Cafe কলামে – আত্মজ উপাধ্যায় (পর্ব – ৩)

পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর নাম যোগ্যতাঃ চার্লস ডারউইন ১৮৫৯

“নরনারীর যোগ্যতা”। আমার এই বিষয়টা বেছে নেওয়ার কারণ হল, যোগ্যতাই মানুষকে সম্পূর্ণ করে।যোগ্যতা না থাকলে কোন প্রাণি এই পৃথিবীতে বাঁচতে পারেনা। যোগ্যতমের বেঁচে থাকা- এ ডারউইনীয় বিবর্তন তত্ত্বের ধারণার হিসাব–জীবের অবিচ্ছিন্ন অস্তিত্ব যা তাদের পরিবেশের সাথে সর্বোত্তমভাবে খাপ খাইয়ে চলতে হয়, নইলে বিলুপ্ত হয়ে যাবার আশঙ্কা আছে।(survival of the fittest — as a concept in the Darwinian theory of evolution – the continued existence of organisms which are best adapted to their environment, with the extinction of others)।
এই সৌরজগতে অনেক গ্রহ, প্রাণ সঞ্চার এই পৃথিবীতেই। লক্ষ লক্ষ বছরের বিবর্তন হঠাৎ কোন আকস্মিক ঘটনার উৎপাদন এককোষী প্রাণ, তার পরে অ-যৌনতায় (Unicellular organisms reproduce by asexual means. This asexual mode of reproduction involves single parent to produce their offspring. Different types of asexual modes of reproduction include binary fission, multiple fission, fragmentation, budding etc), দেহ ব্যবচ্ছেদ করে- এই অবস্থা থেকে  যৌনতায় বংশবিস্তার। ও   বিবর্তনের শ্রেষ্ঠ (দুষ্ট) প্রাণি  মানুষ। এই পুরো প্রক্রিয়ায়, যোগ্যতা একটা প্রধান মাপকাঠি। স্থান কাল ও পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিজেকে যতদিন সম্ভব টিকিয়ে রাখা যায়, মরণ থেকে বাঁচা যায় এটাই যোগ্যতা। যখন থেকে মানুষ সভ্য হল তখন থেকেই সে শৃঙ্খলাপরায়ন হল। সে দেখল, কোন নির্দিষ্ট নিয়মে নিজেকে অনেক স্বার্থ দেওয়া যায়, বাঁচানো যায় দীর্ঘ সময়। মানুষ সকল জীবজন্তুর, স্থলচর, বায়ুচর জলচর উভচর, ও উদ্ভিদের উপর কর্তৃত্ব নিল, অর্থাৎ তার জীবন ধারণের রসদ হিসাবে, সমস্ত কিছুর উপর তার অধিকার তৈরি করল। সে পশুপাখী মাছ উদ্ভিদ শোষণ করে ভক্ষণ করে নিজের বাঁচা স্থির করল।নিশ্চিত করল। এবং তার এই বুদ্ধি    তার জ্ঞাতি জনের উপরও প্রয়োগ করে বুদ্ধির অপব্যবহার শুরু করল।মানুষ মানুষকে মেরে, খেয়ে,বাঁচা- এমন ধারণাও ব্যবহার করল। এই সমস্ত প্রক্রিয়ার মধ্যে হল যোগ্যতা। যার যোগ্যতা আছে সে বেঁচে যাচ্ছে। দুটি মানুষের মধ্যে লড়াই করে যার যোগ্যতা আছে সে প্রতিপক্ষকে মেরে তার শ্রমের অর্জিত সম্পদ ভোগে ব্যবহার করল। এই সমস্ত কিছুই ইতিহাসে আমরা পড়েছি। আমরা সবাই জানি।
আমার এই ‘যোগ্যতা’ গুণটি সমাজে কিভাবে নরনারীর উপর প্রভাব বিস্তার করছে, তা বিশ্লেষণ করাই এই ধারাবাহিক  প্রবন্ধ সমুহের উপভোগ্য বিষয়।
Charles Robert Darwin circa 1854
