সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে ইন্দ্রাণী ঘোষ (পর্ব – ২১)
আরশী কথা
আজ মিটিং ছিল ‘টিবেটিয়ান স্কুল এন্থ্রপোলোজীর’ সাথে. তাঁরাই কিছু ডুপ্লিকেট স্ক্রোল বাজারে আনছে. আসল স্ক্রোলগুলি অবশ্য সংরক্ষিত থাকবে মিউসিয়ামে. তাদের রক্ষা করে লামাদের মন্ত্রের শক্তি. কিছু ডুপ্লিকেট স্ক্রোল বিক্রী হবে গবেষনার স্বার্থে. চাইনীজ স্ক্রোল, পশ্চিমী পেইন্টিং এর চেয়ে একেবারেই আলাদা. পশ্চিমী পেইন্টিং দেওয়াল সজ্জার জন্য রাখা হয়. আর চাইনীজ স্ক্রোল সিল্কের কাপড়ের উপর বা কাগজের উপর যা আঁকা হয়েছে, সবই দেখে, রেখে দেবার জন্য, টাঙিয়ে রাখার জন্য নয়. প্রদর্শনে অনীহা যে কেন কে জানে. স্ক্রোলের ছবিগুলো বা গল্পগুলো অবরে সবরে আলমারী থেকে নামিয়ে দেখার জন্য. এ ছাড়া কিছু ‘ফেং সুই’ প্রোডাক্ট ছাড়া হবে বাজারে. সেসবের বিজ্ঞাপন হবে.
মিটিং সেরে সোজা বাড়ী ফেরে ঝোরা. আজ মেঘ রয়েছে আকাশে. শীতের শেষ, বসন্তের শুরু. একটা শিরশিরে ভাব আছে হাওয়াতে. এক কাপ চা নিয়ে ছাদে উঠে যায় ঝোরা. সূর্য পাটে বসছে. বাড়ী ফেরার তাড়া পাখীদের. আকাশ রঙের খেলায় মত্ত. আমের মঞ্জরী ধরতে শুরু করেছে. বাতাস গন্ধে আকুল, সঙ্গে লেবু ফুলের সুবাস. সৌরভে মাতোয়ারা প্রকৃতি. প্রাণ ভরে স্বাস নেয় ঝোরা. কাল থেকে ইতিহাসের খোঁজে চীনে পাড়ায় খানিক হাটাহাটি করতে হবে. স্ক্রোলের উপর ডকুমেন্টরী হবে আর কিছু ‘ফেং সুই’ প্রোডাক্টের বিজ্ঞাপনের ছবি. কাজটা মনে ধরেছে ঝোরার. বেশ গল্পের নাগাল পাওয়া যাবে মনে হচ্ছে. আজ এন্থ্রপোলোজীর লোকজনদের মধ্যে এক তরুন কর্মীকে বেশ লেগেছে ঝোরার. এই আকাশলীনার বয়েসী হবে. চাইনীজ স্ক্রোল নিয়ে বেশ পড়াশোনা করেছে ছেলেটি. কেমন যেন আনমনা ভাব ছেলেটির. আবার যখন স্ক্রোলের গল্প নিয়ে কথা বলে তখন কিন্তু বেশ সপ্রতিভ. ছেলেটির নাম অপূর্ব. অপূর্ব ভট্টাচার্য. বেশ ইন্টারেস্টিং ছেলে. স্কুল অফ এন্থ্রোপলজিতে গবেষনা করে. ডকুমেন্টরী বানানোর বিষয়ে ঝোরাদের সাহায্য করবে.