গারো পাহাড়ের গদ্যে যেড ইউ আহমেদ
by
·
Published
· Updated
কালচে পিতল – ক্যানভাস
হারিয়ে যাচ্ছে, জীবনবোধের নিগূঢ় সত্যবচন গুলো, আত্মোপলব্ধির আলোকে প্রস্ফুটিত ভাবনারা পলাতক,
অথবা অবাক কিংবা নির্বাক স্থুল অভিধানের পাতায়। ন্যায় অন্যায় নিরূপনের পাল্লা আজ অপসৃত, মানব দেহের যাদুঘরেও বুঝি বিস্মৃত। অজানা প্রতিযোগিতায় সমবেত অধিকাংশের দল প্রাক্তন অর্জনগুলোকে অপ্রয়োজনের ডাস্টবিনে ফেলে তুচ্ছ ধুলি জ্ঞান করে নির্দ্বিধায় লাগামহীন ঘোড়দৌড়ে তটস্থ, অথচ রক্তাক্ত হচ্ছে নিয়তই, খোঁড়া হচ্ছে সকল উদ্ভাবিত ক্ষণস্থায়ী সমীকরণ, যুক্তি তর্কগুলো আজ যেন সস্তা দরের নাটক উপন্যাসের সুড়সুড়ি সংলাপ বিশেষ, থিয়েটারের মেঝেতে পদদলিত বাদামখোসা… ঘড়ির কাঁটায়
লগরিদম অংকের সূত্রে যোগ বিয়োগের অসম ব্যবচ্ছেদ, সুদকষা আর লাভক্ষতির গণিত শাস্ত্রে ‘প্রিয়জন’ শব্দটার কোত্থাও প্রয়োগ নেই, জীবনের রসায়নাগারে কেবলই বুঁদ বুঁদ বিক্রিয়া, নীল ধোঁয়ার আস্তরণে সর্বত্র মিথেন গ্যাসের আধিক্য, ওখানে এখন নিঃশ্বাস নেওয়া বড়ই দুস্কর, অতন্দ্র প্রহরীর মতো ঐ হিংস্র হাইড্রোজেন সুতীক্ষ্ণ দৃষ্টি ন্যায্যের পরিধেয় বস্ত্র ছারখার করে দেওয়ার অভিপ্রায়ে বদ্ধ পরিকর। জীবনের দ্রুত ঘূর্ণায়মান ট্রাপিজমে আলো আর আঁধারের বৈষয়িক বিচ্ছুরণ ঐ দ্রুততর পরিবর্তনে মাদক নেশার টেবিলে বৃদ্ধ অথবা যুবার তেমন ভ্রুক্ষেপ নেই, পট-পরিবর্তনের সংজ্ঞায় একদল লোভতুর পিশাচের ঘৃণ্য অভিসন্ধির কুটিল সূত্র, যথাযথ প্রকাশিত হচ্ছে প্রত্যহ হলদে রাঙা পত্রিকায়, কর্মহীন নয়তো নিষ্কর্মারদল হুমড়ি খেয়ে পড়ে চাটুকতার বৈভব চাকচিক্যের নতুন কালির সোঁদাগন্ধে আর গুটি-কতক অর্থবের দল,
অক্ষমতা আর অসহায়ত্বের পিত্তি উঠা ঢেঁকুর তোলে, মুষ্টিমেয় কতক মদের ভাটিতে বসে বিভাজিত ভূখন্ড যোনীর দুর্গন্ধে অট্টহাসি হাসে। এখন কোথাও চিহ্নিত পতিতালয় নেই, অপরিণত নিহত ভ্রুণের অভিযোগ নর্দমা আর নালা বেয়ে সাগর জলে মিশছে, নীল থেকে ঘন নীল অসীম নীলের ব্যাপ্ত পরিসরে মৃত্তিকা আর আকাশ কষ্টের বিশালতায় আকণ্ঠ নিমজ্জিত, শুভ্র ফেনিল আর ধবল মেঘের বিন্দু অস্তিত্ব এখন কল্পনাতীত। সময়ের জারজ কীটদের অবক্ষয়ক্লিষ্ট দৌরাত্ম্য, আর দুরাচার কাপালিক উন্মুক্ত খাঁড়া হাতে
ব্রতীর বত্রিশ পাটি রক্তাক্ত দন্তে শাসনের বীভৎস উন্মাদনায় উদোম নৃত্য করছে… বৈরী উত্তাপে ঝলসানো নৈতিকতার পতাকা ন্যুব্জ, যেন বিধবার মলিন আঁচল হয়ে শুকনো চরের হু-হু হাহাকারের শুনশান প্রাচীন উপাখ্যান, জীবন চরাচরের ব্যারোমিটারে পারদের বিশৃঙ্খল উঠানামা, বিপত্তিকর এক ভয়াল বাস্তবতার কারাগারে বিষ্ফোরণের অশনি সংকেত এ ভাবলেশহীন সকলেই, কেবলই বাকবন্দী দৃষ্টিতে উর্ধ্বমুখী নিষ্ফল আকাঙ্ক্ষায় দৈব-প্রহর গোণে, দুঃসহ মানবেতর আর্তনাদ শিকলাবদ্ধ হয়ে সদা-সম্প্রসারিত হচ্ছে –
ঘূর্ণায়মান ঐ ভস্ম নীহারিকার জ্বলন্ত মহাজাগতিক পথে – পরিত্যক্ত ভাঙাচাকার কাঠের রথে…. ঘাতে আঘাতে অশ্রুসজল অপারগ প্রবীণের মরচেধরা কণ্ঠে মচ্ মচ্ তামাদী শব্দ বৃথায় ঝরছে ব্যথাতুর শপথে..