চার্লস ডারুইন (Charles Robert Darwin 12 February 1809 – 19 April 1882) was an English naturalist, geologist and biologist, best known for his contributions to the science of evolution.)১৮৫৯ সালে তার  গবেষণার বই  ON THE ORIGIN OF SPECIES BY MEANS OF NATURAL SELECTION,OR THE PRESERVATION OF FAVOURED RACES IN THE STRUGGLE FOR LIFE  যার বাংলা করলে  দাঁড়ায় ‘প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে প্রজাতির সূচনা বা জীবন সংগ্রামের মধ্যে বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত বংশের সংরক্ষণ’ গ্রন্থটি সারা পৃথিবীতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। অনেকে, বিজ্ঞানীরা, তার বইয়ের প্রতিটি লাইন পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছেন, বিতর্ক তুলেছেন । অবশেষে গ্রহন করেছেন। কিছু শব্দের প্রয়োগ দ্ব্যররথক হওয়ার জন্য সঠিক শব্দ প্রয়োগের সুপারিশ করেছেন। ১৮৬৬ সালে এ আর ওয়ালেস, (A. R. Wallace   2 July 1866) ডারুইনের বইটি সম্পর্কে একটি চিঠি লেখেন, সুপারিশ করেন হারবার্ট স্পেনসারের (Herbert Spencer) তৈরি একটা ফ্রেজ phrase-  ন্যাচুরাল সিলেকশন শব্দদ্বয়ের পরিবর্তে ‘যোগ্যতমের বেঁচে থাকা'(survival of the fittest) phrase টি ব্যবহার করতে। এবং ডারউইন মেনে নিয়েছিলেন।
Herbert Spencer. 1880 (Herbert Spencer (27 April 1820 – 8 December 1903) was an English philosopher, biologist, anthropologist, and sociologist famous for his theory of social Darwinism whereby superior physical force shapes history)
তো আমরা এখানে কিছু শব্দসমষ্টিগত টুকরো বাক্য পাই তা হল, “Natural Selection”,“struggle for existence”,,—“the survival of the fittest”,THE PRESERVATION OF FAVOURED RACES অন্য কথায় adaptton to the environment কথাগুলি খুব মূল্যবান। সবগুলির অর্থ একটাই যোগ্যতম হও যদি বাঁচতে চাও। পরিবেশের যোগ্য, সময়ের যোগ্য, সংগ্রামের যোগ্য।

আমাদের মানব সমাজে অনেক জটিলসম্পর্ক আলোছায়ার মত খেলা করে। কোনটা ভাল কোনটা মন্দ বিচার মুশকিল। সবই আপেক্ষিক- অর্থাৎ যা বুড়ো মানুষের ক্ষতি তা বালকের ভাল, যা পাহাড়ি লোকের ক্ষতি তা সমতল লোকের আশঙ্কা নয়। যা ইউরোপ আমেরিকাতে চলে তা এশিয়াতে অচল। এমন অনেক জিনিস রয়েছে ফলে ভাল মন্দের চেয়ে, একক আইনের চেয়ে নিজেকে যোগ্যতম করে বাঁচা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
