তমা হয়ে গেছে।
যা আছে, আর যা নেই,
তফাৎটুকুই যা ছাইচাপা আগুন।
রাত ভাঙা ঘুমের বেহায়া রঙ,
চোখ বন্ধ করলেই পিছু ডাকে।
ভালোবাসার জিভে, সোনার হরিণ খোঁজে।
ছুটে বেড়ায় ছায়ার পিছনে-
ক্ষিধেটারই শুধু মুখ নেই,
সে যেন শুঁয়ো জড়ানো শিউলিগাছ।
এ ছবিটা, শোকের হলেও শোকের নয়,
যেমন জীবন থাকলেই জীবিত নয়।।
৩| বাকি কাজ
আমি তো সেই একই রকম।
ছন্নছাড়া, অগোছালো, নষ্ট বয়েস-
তুইই ছিলি রোজের অভ্যেস।
নিঃশব্দ সিঁড়িটায় বোবা শব্দ ছিল।
খোলা দরজায়,
অনধিকার প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল।
মুখোমুখি দুটো সময়ের,
না বলা কথারাই সরব ছিল বেশি।
খুনসুটিও একা, তোরই মুঠোয়।
তুই ছিলি তাই রোদ ছিল,
এখন শুধুই বৃষ্টি।
রক্তক্ষরণ ও গতরে বেড়েছে।
চলে যাওয়াগুলো ফিসফিস করে ডাকে৷
না-পাওয়াকে, ভালোবাসি বলা হয়নি,
জিজ্ঞাসা চিহ্নটা তাই অপেক্ষায় আছে।।
৪| রিক্সা
কাঠের কাঠামোটাই ছিল প্রথম বাহন-
সারসের রনপার মত একজোড়া দস্যি পা,
ফাটা গোড়ালিতে তোলা খুরের শব্দেই,
মুখ লুকাতো প্রথম প্রেম ৷
মুখ তুললেই আকাশ ছিল-
আর নীচে জলভরা ইচ্ছেরা,
প্রতিশ্রুতি পালটে দিত প্রতিদিন।
যেন,পথ আছে, গন্তব্য নেই।
ঘাম, শুকিয়ে যায় খরায়।
তবু, টুংটাং শব্দেরা হেঁটে যায়।
দুহাতের মুঠোয় তাদের কোজাগরী পালক৷
সওয়ারীরা দাঁতে মুখে চাবুক চালায়,
চলার আয়ু কমতে থাকে৷
ওরা তো জিততে চায়নি কখনও ,
আঙুল সেসব কথা জানে।
ঈশ্বরও তাই যুক্তাক্ষর হয়ে ওঠেনি কোনদিন ।।