গল্পবাজে নীলম সামন্ত

পিরামিড প্যারামিটার

তোমাকে দেখতে অনেকটা বহুপুরোনো ট্রামলাইনের মতো৷ নৃতত্ত্ববিদদের মতে বিশাল বিকেলগুলো দাঁড়িয়ে থাকে তোমার শরীরে হেলান দিয়ে, তাই তোমার বৈজ্ঞানিক নামের বদল প্রয়োজন৷ নতুন যে নাম রাখা হলো তার পাশ থেকে দাহ্য তরল সরিয়ে লোহার বেঞ্চ রাখা হয়েছে৷ যেখানে নির্দ্বিধায় প্রেমিকের ঠোঁট প্রেমিকার ঠোঁট চেপে মনে করে দক্ষ নাচঘর ৷

নাচঘর, ঝাড়বাতি, তবলার বোল ঝেড়ে ফেলে দু একটা বিভ্রান্ত আনারকলি মোটরসাইকেলের পিছনে বসে ঢুলতে থাকে। মুখ থেঁতলে পড়ে থাকা মৃত্যুকে পাশ কাটিয়ে যাবার সময় তাদের লাল ওড়না দেখলে মনে হয় টাটকা রক্ত বাতাসে উড়ছে চরম নির্লজ্জতায়।

এই সব লেখার আগে নিজেকে মুখোশে ঢেকে একবার ফেসবুক খুললাম। অহেতুক বিজ্ঞাপন, তর্কাতর্কি, নাচ গানের ভিড়ে উঁকি দিচ্ছে জাতির হিংসাত্মক অপদার্থতা৷ খোলা বাজারে সারাবছরই যেন ভরা ভাদ্র। ছোটবেলার বন্ধু বলত পরের জন্মে যেন বিলেতি কুকুর হয়ে জন্মাই। ভবিষ্যতে কুকুরের কদর বেশি হবে৷

ভবিষ্যৎ কি বলবে তা নিয়ে গ্রন্থাগারে কোন আড্ডা হয়না৷ নক্ষত্ররা শিক্ষিতের মাথা ছেড়ে মুর্খের বস্তিতে টহল দিচ্ছে বলে প্রেমিকার চোখ লাল। এতোই লাল যে মিস্ত্রি ডেকে মেঝে ফাটিয়ে বসিয়ে দিচ্ছে নর্মদার পবিত্র শ্বেতপাথর। প্রতিটা ব্লকে প্রিন্ট করা হয়েছে ভিন্নধর্মী জ্যোতিষ্মত্তা। তার ওপর চলে দীর্ঘ পরিক্রমা।

আসরে মধ্যমণি তুমি। বহুপুরোনো ট্রামলাইন। মাঝে মধ্যে ট্রাম যায়। ঘটাং ঘটাং শব্দ থামিয়ে ঘন্টা বাজান খাঁকি পোশাকের কনট্রাকটর। গাড়ির কাঁচ নামিয়ে হাতে করে বাড়িয়ে দিই রাত ও স্বপ্নের প্রেমহীন সঙ্গম।

Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!