সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে মৌসুমী নন্দী (যাপন চিত্র – ৪৪)

বোঝাপড়া – ম্যাসেন্জার উবাচ

আমরা আজকাল এক অদ্ভুত সময়ের মধ্যদিয়ে দিল কাটাচ্ছি ৷ কিছুটা অস্হির ,কিছুটা বিবেকহীন ,কিছুটা আবেগশূণ্য অথবা এর বিপরীত অবস্হানের মধ্য দিয়ে ৷ সব যেনো আন্ডারস্ট্যান্ডিং এর খেলা ৷ যে বা যারা মানতে পারেন বা অভ্যস্ত হয়ে যান এই ধরনের ব্যবহারে তাদের কাছে এটা বেশ এনজয় করার মতো আর যারা এখনো একটু আদর্শ বা আবেগ নিয়ে আছেন বা তারা একটু বিড়ম্বনায় পড়েন বটে ৷ আজকাল কালের নিয়মে সবাই স্যোসাল মিডিয়াতে বিচরণ করেন আর লকডাউনে তো মানুষ এগুলো আর বেশী করে রপ্ত করে ফেলেছে অনলাইন কাজ করতে করতে ৷ একাকিত্বের একটা বেশ ভালো সময় কাটানোর মাধ্যম হলো ফেসবুক ৷ মানুষ নিজেকে মেলে ধরে ফেসবুকে নানাভাবে ৷ সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কি কি করে সব ফেসবুকে আপলোড ৷ ভিতরে ভিতরে খোকলা সম্পর্ক কিন্তু ফেসবুকে যখন পরিবেশন করা হয় বোঝার উপায় নেই বাড়ীতে দুজনের মধ্যে সারাক্ষন ঝগড়া হচ্ছে, প্রচুর কমেন্ট পড়ে হ্যাপি ফ্যামিলি ,নাইস জোরি ইত্যাদি আরো কত কিছু ৷ আমরাও একটা সুখী সুখী ভাব দেখাতে পেরে খুশী হয়ে যাই ৷ চলতে থাকে আত্মতুষ্টির খেলা ৷ সমস্যা টা তখনই বাঁধে যখন ম্যাসেন্জারে কথা শুরু হয় কারোর সাথে ৷ প্রথমে হাল্কা হাই হ্যানো তারপরে দ্রুত শুরু হয়ে যায় একটা সম্পর্ক ৷ প্রথমে
কোনো একটা আইডি থেকে হঠাৎ একদিন রিকুয়েষ্ট আসে। কিছুদিন পর থেকেই হাই হ্যালো দিয়ে শুরু হয়। সেটা কখনও কখনও বন্ধুত্ব কিংবা প্রেম পর্যন্ত গড়ায়। মনের যত আবেগ, ভালোবাসা সবই ইনবক্সের এককোণে জড়ো হতে থাকে। তার করা প্রতিটি পোস্ট বা ছবিতে সবার আগে লাভ রিএ্যাক্ট আসে। বেশ কিছুদিন ধরেই এই আড্ডা, গল্প চলতে থাকে। অনেকেই এটাকে এনজয় করে ৷ তাদের কাছে হয়তো এটা একটা জানালার মতো ৷ আজ খোলা তো কাল বন্ধ ৷ আবার পরের দিন অন্য জানলাটা খোলা ৷ যদি দুই পক্ষ এই একই মতে বিশ্বাসী হয় তখন কোনো অসুবিধা হয় না ৷কিন্তু কোনো এক পক্ষ যদি সরলমনে সব বিশ্বাস করে বসেন তখন শুরু হয় খেলা ৷ যিনি খেলোয়াড় তিনি তো রোলার কোস্টারের মত ঘুরতে থাকেন এক আইডি থেকে আরেক আইডি ,এক ম্যাসেন্জার থেকে আরেক ম্যাসেন্জার ৷ এটার তার অভ্যাসমাত্র কোনো আবেগ বা কমিটমেন্ট সেখানে সে ধার ধারে না ৷ কিন্তু অপর পক্ষ যদি বোকা হয় বা বিশ্বাস করে ফেলেন তখনই ঝামেলায় পড়ে যায় খেলুড়ে এ পক্ষ ৷তার তো ততদিনে অন্য কোনো একটা আইডি থেকে রিকুয়েষ্ট পাঠানো হয়ে গেছে শুরু হয়ে গেছে সেখানেও হাই -হ্যালো তখন আগের মানুষটার উপর আবেগগুলো আস্তে আস্তে কমতে শুরু করে। তার সাথে আর, সেই আগ্রহ নিয়ে কথা বলতে ইচ্ছে করে না। তার করা এসএমএস এর ফাস্ট রিপ্লাই দিতে আর ইচ্ছা হয় না। তার আইডি একসময় চ্যাটলিস্টের নিচে পড়ে থাকে। কারণ ততদিনে নতুন কোনো একজন তার ইনবক্সে জায়গা করে নিয়েছে।

তারপর পুরোনো মানুষটার, একদিন জায়গা হয় ফেসবুকের ইগনোর ম্যাসেজ এর লিস্টে। হঠাৎ কোনো একদিন তার করা পোস্টগুলো আর নিউজফিডে আসে না। বার বার সার্চ করেও হয়ত তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না। তারপর এক বুক দীর্ঘনিশ্বাস নিয়ে তাকে খুঁজে পাওয়া যায় অন্য কোনো আইডি থেকে। কিংবা খুঁজে পাওয়া গেলেও তার আইডি এড ফ্রেন্ড দেখায়।

এভাবে হঠাৎ করে শুরু হওয়া আবেগগুলো যেন আবেশেই হারিয়ে যায়৷ এই ভার্চ্যুয়াল জগতে ইমোশনের কোনো দাম নেই৷ এখানে বন্ধু বা সম্পর্কের কোনো সম্মান থাকে না। আসলে ফেসবুক একটা ফেক দুনিয়া। এখানে কেউ কাউকে মূল্য দিতে জানে না, থাকে না কোনো ভালোবাসার দাম।

তবুও কিছু মানুষ এটা না বুঝেই এই ফেক দুনিয়ার মানুষদের নিজের জীবনের সাথে জড়িয়ে নেয়। যা সে আজীবন স্মৃতি করেই রাখে। তাই সাধু সাবধান ৷খেলতে না পারলে এই ম্যাসেন্জারে না যাওয়াই ভালো ৷ সকলে খুব ভালো থাকবেন ৷ আবারো বলছি ফেসবুক করুন কিন্তু সেটাকে ব্যবহার করুন ব্যাবসায়িক ক্ষেত্র হিসাবে ,অথবা প্রতিভার বিকাশ দেখান ৷ কিছু মানুষের সরলতা বা বোকামি বা কিছু খেলুড়ের খেলার জন্য ফেসবুক খারাপ তাই নয় এর মাধ্যমে অনেক সামাজিক ভালো কাজও হয় ৷ তাই সম্পূর্ণ টাই আপেক্ষিক ৷ বোঝাপড়ায় চলবেন না ঠাকবেন না শান্তিতে থাকবেন সেটা আপনাকেই ঠিক করতে হবে ৷

Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!