কবিতায় মহম্মদ সামিম

অমলিন
এই অসুখের কী নাম দেব জানি না,
অসীম শূন্যতার নীচে, অপার নীরবতা শেষে
হঠাৎ একদিন দেখা হল আমাদের আর নক্ষত্রের
বৃন্ত থেকে একে একে ঝরে পড়ল অভিমানের পাপড়ি
মনে হল, মায়া মৃগয়ার মতো পালিয়ে যাই কোথাও
কিন্তু নিরুপায়, এই গহিন ক্ষতের অরণ্য সুবিশাল।
অচেনা জ্বরের মতো আমার ভিতর মিশে যাচ্ছ তুমি
আর আমি চোখ থেকে উজাড় করে দিচ্ছি জমিয়ে রাখা বৃষ্টি
আদিম স্মৃতিকথারা মেঘ হয়ে জন্ম নেয় একদিন।
ছায়াকাতর জীবন কখনও ভুলতে পারেনি —
অতলস্পর্শী উন্মনা বিকেলের প্রতিটি সূর্যাস্ত
তোমার কপালের টিপের মতো সুন্দর, অমৃতা
তবু শেষ দেখাটুকু ছিল আলোকিত ও পবিত্র
যেন গোধূলির অনন্য রূপে নিবিড়, সপ্রতিভ।
এই অসুখের কোলে মাথা রেখে মনে হয়,
ক্লান্ত জীবনের বেদনা ভুলে দু’দণ্ড নিশ্চুপ বসি
তোমার দৃষ্টির ভিতর যে আকাশ ছড়িয়ে আছে
সেখানে ডানা মেলে উড়ে যাই, অনাবিল অনন্তে।