T3 ।। কবিতা পার্বণ ।। বিশেষ সংখ্যায় বাসুদেব দাস

১| যাদু
চন্দন গোস্বামী
মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ – বাসুদেব দাস
একদিন যাদুকরের যাদুতে
গলতে শুরু করে শিলটা
একভাগ শিল জল
একভাগ শিল মাটি
যার কথায় কোনো এক সুড়ঙ্গ ভেদ করে নেমে আসে রক্তের নদী
সাগরের ঢেউ ধুয়ে দেয় উঠোন
অন্য এক ফেরা যাত্রায়
আগুনে গড়া ঢোলের শব্দে উড়ে যায় গানের পাখি
মাছ পাখনা ঝাঁকালেই
একটা মালার মধ্যে চাঁদ
পাতালের রূপকথা
পলাশ সাগরে তারার ঝিলমিল
ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দে লুকিয়ে থাকে রোদ
মাঠে বীজের স্তুতি
যাদুকরের কথায়
বিশ্বাসের জন্যই যুদ্ধে নিমজ্জিত জীবের জীবন
হিংসার জন্য হিংসা
অহিংসার জন্য অহিংসা
যাদুর পথে নানা পথ
মহাপথের প্রান্তে অসত্যের আবরণ ঢেকে রাখে সত্য
তাই
প্রতিটি শব্দই কবিতা
কোনো স্রষ্টা প্রথম সারির কবিতার
কোনো স্রষ্টা হবে শেষ সারি কবিতার
হে যাদুকর
২| যুদ্ধভূমি থেকে
সমীর শংকর দত্ত
মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ – বাসুদেব দাস
(এক)
কেন এই শব্দ,স্পর্শ না করে যদি তোমার হৃদয়
কেন এই যুদ্ধ,হারায় যদি সূর্যোদয়?
‘শেফালি নেৱালি পলাশ-পারলি
পারিজাত যুতি জাই’ ১
টুকরো টুকরো শরীর,জমাট বাঁধা রক্ত শুকনো কোটর
ট্যাঙ্ক,মিসাইল,যুদ্ধ বিমান,বোমা/ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন,
ছাই পুতে ফেলা শহর,
ভাঙ্গা সেতু,বাতাসে সিমেন্টের গুঁড়ো,বন্দুকের বাঁকা হয়ে যাওয়া নল
ক্ষুধা
ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া সতীর্থের মাংসগুলি কুড়িয়ে কুড়িয়ে পলিথিনে
ভরানোতে রোমাঞ্চ থাকে না,থ্রিল থাকে না,
টিভির পর্দার দেশভক্তি থাকে না
তবু,আমাদের লড়াই করতে ইচ্ছা করে।আমরা লড়াই করি।
লড়াই না করে মরার মতো আমরা কীটপতঙ্গ নই।
তোমাকে মনে পড়ে।তুমি বোঝ না।দূরের পাহাড়ে গোধূলি,
পলাশের একটি চারা লাগাও।
এখন এখানে ধোঁয়া আর ধোঁয়া।
ভালোবাসার কিছু শব্দ আমার বুক ভেদ করে বেরিয়ে আসে
কেন এই শব্দ,স্পর্শ না করে যদি তোমার হৃদয়?
(দুই)
একমাঠ সরষের হলদেতে তোমরা ভালবাসতে থাক
হে আমার মিত্রের সন্তান
এক মাঠ গমের সোনালিতে তোমরাও ভালবাসতে থাক
হে মোর শ্ত্রুর সন্তান
শস্যের ক্ষতি করতে আসা টিয়া পাখির ঝাঁকটাকে আমরা তাড়িয়ে দেব
ভয় কর না,যুদ্ধ কালো করা আমাদের মুখগুলির আড়ালে
তোমরাই এখনও আলোকিত করে রেখেছ সেই শব্দ,
একদিন যা হৃদয় স্পর্শ করবেই।
টীকা-সবগুলিই ফুলের নাম।পংক্তি দুটি মহাপুরুষ শংকরদেব রচিত ‘কীর্ত্তন’এর অন্তর্গত ‘হরমোহন’ নামক অধ্যায় থেকে নেওয়া হয়েছে।
৩| একটি দুঃখের গান
প্রণব শর্মা
মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ – বাসুদেব দাস
তুই চলে যাবার পরে
খালি হয়ে গেল হৃদয়ের একটি কোঠা
শূন্য বারান্দায় নিঃসঙ্গ হল দৃষ্টি
তুই চলে যাবার পরে নেই
রাগ বেহাগ ইমন বিলাবল
রবি ঠাকুরের ফিরে আসার গান
তুই চলে যাবার পরে
বাড়ি ফেরা পথে দুব্বো ঘাস জন্মাল
জ্যোৎস্নাও বুক চাপড়ে কাঁদল
তুই কেন বর্ষায় এভাবে এসে
আমাকে ভিজিয়ে রেখে যাস।
কেন প্রতিবারই শুনিয়ে রেখে যাস
একটি দুঃখের গান।
৪| তৃষ্ণা
নীলাক্ষি চলিহা গগৈ
মূল অসমিয়া থেকে বাংলা অনুবাদ-বাসুদেব দাস
কে খুঁড়েছিল
গ্রামের কুয়োটা?
কে পুঁতে ফেলেছিল?
তৃষ্ণা পেয়ে পেয়ে
কুয়াটা শুকিয়েছিল
নিশ্বাস নিতে না পেরে
চোখ বুজেছিল।