সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে মৃদুল শ্রীমানী (পর্ব – ৩)

মজুর, মার্ক্স ও মে দিবস।
৩|
মার্ক্স চিরতরে চোখ বুজলেন ১৮৮৩ সালে। ১৪ মার্চে। তার পরে পরেই আমেরিকার শ্রমিকেরা সংগঠিত হচ্ছিল। ১৮৬৭ থেকেই আইন হয়েছিল মালিকেরা শ্রমিকদের আট ঘণ্টার বেশি সময় ধরে কাজ করাতে পারবে না। কিন্তু আইন রয়ে গিয়েছিল বইয়ের পাতায়। আক্ষরিক অর্থেই মুখটি গুঁজে। সরকার ও প্রশাসনেরও আইনটির বাস্তবায়নে উদ্যোগ দেখা যেত না। সাধারণ ভাবে সরকার ও প্রশাসনের উপর তলার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মালিকদের একটা সাঁট থাকে। তারা সহজে মালিকদের চটাতে চায় না।
১৮৮৪ সালে গরমকালে, অর্থাৎ মার্ক্স সাহেবের দেহাবসানের বছরটাকের মধ্যেই আমেরিকার সংগঠিত ট্রেড ও লেবার ইউনিয়নের ফেডারেশন আট ঘণ্টা সময়সীমা মেনে কাজের দাবিতে গোটা আমেরিকা জুড়ে আন্দোলন গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু করে। ফেডারেশন স্থির করেন যে, ১৮৮৬ সালের পহেলা মে তারিখে দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু করবেন। দুই বছর ধরে তার প্রস্তুতি চলল। মালিকদের কাছে শ্রমঘণ্টার তাৎপর্য নিয়ে চিঠি পাঠাল ফেডারেশন। মালিকদের মতামত জানতে চাইল। লক্ষ্য ছিল তাদের মনোভঙ্গির পরিবর্তন। ফেডারেশন আরো বলল শিশুশ্রম বন্ধ করো। শিশুদের বড় হতে দাও। শৈশবেই পেটের দায়ে কম মজুরিতে কাজ করতে এলে লেখাপড়া শিখবে কখন? শ্রমিকেরা নিজেদের দাবিকে উচ্চে তুলে ধরে গান বাঁধল। এই ভাবে ধৈর্য ধরে একটা পরিকল্পিত সুশৃঙ্খল আন্দোলন গড়ে তুলতে চাইছিলেন যাঁরা, তাঁদের মধ্যে লুসি পারসনস আর অ্যালবার্ট পারসনস বিখ্যাত এক দম্পতি
লুসি এলডাইন গঞ্জালেস পারসনস (১৮৫১ – ১৯৪২) ছিলেন অসাধারণ বক্তা আর শ্রমিক সংগঠক। বিপ্লবী সমাজতন্ত্রের চর্চা করতে করতে তিনি কমিউনিস্ট হয়ে উঠেছিলেন, সেইরকম কমিউনিস্ট যারা শ্রেণিদ্বন্দ্ব ও শ্রেণিসংগ্রামের প্রতি আস্থাবান।
অ্যালবার্ট রিচার্ড পারসনস (জুন ২০, ১৮৪৮ – নভেম্বর ১১, ১৮৮৭) কৈশোর থেকেই দিনবদলের স্বপ্ন দেখতেন।
১৮৭১ সালে পারী কমিউনের ঘটনা সদ্যোতরুণ অ্যালবার্ট পারসনসকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। অ্যালবার্ট নিজেকে কমিউনিস্ট বিপ্লবী হিসেবে ভাবতে শুরু করেন। পরের বছর ১৮৭২ সালে তিনি এবং লুসি গঞ্জালেস বিবাহ করেন। শুধুমাত্র নিজেকে কমিউনিস্ট ভেবেই অ্যালবার্ট ক্ষান্ত হননি, শ্রমিকশ্রেণির লড়াকু সংগঠন গড়ে তুলতেও আত্মনিয়োগ করেছেন।