কবিতা সিরিজে ব্যাসদেব গোপ

১| বিচিত্র বিবেক

গণতন্ত্রের আখড়ায় খেলাটা বেশ জমে উঠেছে।
কেউ মরেও রাজ করছে,
কেউ কেউ বেঁচেও মরে গেছে।
বিশ্বাস অন্ধবিশ্বাসের মধ্যে পার্থক্যের বোঝাটা..
নড়ে ওঠে প্রশ্ন করে..
“আজ ধর্ম কি অধর্মের নামান্তর।”
বাস্তবের চোখে ধুলো ঝিঁটে,
অন্যায়ের চিতায় ন্যায়কে শুইয়ে দিয়ে,
জ্বালিয়ে দাও, পুড়িয়ে দাও,
শুনেছি কতোবার।
ভুলে গেছি। শুনেছি আবার।
লাল রক্ত সাদা হয়ে গেছে,
লাঞ্ছনার বঞ্চনার শিকার হতে হতে।
অসহায়দের জীবন ধুলোবালির সমান
এমনই মানসিকতার উন্মেষ ঘটেছে
শক্তিধরের শিরে।
বিকলাঙ্গ আজ বিশ্বাস, প্রেম, শান্তি,
আশা ও ভরসা,
ভিখারীর বেশে দ্বারে দ্বারে ঘুরে ফেরে
মানবতার তরে।

২| মনুষ্যত্ব

দেখি তো তোমায় রোজই দেখি
দিবালোকে- নিশান্ধকারে,
লুটিয়ে পড়ো মাটিতে আর গড়াগড়ি দিয়ে দিয়ে–
চলে গেছো বহুদূরে সীমা পরিসীমা ছাড়িয়ে।
জনসমুদ্রের ভিড়ে, গাঁয়ে কিম্বা শহরে,
দোকানে- বাজারে, রাস্তায় গলির মোড়ে,
অচেনা-অজানা ট্রেনে বাসে
তুমি আহত হত বার বার অনির্বার অনায়াসে।
তবু তোমার নিত্যদিন প্রয়াশ আশ
বেঁচে থাকার লড়াই
চাক্ষুষ দেখি বরেণ্য সুজন জনারণ্যে।
তুমি ধন্য।
বঞ্চিত-লাঞ্ছিত হয়েও সমাজে।
লড়ো, বেঁচে থাকো, বরেণ্য সুজন জন
সদাই তোমার পাশে, তোমার সাথে।

৩| সবুজাভিলাষ

সূর্য রশ্মির চন্দ্র রশ্মির বানায়ে রেশম জাল,
সবুজ রাশির ইচ্ছে বেঁধে থাকবে চিরকাল।
ভূমাটিরে ভেদ করিয়ে চড়বে উর্দ্ধাকাশে,
শক্ত কোমরে গামছা বেঁধে বসবে মাটির দেশে।
মলয় পবন তাহার সাথে করলে শত খেলা,
প্রতিদানে পরাবে তাকে সুগন্ধের মালা।
বৃষ্টি এসে সৃষ্টি তাহার বাঁচিয়ে রাখলে ভবে,
গঙ্গাধারা নাম দিবে তার বাঁচবে সে গৌরবে।
মিষ্টি ভাষার পাখিগুলো বসলে তাহার ডালে,
গাইলে গান করিবে দান বসন্ত তার ভালে।
মাটির দেশের মানুষগুলো শিখলে ভালোবাসতে,
ফুল ফল ছায়া দিবে বায়ু দিবে বাঁচতে।।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

1 Response

  1. ব্যাসদেব গোপ says:

    এই কবিতাগুলির আমার রচিত |

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।