ক্যাফে ধারাবাহিক গল্পে মনোরঞ্জন ঘোষাল (পর্ব – ১১)

টলিট্যাব আবিষ্কার

তা না আবার এখানে হাজির হল। ভাল লাগে না এ সব উটকো উদ্বাস্তু দের জ্বালাতন।”

শুনে অবাক হয়ে গেলাম! গাছেরাও অবিকল আমাদের মত বিরক্ত কর মন ভাব দেখায়? ওদের মধ্যেও অসন্তোষ ব‍্যাক্ত হয়?

গাছের কথায় বেদনা পাবার থেকে সাফল্যের আনন্দে বিভোর হয়ে প্রবল উচ্ছাসে যন্ত্রটি গাছের গা থেকে খুলে নিয়ে দৌড় দিলাম ডেনিয়লের উদ্দেশ্যে।

ও ঘরের বাহিরেই ছিল। আমাকে দৌড়ে আসতে দেখে সে ভয় পেয়ে গেল। বুঝেছিল বোধহয় আমাকে কিছু একটা তাড়া করেছে। ও তো জানে না যে আমি কারো তাড়া খেয়ে পালিয়ে আসার লোক না। সে প্রস্তুতি আমার সব সময়ের জন‍্য কাছেই থাকে।

ওকে যখন সবিস্তারে আমার তৈরী করা যন্ত্রটার কথা বললাম ও আর অপেক্ষা করতে চাইল না। প্রবল উৎসাহে ছটফট করতে করতে বলল- “লাগাও। লাগাও। গাছে লাগাও যন্ত্রটি। আমি এখুনি শুনতে চাই ওদের কথা।”

তখন সে প্রচণ্ড উদ্বেগে গাছেদের কথা শুনবে বলে লাফালাফি করতে লাগল। তার আচরণ দেখে মনে হল এখন সে একটা বাচ্ছা ছেলে বেনে গেছে। অবশ্য এমনটা হয়। আর বিজ্ঞানীরা তো হয়ই। তাদের উদ্ভাবন যখন এক অভূতপূর্ব ও আকর্ষণীয় উদ্বেগের নিরসন করতে সফলতার ইঙ্গিত দেয় তখন সে সেই আনন্দ কে ব‍্যাক্ত করে ফেলতে তত্পর হয়ে একে বারে বাচ্ছা ছেলের মত আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়ে। সাফল্য যে কতটা আনন্দের তা এমন মানুষকে না দেখলে মনে করা যায় না। আর আমি তো সব কিছুতেই সমান। আগে অনেক লাফালাফি করতাম কোন একটা সাফল্যে এখন সব জল ভাত হয়ে গেছে। উদ্বেগ শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ থেকে সরে গিয়ে মনের মধ‍্যে বাঁসা বেঁধেছে। এখন যা বিচলিত হওয়া বা উদ্বিগ্ন হওয়া সবটাই মনের মধ‍্যে হয় যা মাথাকে ভেতর থেকে অস্থির করে তোলে। হঠাৎ একটা দুষ্টু বুদ্ধি মাথায় এল। কেন না ওর সঙ্গে একটু মজা করা যাক!

আমি ওকে আর বললাম না যে এতটা মনের মধ‍্যে উদ্বেগ নিয়ে গাছেদের কথা শোনা যাবে না। নিজের মস্তিষ্ক কে শান্ত করে, মনের ফ্রিকোয়েন্সিকে গাছের বলা শব্দের ফ্রিকোয়েন্সির সমানে আনতে পারা তো সম্ভব না কিন্তু আমার শ্রবন যন্ত্রের থেকে নির্গত ম‍্যাগনিফাই করা কম্পাঙ্কের সমানে তো আসতেই হবে। তবেই সেই শব্দ তার শ্রুতি গোচর হবে।

ওর কথা মত যন্ত্র লাগিয়ে দিলাম গাছে। আর সুইচ অন করে দিলাম।

ও তো কিছুই শুনতে পাচ্ছে না। দু এক বার এ কানে ও কানে চাপড় মেরে নিলো। মাইক্রো ফোন টিকে কান থেকে খুলে হাতে করে নিয়ে দু বার ঝাঁ কিয়ে নিয়ে আবার কানে পরে নিলো। মনে করেছিল ঐ শ্রবন যন্ত্রে হয়তো গোলযোগ দেখা দিয়েছে। যখন তাতেও কিছু হল না তো আমাকে কেবল গাল মন্দ করতে লাগল। বলছে বেকার জিনিস বানিয়েছ। কোন কাজের নয়। কিচ্ছু শোনা যাচ্ছে না এতে। এমন কত কী বলতে থাকছে।

আমি ইশারায় বললাম নিজে ঠাণ্ডা হবার জন‍্য। সে হওয়া কি মুখের কথা? আমিতো নিজেকে সেই সমানে প্রস্তুত করে নিয়ে ছি। আমার পূর্ব অভিজ্ঞতার কারণে। শরীর টাকে আরো কিছুটা শান্ত করে নিলাম। এবার আমার হাতটা ওর গায়ে ছুঁয়ে দিলাম। ওর উদ্বিগ্ন শরীর নিমেষেই শান্ত হয়ে পড়ল। অতি সহজে সেটি হয়ে পড়ল। পদার্থ বিজ্ঞানের তাপের সাম‍্যতার নীতিতে।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।