Cafe কলামে ডঃ সঞ্চারী ভট্টাচার্য্য – ১

নিজের সম্বন্ধে আর কি বলি ! পেশায় একটি কলেজের অধ্যাপিকা , তবে পাশাপাশি সংগীত শিল্পী হিসেবেও কিছুটা পরিচিতি আছে। আছে বিভিন্ন ভাষার আর দেশের প্রতি আকর্ষণ , সেই টানেই বেশ কিছু বিদেশী ভাষা করায়ত্ত করার সৌভাগ্য হচ্ছে , হয়েছে দেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতাও - তবে সেটা নিছক কর্মসূত্রে । সম্প্রতি বিভিন্ন দেশের জাতীয় সংগীত নিয়ে কাজ করছি আর অনেক অজানা তথ্য যা আমিও জানছি , সেগুলোই লেখার মাধ্যমে সবার সাথে ভাগ করে নিচ্ছি ।

ফুরসত

পৃথিবীর এই আয়না ভূমিতেই আছে প্রথম লবণ প্রাসাদ
Eng Headline: First ‘salt palace’ is built on world’s largest natural mirror;
Meta Head:লবণ প্রাসাদ !
Meta Word: বলিভিয়া, লবণ সমভূমি ,আল্টিপ্লানো, ‘লেকমিনচি ‘,‘প্রাকৃতিক আয়না’, ‘প্যালাসিও -দি -সাল ‘,আইমারা জনগোষ্ঠী.

Description: বলিভিয়ায় অবস্থিত চমকপ্রদ এই প্রাকৃতিক অঞ্চল বিশ্বের সর্ববৃহৎ লবণ সমভূমি -‘সালার -দি-ইউনি’ ।এখানেই জল জমে এই‘ প্রাকৃতিক আয়নার’ সৃষ্টি হয়।এখানে আছে সবচেয়ে বড় বিস্ময় – লবণের প্রাসাদ।
ডঃ সঞ্চারী ভট্টাচার্য্য

পৃথিবীর এই আয়না ভূমিতেই আছে প্রথম লবণ প্রাসাদ

বিজ্ঞানের ছোঁয়ায় আধুনিক জীবন , সমাজ যতই প্রগতিশীল হোক না কেন এই বিশ্বে যে কত রকমের বিস্ময় আছে তা এক জীবনে প্রত্যক্ষ করা বেশ দুস্কর , তবে অসম্ভব নয় কারণ আজ হয় তো আমাদের হাতের মুঠোতে না হয় মানুষই সেখানে পৌঁছে যাচ্ছে তার অদম্য ইচ্ছা ,কৌতূহল ও নতুনকে জানার ইচ্ছের উপর ভর করে । প্রকৃতি নিজেকে ঠিক কেমনভাবে সাজাবে তার অবর্ণনীয় হদিশ পাবেন এই বলিভিয়ায় ,কী অভূতপূর্ব বিস্ময় অপেক্ষা করছে তা কল্পনাতীত।
বলিভিয়ায় অবস্থিত চমকপ্রদ এই প্রাকৃতিক অঞ্চল বিশ্বের সর্ববৃহৎ লবণ সমভূমি -‘সালার -দি-ইউনি’।বলিভিয়ার অন্তর্গত আল্টিপ্লানো মালভূমির একটি অংশ ‘সালার -দি-ইউনি ‘অতীতে সমুদ্রের নীচে ছিল। আন্দিজ পর্বতমালা গঠনের সময় এই অঞ্চলের ভূমি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কয়েক হাজার ফুট উপরে উঠে যায়। এরপর প্রায় ৩০ -৪০ হাজার বছর আগে এখানে তৈরি হয় ‘লেকমিনচি ‘ নামক এক হ্রদের। কয়েক হাজার বছরের বিবর্তনে সেই লেকের জল শুকিয়ে জমে থাকে লবণসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদান।

