মার্গে অনন্য সম্মান চিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায় (সেরা)

অনন্য সৃষ্টি সাহিত্য পরিবার
সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতা পর্ব – ১৩৪
বিষয় – ঝড়ের রাতে তোমার অভিসার
একেলা রাতে
এক তো ঝড়ে রাস্তার বেহাল অবস্থা তার উপরে মুষলধারে বৃষ্টি,আর পারা যায় না। বাড়িতে একটা আনাজ নেই,কাজ বন্ধ থাকায় ঘরে একটা ফুটিকড়ি ও নেই।কি করে সংসার চালাবে সদা সর্বদা এই কথায় গ্ৰাস করে প্রতিমা দেবিকে। এবার বাবুবাড়ী না গেলেই নয়।তাই গজ গজ করতে করতে তিনি বেরিয়ে গেলেন পূজাকে দরজা বন্ধ করে দিতে বলে।
বিশ – তিরিশ মাটির কুটির নিয়ে একটা পল্লী বা গ্ৰাম।এই পল্লীর বাসিন্দারা সরল প্রকৃতির হয়,কারণ তাদের আচার -ব্যবহারের মধ্যে কোন কুটিলতা নেই।তারা প্রাণ খুলে সকলের সাথে মিশতে পারে।
পল্লীর অফুরন্ত সৌন্দর্য যেন মনকে শান্ত ও আনন্দে ভরিয়ে দেয়। কোথাও উন্মুক্ত প্রান্তর, কোথাও ধানের ক্ষেত, আবার কোথাও কুলকুল রবে নদী বয়ে যায়। মাঝি নদীর স্রোতে নৌকা ভাসিয়ে দিয়ে উদাসকন্ঠে ভাটিয়ালি গান ধরে, কোথাও কৃষকগণ গোরু-লাঙ্গল নিয়ে আঁকা বাঁকা সরু পথ ধরে হেঁটে যায়। রাত্রিতে ঝিঝিঁ পোকার শব্দ আর ব্যাঙের ঘ্যাঙর ঘ্যাঙ আওয়াজে পল্লী রাত্রি সরব হয়ে ওঠে। মাধবীলতার মিষ্টি সুবাস, আর তাল-খেজুরের সারি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে আবার কোথাও বনলতা- বেষ্টিত শ্যামল কুঞ্জ দেখা যায়। এই পরিবেশে বড় হয়ে ওঠেছে ছোট্ট আদরের পূজা।
মা বেরিয়ে গেলে পূজা দরজা বন্ধ করে দেয়। সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বেলে পূজা চা বানাতে যায়। এমন সময় দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ আসে।যায় বলে দরজা খুলতে এক বিদেশি বাবুকে দেখে পূজা হতভম্ব হয়ে যায়। কিন্তু পরক্ষণে আসুন বলে,দ্রুত পায়ে ভেতরে চলে যায়–
ভিজে যাওয়া বিদেশি বাবুকে
টাওয়েল ও জামা দিয়ে চেঞ্জ করতে বলে। পরে এক কাপ চা এনে দেয়। এবার এদিক -সেদিক গল্প করতে করতে কখন যে শারীরিক সম্পর্কে মিলিত হয়ে গেছে,তা খেয়ালই নেই। বৃষ্টি কমতে, বিদেশি বাবু প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলে যায়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে ক্ষনস্থায়ি প্রেমের কথা স্মরণ হলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে,আর একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে দূরে বাতায়ন পানে। বাইরে আবার ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামে, সাথে নামে চোখের জলের বৃষ্টি।এই বৃষ্টিতে একটা অঘটন ঘটিয়ে পূজা একেলায় থেকে যায়।একবুক আশা ও নিরাশায় বুক বেঁধে,চোখের জলে দূরের দিকে তাকিয়ে থাকে। একেলা একেলায় থেকে যায়।