মার্গে অনন্য সম্মান খুশী সরকার (সর্বোত্তম)

অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার
সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতা পর্ব – ৯০
বিষয় – বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম
বিরল প্রতিভাধর বিদ্রোহী কবি
জনচিত্তজয়ী উচ্চ কবিত্বভরা বিরল প্রতিভাধর
আপন স্বাতন্ত্র্যে উজ্জ্বল কবি কাজী নজরুল ইসলাম,
বিশ্বকবির সর্বগ্রাসী প্রতিভা-অগ্নিতেও দীপ্তিময়
সর্বোচ্চ শিখর চুড়ায় স্বর্ণাক্ষরে খোদিত তোমার নাম।
যৌবনের জয়ধ্বজা উড়িয়েছো উত্তাল যৌবন তরঙ্গে
সাহিত্যে আবির্ভাব তোমার ধূমকেতুর মতো,
রক্তের বিদ্রোহী সুর বাজিয়েছো অগ্নিবীণায়
আত্মবিস্মৃত জাতির ঘুমভাঙা চোখ দেখে হতচকিত।
‘নবযুগ’,’ধূমকেতু’ পত্রিকায় ছড়িয়ে বিদ্রোহের বাণী
প্রচার করেছো নিপীড়িত মানুষের বিশ্ববিপ্লবের কথা,
ইংরেজ সরকারের শোষণ অত্যাচারে বিক্ষুব্ধ হৃদয়
মানুষের দুঃখে পেয়েছো অন্তরে দারুণ কষ্ট ব্যথা।
জাতীয় চাহিদা পূরণ অসহযোগ আন্দোলন ক্ষণে
বিশ্বস্ত রূপায়ণ তার কেবল তোমার কাব্য-কবিতায়,
সমাজ রাজনীতির জগৎ পেয়েছিল মুক্তির আদর্শ,
মানুষ উদ্দীপ্ত প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়েছিল মুক্তিসাধনায়।
তোমার বিদ্রোহী সত্ত্বা সঞ্জীবিত করেছে জাতিকে,
অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে পেয়েছে প্রেরণা,
উৎপীড়িত জনগণকে জাগাতে ধরেছো রুদ্রমূর্তি
সাম্যবাদী গানে জাগিয়েছো বিদ্রোহী চেতনা।
ধর্মের নামে যারা লাগায় জাতিতে জাতিতে দাঙ্গা,
লুটতে চায় সামাজিক রাজনৈতিক ফায়দা,
সেই ধর্মকেই শক্তি আর দুঃখ দুর্দশার কারণ বলে
তাদের মুখোশ খুলতে নিয়েছো জেহাদের কায়দা।
সাম্প্রদায়িক হানাহানি জাতিভেদের বীভৎসতায়
সাহিত্যকে করেছো সামাজিক চেতনার হাতিয়ার,
বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য সন্ধানে লড়েছো সারাজীবন
জাতি দাঙ্গা হানাহানি বন্ধে গর্জে উঠেছো বারবার।
তাই তো কাব্যে হিন্দু-মুসলমান মিলনের বাণী
মিলন বিরুদ্ধকামীদের বিরুদ্ধে হয়েছো সোচ্চার,
দারিদ্র্য নিত্যসঙ্গী হয়েও লড়েছো ভণ্ডামির বিরুদ্ধে
জাত,ধর্ম, রাজনীতির শোষণে তুমি বিপ্লবী দুর্বার।
শোষণহীন সমাজ গড়তে বিশ্ববিপ্লবে চেয়েছো
বিপ্লবের বিষাণ শিঙ্গা,অসুর-সংহারী ত্রিশূল,
মানবাত্মার বেদনায় পরাধীনতার জ্বালায় বিক্ষুব্ধ
তুমি অসাম্প্রদায়িক প্রেমিক কবি বিদ্রোহী নজরুল।
দেশমাতৃকার সেবায় সহ্য করেছো অসহ্য যন্ত্রণা
স্পর্শকাতর কবিমনে অভিন্ন ছিল কবিতা ও জীবন,
দেশবাসীকে ভালোবেসে জনগণের দুঃখে বিদ্রোহী
কালভৈরবের প্রলয়-তূর্যে করেছো রুদ্ররোষে গর্জন।