বর্তমানে ‘সালার – দি -ইউনি ‘সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১২০০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত ,আয়তন প্রায় ১০ হাজার ৫৮২ বর্গকিলোমিটার। বর্ষাকালে এখানেই জল জমে এই‘ প্রাকৃতিক আয়নার’ সৃষ্টি হয়। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে তৈরি হওয়া এই আয়নায় নীল আকাশের প্রতিবিম্ব তৈরি হয় ,যা অভুতপূর্ব। এই সৌন্দর্যের কারণে সারা বিশ্বের ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে এই স্থান অতি আকর্ষণীয়।
এখানে ঘুরতে চাইলে নিকটবর্তী শহর থেকে পর্যটকদের জন্য গাড়ি ভাড়া নিয়ে আসতে হয়। প্রতিদিন এমন ২০০ টি গাড়ি ভর্তি পর্যটক আসেন। এই ‘সালার – দি-ইউনি ‘র মাঝে বেশ কিছু ছোট ছোট দ্বীপ আছে ,এইসব দ্বীপ থেকে উপভোগ করা যায়এই আয়নাভূমি। দ্বীপগুলিতে আছে প্রায় কয়েকশো বছরের পুরোনো ক্যাকটাস। এখানকার সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত সারা বিশ্বের অপার্থিব সৌন্দর্যের অন্যতম।চমকপ্রদ এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য আছে বিশেষ ব্যবস্থা। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের জন্য আছে এখানে একাধিক হোটেল। কিন্তু সেগুলোর মধ্যেই সবচেয়ে ব্যতিক্রমী–‘প্যালাসিও-দি -সাল ‘- যার অর্থ লবণের প্রাসাদ।এটি আবার অন্যতম বিস্ময়। ২০০৭ সালে গড়ে ওঠাএই হোটেলটি আক্ষরিক অর্থেই’ লবণ প্রাসাদ ‘.কারণ হোটেলটির মেঝে ,দেওয়াল , ছাদ এমনকি টেবিল, খাট সহ সব আসবাব তৈরি হয়েছে -লবণের খন্ড দিয়ে। গোটা হোটেলটি নির্মাণে প্রায় ১৪ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের ১০ লক্ষ নুনের ইট ব্যবহৃত হয়েছে।

এটি শুধু পর্যটনকেন্দ্র নয় উন্মুক্ত খনিও বটে। স্থানীয় আইমারা জনগোষ্ঠী এখানকার লবণ সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করে। ধারণা করা হয় , এখানে ১১০০ কোটি টন লবণ আছে।এর প্রবেশপথে একটি রেলগাড়ির সমাধি আছে। অতীতে এসব ট্রেনের মাধ্যমে লবণ পরিবহণ করা হতো। স্থানীয় আদিবাসীদের প্রবল আপত্তিতে ট্রেনের সাহায্যে এখান থেকে লবণ সরবরাহ বন্ধ করা হয়। এর পাশাপাশি বিপুল পরিমাণে পাওয়া যায় ‘লিথিয়াম’ ধাতু। আমাদের স্মার্টফোন থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি তৈরিতে এটি ব্যবহৃত হয়। এখানে ৯০ লক্ষ টন লিথিয়াম মজুত আছে , যা সমগ্র পৃথিবীতে প্রাপ্ত লিথিয়ামের ৫০%.
মহাকাশথেকে ছবিতে এই সালার -দি-ইউনি যে ব্লকের মতো ছবি দেখা যায় তা লিথিয়ামের পুকুর। আল্টিপ্লানো মালভূমি পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহৎ মালভূমি। কিন্তু এই অভূতপূর্ব সৌন্দর্যের সাথে অনুভূতির মেলবন্ধন চাইলে যেতেই হবে এই সালার- দি- ইউনিতে। নিজেকে তো রোজ আয়নায় দেখেন, স্মার্টফোনের দৌলতে তোলেন সেলফিও। কিন্তু প্রকৃতিও যে বিশাল আয়না তৈরি করে প্রতি মুহূর্তের সেলফি তুলে চলছে সেই ঘটনার সাক্ষীই হতে আসতে পারেন এখানে, যা এখন আর দূর নয়।

Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!