দৈনিক ধারাবাহিকে মৃদুল শ্রীমানী

জন্ম- ১৯৬৭, বরানগর। বর্তমানে দার্জিলিং জেলার মিরিক মহকুমার উপশাসক ও উপসমাহর্তা পদে আসীন। চাকরীসূত্রে ও দৈনন্দিন কাজের অভিজ্ঞতায় মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষের সমস্যা সমাধানে তাঁর লেখনী সোচ্চার।

বৃহন্নলা কথা 

মহাভারতীয় যুদ্ধে এক তৃতীয়া প্রকৃতি ব্যক্তি ভীষ্ম বধে কাজে লেগেছিল। ভীষ্ম এই তৃতীয়া প্রকৃতি ব্যক্তির গূঢ় ইতিহাস জানতেন। এই তৃতীয়া প্রকৃতির জন্মের পিছনে বেশ একটু বেদনার ঘনঘটা রয়েছে। সেই ব্যাপারে ভীষ্ম নিজেকে অনেকটা দায়ী করেছেন।
অর্জুনের সাথে পিতামহ ভীষ্মের সূত্রেই সেই তৃতীয়া প্রকৃতি জড়িয়ে।
অর্জুনের বায়োলজিক্যাল পিতা ইন্দ্র হলেও, অফিশিয়াল পিতা ছিলেন পাণ্ডু, এবং পাণ্ডুর বায়োলজিক্যাল পিতা মহর্ষি কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন বেদ ব্যাস হলেও অফিশিয়াল পিতা ছিলেন বিচিত্রবীর্য। এই বিচিত্রবীর্য ছিলেন শান্তনু ও সত্যবতীর দ্বিতীয় পুত্র। প্রথম পুত্র ছিলেন চিত্রাঙ্গদ। তো চিত্রাঙ্গদ সমনামী এক গন্ধর্বের সাথে লড়তে গিয়ে নিহত হন। সত্যবতী বিচিত্রবীর্যের পুত্রসন্তান হোক, এই চেয়েছিলেন। সেই সূত্রে শান্তনুর গঙ্গাগর্ভজাত পুত্র ভীষ্ম দেবব্রত কাশীরাজের তিন কন্যা অম্বা, অম্বিকা আর অম্বালিকাকে ভ্রাতার জন্য হরণ করেন।
অম্বা ভীষ্ম এর কাছে কেঁদে বলেন তিনি শাল্ব রাজার বাগদত্তা। তখন ভীষ্ম অম্বাকে ছাড় দেন। কিন্তু শাল্বরাজ অপহৃতা নারীকে স্ত্রী রূপে গ্রহণ করতে না চাইলে অম্বা নিজের এমন হীন অবস্থা দেখে পরশুরামের শরণাপন্ন হন। পরশুরাম ছিলেন ভীষ্মের গুরু। পরশুরাম ভীষ্মকে নির্দেশ দেন অম্বাকে গ্রহণ করবার। কিন্তু কারো অনুরোধেই ভীষ্ম নিজের প্রতিজ্ঞা বর্জনে উৎসাহী নয়, সেটা জানিয়ে দিলেন। ভীষ্মের বিরুদ্ধে পরশুরাম অস্ত্র ধারণ করেও তাকে হারাতে পারলেন না। তিনি স্থান পরিত্যাগ করেন।
এবার অম্বা যমুনা তীরে ভীষ্মবধের জন্য কঠোর তপস্যা করেন। অম্বা মহাদেবের কাছে বর পেলেন যে তিনি রাজা দ্রূপদের নপুংসক সন্তান শিখণ্ডী রূপে জন্মলাভ করে ভীষ্মবধের কারণ হবেন। নপুংসক শিখণ্ডীকে সামনে রেখে কুরুক্ষেত্রের দশম দিনের যুদ্ধ শুরু করেন অর্জুন। সামনে নপুংসক শিখণ্ডী, যিনি জন্মান্তরে একজন নারী ছিলেন, তাঁকে দেখে ভীষ্ম অস্ত্রত্যাগ করেন। আটান্ন রাত্রি শরশয্যায় থাকবার পর ভীষ্ম প্রয়াত হন।

ক্রমশ…..

Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!