গল্পে মীনা রায় বন্দ্যোপাধ্যায়

নীরবতায়

বিপ্লব— আমার জন্য এতো করেছো মা যে আমি কারও সঙ্গে মিশতেই পারি না ঠিকঠাক।
স্বস্তিকা বলে , “তোমার মাকে তোমার প্রতি নাকগলানোটা ছাড়তে বলো।”
বিকাশ বললো — মা যদি বোনের বিয়েতে তোমার গহনা চায় না কোরো না।
রান্না ঘরে রান্না করছিলাম যখন শাশুড়ি মা গরম জল নিতে গেলেন। হঠাত্ আমাকে তাঁর সেই স্বভাবে বললেন — ” আমার গায়ে তোর শ্বাস পড়ছে। বাইরে যেতে পারতিস ! যত্তসব। বিদেয় হ আমার বাড়ি থেকে । ভাল্লাগে না তোকে।”

শ্বশুরমশাইয়ের আমার হাতের রান্না পছন্দ । গায়ে পায়ে তেল মালিশ দেওয়াও।
শাশুড়ির দাপটে তিনিও নীরব। মাতৃভক্ত বিকাশ বিয়ে করে এনেই মুক্ত। খেলাম কিনা খোঁজটি নেয় নি। দিব্য ছাদে মায়ের পাশে বসে প্যান্ডেলে খেয়ে নিয়েছিল।
আমার জন্য কি নিয়ম জানি না। খুব খিদে পেয়েছিল। একলাটি খেতে দিয়ে কত কথা শোনালো। বাবার দেওয়া নমস্কারী দান সামগ্রী সম্বন্ধে। তাঁর ছেলেকে সোনার চেন না দেওয়ার অপরাধে আমার বাবাকে অকথ্য গালিগালাজ দিয়ে বৈবাহিক সম্মাননা !
ভাবছি , আপন ভবিতব্য। ছেলের গার্লফ্রেন্ড স্বস্তি যে আমাকে স্বস্তি দেবে না আভাস স্পষ্ট। শুধু নীরব সহ্যের অভ্যাসেই শাশুড়ির আর বৌমায়ের মধ্যে সহ্যসেতু আমি !

Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!