কবিতায় পদ্মা-যমুনা তে গোলাম কবির (গুচ্ছ কবিতা)

পাগলা ঘণ্টি
বুকের মধ্যে পাগলা ঘণ্টি বাজে,
মধ্যদুপুরে কে জানি চিলের মতো
ছোঁ মেরে উড়িয়ে নিয়ে যায়
বিষণ্ণ প্রহরের সাতকাহন।
তবুও পাগলা ঘণ্টি বাজতে থাকে নিরন্তর,
কবিতার পাণ্ডুলিপি পুড়ে যায়
হৃদয়ের প্রখর দারুণ অতিদীর্ঘ দহনে।
পাগলা ঘণ্টি বাজিয়ে দিয়ে কে জানি
উড়ে যায় হৃদয় শূন্য করে দিয়ে!
আমি খুঁজে ফিরি বৃথাই শুধু তারে,
পাগলা ঘণ্টি বাজিয়ে দিয়ে
যে উড়ে যায় হৃদয় শূন্য করে!
বসে আছি তবুও ধৈর্যশীল কানি বকের
মতো একাএকা তারই অপেক্ষায়!
পাবো কী কখনো আমি তারে আবার?
হৃদয়ে যে পাগলা ঘণ্টি বাজিয়ে দিয়ে
উড়ে চলে যায় সুদূরে!
মাতাল
সারাদিন মেঘলা আকাশে ডানা মেলে
একলা ঘুরে বেড়ানো চিলের মতো
ঘুরতে ঘুরতে খুঁজে ফিরি তোমার
লাজুক চোখের মতো সুন্দরতম
কিছু আর আছে কিনা!
নেই, কোথাও তো নেই!
সেই চোখের আগুনে পোড়া ভষ্মের
স্মৃতিচিহ্ন দু’চোখে মেখে আবার আমি
বেরিয়ে পড়ি পৃথিবীর পথে পথে।
ভালোবাসা আগরের সৌরভ ছড়িয়ে
করেছে মাতাল এই আমাকেই!
পাঁড় মাতাল যেমন শূন্য পেয়ালায়
বারবার চুমুকে চুমুকে পেতে চায়
মদিরতার আকণ্ঠ স্বাদ ঘুমে ঢুলুঢুলু চোখে
প্রায় জ্ঞানহারা হবার মূহুর্তেও,
আমিও তেমনি তোমার ভালোবাসায়
মাতাল হয়ে ভুলে যাই
এই পৃথিবীর সব কিছুই!
এই জগত সংসারের সবকিছু
তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিতে চাই,
এমনকি ভুলতে চাই আমাকেও!