গুচ্ছকবিতায় বিজন মণ্ডল

২০১০ সালে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছি । বর্তমানে কণ্ঠ শিল্পী হিসেবে নিয়োজিত । কবিতা লেখার পাশাপাশি ভৌতিক কাহিনী লেখা এবং পড়ায় বিশেষ আগ্রহী । প্রিয় সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ।

১। “প্রথম দেখা”

তোমাকে প্রথম যেদিন দেখেছিলাম
মনে হয়েছিল প্রথম নয় ,
কতো জন্ম ধরে তোমাকে চিনি ।
চোখের উপরে কালো ফ্রেমের চশমা,
গালে চাপ দাড়ি ;
লাল রঙের পাঞ্জাবিতে
তোমাকে বেশ মানিয়েছিল ।
ঠোঁটের নীচে মুচকি হাসিতে
সবাইকে মাতিয়ে রেখেছিলে ।
সেই হাসির মাঝে
কেমন যেন একটা মায়া লুকিয়ে ছিল ।
এক নিমিষেই তোমার প্রেমে পড়ে গেলাম ।
সে দিন একটি কথাও বলতে পারিনি তোমায়
আড়াল থেকে বিভোর হয়ে কেবল দেখেছিলাম ।
সে দিনের পর থেকে
প্রতিটি মুহূর্ত কেবল তোমাকে নিয়ে ভেবেছি,
প্রতিটি রাত তোমার মায়া জড়ানো হাসির স্বপ্ন দেখেছি,
হারিয়ে গেছি তোমার চোখের মাঝে,
একটু একটু করে ডুবে গেছি
তোমার প্রেমের অতল সাগরে ।
তোমাকে আর একটিবার দেখার জন্যে
উদ্ভ্রান্তের ন্যায় ছুটে বেড়িয়েছি ।
কখনো বকুলতলায় আবার কখনো ফেরিঘাটে
মরুভূমির তপ্ত বালুচরে ।
তোমার প্রেমের শীতলতা অনুভব করেছি
শ্রাবণের বৃষ্টি ভেজা সকালে ।
দীর্ঘ আড়াই বছর পর
আজ যখন তোমাকে দেখলাম,
তুমি আর আগের মতো নেই ।
আগের মতো তুমি আর হাসো না,
আগের মতো পরিপাটি হয়ে থাকো না,
নিজেকে আর সামলাতে পারলাম না ।
ছুটে গেলাম তোমার কাছে…
জানতে চাইলাম,
তুমি বললে, তুমি নাকি প্রেম হারিয়েছো !
কথাটা শুনে বড্ডো কষ্ট হলো,
তার চেয়েও বেশি রাগ হলো তোমার উপর ।
যার জন্য আমি রাত জাগি,
যাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখি,
সে কি-না রাত জাগে অন্যের জন্য
স্বপ্ন দেখে অন্যকে নিয়ে !
এক নিমিষেই আমার সব স্বপ্ন
ভেঙে চুরমার হয়ে গেল ।
তোমাকে বুঝতে না দেওয়ার জন্য
চোখের জল লুকিয়ে রেখেছিলাম ।
ঘরে ফিরে দরজা বন্ধ করে অঝোরে কেঁদেছি ।
আমার ঘরের প্রতিটি নির্জীব বস্তু জানে,
আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি ।
তোমার একটু স্পর্শ পেতে চাই,
তোমার বুকে মাথা রেখে সুখ পেতে চাই,
তোমার সাথে ঘর বাঁধতে চাই ।
পারলে আমাকে আপন করে দেখো,
ভরিয়ে দেব তোমার প্রেমের সব ক্ষত ।
তোমার চোখের স্বপ্ন হয়ে
জড়িয়ে থাকবো চিরকাল ।

২। “ইচ্ছে”

আমি আলো হতে চাই ,
ভোরের প্রথম আলো —
আমার স্নিগ্ধ ছোঁয়ায়
তুমি নামক সকালটা যেন সেজে ওঠে অপরূপ শোভায়
আকাশ-বাতাস মেতে ওঠে শিউলি ফুলের গন্ধে ।
আমি রোদ্দুর হতে চাই ,
শীতের কোমল রোদ্দুর —
আমার আদুরে স্পর্শে
তুমি নামক দুপুরটা যেন হেসে ওঠে প্রেম পাগলের ন্যায়
মৃদু ছন্দে বয়ে চলে যায় শীতল প্রেমের ধারা ।
আমি গোধূলি হতে চাই ,
লাল আভার গোধূলি —
আমার প্রেমের রঙে
তুমি নামক বিকেলটা যেন রাঙিয়ে ওঠে মেঘবালিকার ন্যায়
লাজুক মেঘবালিকা ঘোমটা টানে প্রেমের লাজে ।
আমি জ্যোৎস্না হতে চাই ,
মায়াবী এক জ্যোৎস্না —
আমার মায়াবী হাতের ছোঁয়ায়
তুমি নামক রাত্রিটা যেন শিহরিত হয়ে ওঠে উতলা প্রেমিকার ন্যায়
প্রেমের খেলায় মেতে ওঠে ঝিকিমিকি বালুকা রাশি ।

৩। “ক্ষুধা”

শহরের রাজপথের ধারে
বসে একলা রেলিঙে হেলান দিয়ে ।
কত শত গাড়ি চলে
নাম না জানা মডেলের রঙে ।
এরই মাঝে বৃষ্টির খুনসুটি
মাঝে মাঝে কুকুরের হাতাহাতি ।
ফুটপাতে খাওয়া পড়ে
ঘুরছে একটি শিশুও ।
জানেনা তার মা কোথায়
খোঁজ নেই বাবারও ।
ডাস্টবিনে ময়লা ফেলা
কখনো শহুরে কাকুর হাতের
দামি বাড়তি খাবার ।
কুকুরে মানুষে মারামারি করে
রক্ত ঝরে…..
Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!