প্রিয় ধৃতিমান,
সেদিন ট্রেনে আচমকা তোমার গলায় আমার নামটা শুনে আমি চমকে উঠেছিলাম। এদিক ওদিক চাইতেই তুমি কাঁধে হাতটা দিয়ে বললে এই দিকে আমি তোমার ঠিক পেছনেই দাঁড়িয়ে। কত বছর পরে তোমার সেই আদুরে গলায় নামটা শুনলাম। একনাগাড়ে কত প্রশ্ন করে গেলে। আমি শুধু তোমাকে দেখছিলাম। জানতে চাইলে কেমন আছি কিভাবে কাটছে সংসার যাপন। বলেছিলাম ভালো আছি। তুমি বলেছিলে, “আমি জানি তুমি এতটুকুও ভালো নেই। ”
সংসার যাপন যেমন কাটার তেমনই কাটছে ওই টক ঝাল মিষ্টির সমন্বয়ে। শুনে শুধু হেসে ছিলে।
আচ্ছা ধৃতি,তোমার সাথে আমার বোঝাপড়া সংঘর্ষ যাই ছিলো তারমধ্যেও কিন্তু ছিল এক সুখময় প্রেম এটা তুমিও মানো। আজ তোমার এত নাম, এত যশ অথচ তখন তোমার এগুলো কিছুই ছিলো না ছিলো শুধু এক নির্ভেজাল ভালবাসা। আমি তো কখনো এতকিছু চাইনি তোমার কাছে। চেয়েছিলাম একটু স্বীকৃতি। সেটা কি তুমি দিতে পারতে না??? তোমার আদরিনী শতরূপা তোমাকে তো তার প্রাণের চেয়েও অনেক অনেক বেশি ভালোবাসে। তুমি তো সবটা উপলব্ধি করেছিলে!! তাহলে কেন সেদিন ফিরিয়ে দিলে আমায়??
তুমিই তো একদিন বলেছিলে, গরদ পরে পুরোনো সিঁথি ভেঙে চিবুক পর্যন্ত সিঁদুর ঢালতে। এমনভাবে কাজল পরতে যেন ওরা মোমের মতন গলে গলে তোমার বহ্নি শিখায় আগুন জ্বালে। আমি তো তোমার কাছে দিনের শেষে পলাশরাঙা বালিকাবধূ ছিলাম। তাহলে কেন সেদিন ফিরিয়ে দিলে আমায় বলতে পারো!!
আজ আমি সর্বহারা। সব আছে তবু যেন কিছুই নেই। আজ আমার কোনো অভিমান হাসি সুখ আনন্দ কিচ্ছু নেই, কিচ্ছু না। আছে শুধু দুঃখ। এই দুঃখই এখন আমার সাথী।
জানো ধৃতি, তোমার ভালবাসায় আদরে যে সুখ যে আনন্দ পেয়েছি তারচেয়ে অনেক বেশি আনন্দ সুখ পাচ্ছি যার সাথে সাত পাক ঘুরে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছি। প্রতিটা রাত আমি তার কাছে হচ্ছি নির্যাতিতা। আমি তার কাছে শুধু রাতের শুকপাখি।
আজ আমি বড় ক্লান্ত। মেনে নিতে আর মানিয়ে নিতে নিতে আজ হাঁপিয়ে উঠেছি। তাই ঠিক করেছি এমন কোথাও যাবো যেখানে বাঁচার জন্য একটু অক্সিজেন পাবো। ভাগ্যিস সেদিন তোমার সাথে দেখা হয়েছিল। নাহলে আমি আমার কথা রাখতে পারতাম না।
মনে আছে তোমার ধৃতি, তুমি যখন ফিরিয়ে দিয়েছিলে, তোমাকে বলেছিলাম কখনো যদি কোথাও যাই তোমাকে আমি জানিয়েই যাবো।
আর হয়তো তোমার সাথে কোনোদিনই দেখা হবে না। আজও আমি নীলচে রোদের কালিতে অহরহ তোমার নাম লিখে যাই। যদি পারো ভুলে যেও শতরূপাকে। আর এই চিঠিটাও ফেলে দিও রাস্তার ধারে আবর্জনায়। মনে কোরো কোনো রসিদ এটা!!