কবিতায় পদ্মা-যমুনা তে বিচিত্র কুমার (গুচ্ছ কবিতা)

১| প্রেমিকা শূন্য পৃথিবী

প্রেমিকা শূন্য ধুসর পৃথিবী –
যেন স্বপ্নহীন একটা শূণ্যতাপুণ‍্য জীবন ;
যেখানে চাঁদের আলোকচিত্র নেই পূণিমার চাঁদ নেই :
আনন্দ নেই উল্লাস নেই শুধু আঁধারিতে কল্পনা
যেমন নায়িকাহীন একটা জীবন্ত সিনেমা।

পৃথিবী শুধু তাকিয়ে রয় ঠিক আমার মতো –
একটা আলোকরেখার দিকে ;
যে আলোকরেখা শুধু আমার পৃথিবীকে আলোকিত করবে,
বুকের সুগন্ধি বাতাসে মিশিয়ে দিয়ে- আকাশে বুকে;
তারার মতো আলোর প্রদীপ হয়ে মিটিমিটি জ্বলবে।

কিন্তু জলবায়ুর পরিবর্তনের মতো বদলে গেছে তারাদেরও গতিপথ
সবাই শুধু এখন চাঁদের পিছনেই ঘুরঘুর করে;
কেউ আর আকাশে দিকে ফিরেও তাকায় না ;
আকাশ সব সময় স্থির থাকে বলে-
তাইতো পাল্টে গেছে আকাশেরও জীবনচিত্র
কতো দিন ধরে তার বন্ধু বৃষ্টির দেখা নেই।
ঠিক যেন প্রেমিকা শূণ্য পৃথিবীর মতো।

২| প্রেমিক রূপী শরৎ

কাশ ফুটেছে নদীর ধরে অরণ্য আর বনে
কাশ ফুটেছে শরতের উড়ন্ত মনে ;
ফুলের সাথে হচ্ছে কথা অতি নির্জনে
কেউ যেন না শুনে।

তুমি খোঁপার বাঁধন আলগা করে
বসেছো খোলা জানালার পাশে ;
কল্পনাতে যাচ্ছো উড়ে শরতের আকাশে
সাদা সাদা তুলোর মতো মেঘবালিকার সাথে।
আমি যেন মনে মনে ডাকছি তোমাকে –
প্রেমিক শরতের বেশে।

তুমি কিছুতেই শুনতে চাচ্ছো না আমার মনের কথা
হঠাৎ হয়েছে বলে- আমাদের দেখা ;
কতো চিঠি পাঠাচ্ছি রঙিন খামে
তোমাকে জানাতে আমার ভালোবাসার কথা।

তুমি কথায় কথায় অকারণেই করছো শুধু
আমার উপর যেন মান;
জানিনা এই শরতের উতাল হাওয়াই –
কি ফুলের অঞ্জলিতে ভাঙ্গবে তোমার অভিমান?

৩| আমি ও কাশ কুমারী

আমি এক উদাসীন প্রেমিক –
দিন শেষে হারিয়ে যায় আমার উড়ন্ত গন্তব্য;
অচেনা এক কাশ কুমারী পাগল করা বীণার সুরে ডাকে
প্রেমের সঙ্গীতে ভরদুপুরে কাশবনের ছায়।

আমি পা বাড়ালাম হাত বাড়ালাম চিনা চিনা মনে
আমার জীবনের নিঃসঙ্গতা কাটাবে ভেবে তার পদধ্বনিতে;
এক মুহুর্তের মধ্যে হৃদয়জমিনে চঞ্চলতা উৎফুল্লতা
সুদূর থেকে দেখি- সে এক ধবধবে সাদা প্রজাপ্রতি।
ভ্রমণ কালো চুল তার টানা টানা দুচোখ
উড়ন্ত ডানায় কচিকাঁচা চাঁদরে মতো মুখ।

ফুলে ফুলে নেচে নেচে ওর পথ গিয়েছে বেঁকে
কে যেন তার রঙিন ডানায় স্বপ্ন দিয়েছে এঁকে ;
তাইতো সে সুরে সুরে ডাকছে তাকে
সেই কথাটাই বলেছিল বন্ধু এক কাকে।
যেইনা আমি ধরতে গেলাম কাছে হৃদয় খাঁচাই
সেইনা সে উড়াল দিলো ডেকে মাকে।

Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!