গদ্যের পোডিয়ামে মালা মিত্র

গদ্য – কবি
“তুমি আদি কবি,কবিগুরু তুমি হে,
মন্ত্র তোমার মন্দ্রিত সব ভুবনে”
কবি মানে প্রেমিক,কবি মানে ভাবুক,কবি মানে ভবিস্মৎদ্রষ্টা,বিস্তারিত তার কল্প-আকাশ,নব নব সৃষ্টি। একটি নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপট,ঘটনাকে রূপক ও নান্দনিকতায় সাজিয়ে কবি পেশ করে। অল্প কথায় বহূবিধ অর্থ প্রকাশ করেন তিনি কলমের সাহায্যে।
যা পড়ে বোদ্ধা আহা!আহা!চমৎকার! ধ্বনী তে তাকে কুর্ণিশ জানায়।
কবির কাব্য ভাষার সাজসজ্জা দেখে মানুষের মনে সৃষ্টির প্রতি,স্রষ্টার প্রতি একটা ভাবগম্ভীর শ্রদ্ধার সৃষ্টি জাগায়।
বড় থেকে ছোট সব মাপের কবি আছেন,সেই অর্থে বলতে গেলে,প্রতিটি সুস্থ মানুষ যার কল্পনা আছে,রচনা করার সামর্থ আছে,তিনিই কবি।
সে রাঁধুনিই হোক,সৈনিক,নাবিক যাপনের যে কোনো শাখার মানুষ আছেন সবাই মনের কবি।কবি উজাড় ঢালে তার মনন,স্মৃতি,অভিজ্ঞতা,কল্পনা,তাকে নিঙড়ে গড়ে ওঠে তার কাব্য-প্রতিমা।রূপকার তিনি।একই ভাবে যে যে পেশায় থাকুননা কেন,তার কর্মকুশলতা অভিজ্ঞতা কল্পনা সাময়িক পরিস্থিতির জ্ঞান মনের জমানো সৌন্দর্য্য বোধ তার কাজে একশ ভাগ ঢেলে গড়ে তোলে তার কর্ম-কবিতা।
শুধুমাত্র কলমপেশী নন একজন ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার গৃহবধু ঝাড়ুদার প্রত্যেকেই তার কর্মকুশলতা ভাবনা চিন্তা সব মিশিয়ে প্রতিনিয়ত তার কর্মজগৎ কে উচ্চ থেকে উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে তারা প্রত্যেকেই একেক জন ধ্যানী কবি।
যিনি যত সুক্ষ্ণতার সঙ্গে তার কর্মটি সুচারু রূপে উপস্থিত করেন,তিনি তত বড় সাধক কবি।
সাধনা না থাকলে কোনো শাখায়ই উতকর্ষ ফোটানো যায় না,ঠিক কবির বেলায় ও তাই।তার শব্দচয়ন ছন্দ কল্পনা ভালবাসা মিশিয়ে তার উৎকৃষ্ট কবিতা গড়ে তোলা।অন্য পেশার মানুষ ও তার কর্মের স্থানটি নিখুঁত সুন্দর করে গড়ে তোলেন,তাকে কি কবি বললে অতুক্তি করা হয়?
তাই কবি সাহিত্যিক ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার নভোচারী কেরানী অফিসার গৃহবধু সবাইকেই কবি ভাবতে পারি।তাই নয় কি?