সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে গৌর হরি মান্না (ভ্রমণ কাহিনী)
by
·
Published
· Updated
সাতকোশিয়ার সাতকাহন (দ্বিতীয় পর্ব)
সাতকোশিয়ার অন্দরে থাকার অনেক গুলো পকেট আছে, আমরা ছিলাম মহানদীর গায়ে সাতকোশিয়া স্যান্ড রিসর্টে। ওড়িশার অঙ্গুল জেলায় প্রায় ৯৮৯ বর্গ কিলোমিটার ব্যপ্ত সাতকোশিয়া টাইগার রিজার্ভ জীব বৈচিত্রের জন্য প্রসিদ্ধ। এখানে হাতি, বাঘ,লেপার্ড, বাইসন, হায়না হরিণ,বাঁদর, খরগোশ, প্যাঙ্গোলীন ও বিভিন্ন রকম পাখির বাস। দুপুরে পৌঁছে খাওয়া দাওয়ার পড় আর তর সই ছিলোনা, কতক্ষণে যাবো ওই অনন্ত যৌবনা মহানদীর কাছে। নদীর চরে গিয়ে দু একটা যায়গায় সাদা রঙ করা পোস্টে বন্যার সূচক দেখে চমকে উঠলাম। মনে মনে ভাবলাম এই শান্ত শিষ্ট নদীই বর্ষায় হয়ে ওঠে এক দস্যি মেয়ে। এই ভরা শীতে অবশ্য নদীর চরও বিস্তৃত। তার চারিদিকে সবুজ বনানী যেন অপরূপ শোভায় বিরাজমান। আর সঙ্গে অসংখ্য পাখির কলতান আপনাকে মুগ্ধ করবেই। আস্তে আস্তে বিকাল হয়ে এলো নদীর চরে। মাথার ওপর দিয়ে বেশ কয়েকটা হর্নবিল এদিক থেকে ওদিকে উড়ে গেলো। ভালো করে লক্ষ্য করলাম ওদের গতিবিধি। পেছনে তাকিয়ে দেখি বেশ কিছু বড়ো বড়ো গাছে এক ধরনের কমলা রঙের ফলে ছেয়ে আছে,আর ওই ফল খেতেই ওদের উড়ে আসা। যেমন ওদের রঙের বাহার তেমনি ডাক মন ভরে যাওয়ার মতো। ক্রমশ আলো কমে আশায় পাহাড় তার গায়ে হাল্কা হলুদ রঙের চাদর জড়িয়ে নিলো। মহানদী অস্ত রাগের আভায় রাঙিয়ে উঠলো। অন্ধকার নেমে আসছে দেখে কটেজের দিকে হাঁটা শুরু করলাম। হঠাৎ চোখে পড়লো পূর্ণ শশী তার রূপের ছটা নিয়ে পাহাড়ের মাথায় চালচিত্র হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। আর এই চাঁদনি রাতে জ্যোৎস্নার আলোয় ভেসে যাচ্ছে মায়াবী অরণ্য।