কিছু কিছু প্রাণি আছে তারা বিপদ দেখলে সাবধান হয় ও পালিয়ে যায়। যেমন বাঁদর শ্রেণি। এমন অনেক প্রজাতি চোখ কান  নাক ইত্যাদি ইন্দ্রিয়গুলি খোলা রেখে সাবধান থাকে। একই বিপদ বা ভিন্ন প্রকৃতির বিপদ বহুবার আসতে পারে। পারলে মুখোমুখি কর, না পারলে পালিয়ে যাও ও মন থেকে প্রতিহিংসার কথা, পরবর্তী সময়ে আক্রমণের কথা, ভুলে যাও। এগুলি জীবজগতের কৌশল। একটা হরিণ, শূয়র বা বাঁদর বাঘ বা সিংহের সাথে যুজতে কখনো চায়না। আগের থেকে সাবধান থাকে নয়তো পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করে। দুটি সিংহ বা বাঘ লড়াই করলে একবারই করে, বা পালিয়ে গেলে প্রতিবারই পালিয়ে যায় কিন্তু প্রতিহিংসা বা ফের আক্রমণ করে লড়াইয়ে জিতে যাবে এমন ভাবনা কম পশু জগতে। মানুষ এইসব কৌশল খুব কম নেয়।
ফলে মানুষের সমাজে অশান্তি বেশি।অনেক সময় জীবজগতের বাঁচার কৌশল মানুষের বেলায় কাজও করেনা। এটাও ঘটনা। যেমন ধরুন, আমার কাছে বেশ কিছু টাকা আছে, আমি একলা চলছি পথে। এক চোর বা দুর্বৃত্ত তা দেখে আমাকে ধাওয়া করল। দুর্বৃত্তেরা সাধারণত, সাধারণ মানুষের চেয়ে অপকর্মের ক্ষমতা বেশি রাখে। আমাকে নাগাল পেলে সুবিধা মত হয়ত টাকার জন্য আমাকে খুন করে টাকা নিয়ে পালাবে। আইন আদালত হল পরের কথা। আমি প্রথম দেখব আমার পালানোর রাস্তা আছে কিনা,পালানোর রাস্তা থাকলে আমি পালিয়ে যাব ও আমার লোকজনের কাছে এই ঘটনা জানাব, এটা আমার সুরক্ষা। না পালানোর রাস্তা থাকলে, অর্থাৎ আমি দুর্বৃত্তের ফাঁদে পড়ে গিয়ে থাকলে তখন আমার জান বাঁচানোর চেষ্টা করব। দুর্বৃত্তের দরকার টাকা, সে এমনি আমাকে ভয় দেখালেও প্রাণে মারার মত বুদ্ধি অহেতুক করবেনা। কারণ তাতে তার পেশার জটিলতা সৃষ্টি হবে। পুলিশ ও নানা লোকজন তাকে ধরার মরিয়া চেষ্টা করবে, সে পালিয়ে থাকতে পারবেনা। ফলে সে আমার থেকে টাকা চাইবে ও আমি তাকে সমর্পনের মত সব টাকা পয়সা দিয়ে দেব। সে চলে গেলে আমি আমার লোকজনের কাছে জানাব ও প্রতিকারের ব্যবস্থা করব। খুব বদমাস রাজনৈতিক দলের বদমাস না হলে আক্রমণ কারী দ্বিতীয়বার আমাকে আক্রমণ করতে চিন্তা করবে।

কিন্তু দেখা যায়, মানুষ এই সরল নিয়ম না মেনে, সে তার রুখে দেওয়ার শক্তি দেখায় বা অশান্তিকে বড় করে বৃহত্তর আকারে নিয়ে চলে যায়। মানুষের মনে একটা প্রতিহিংসার বীজ আছে। সে ছোট হোক আর বড় হোক, তার মুরোদ কত তা প্রকাশ করার বাসনা অনন্ত। বা সমাজে নিজেকে জাহির করা- ‘আমি একজন কেউকেটা, আমার সাথে  তুমি লড়োনা’- এমন ভাব দেখাবার প্রবণতা রয়েছে। সে ছেলে হোক বা মেয়ে হোক। সমস্যা এখান থেকেও শুরু হয়। আমার পাড়াতে, কেউ জামার কলার তুলে গেলে, নিজেকে একজন শক্তিমান দেখিয়ে গে্লে, আমার অপমান মনে হবে। আমি গায়ে পড়ে ওর জামার কলারটা নামিয়ে যেতে বলব। হয়ত দেখা গেল, সে জামার কলার যে অন্য লোকের মনে খারাপ প্রভাব সৃষ্টি করছে তার খেয়ালই নেই। হতে পারে। কিন্তু আমি গিয়ে একটা অশান্তি বাধিয়ে দিলাম। এরকম লোক প্রতি পাড়াতেই আছে।
 এগুলি লোকের যোগ্যতা নয় অযোগ্যতা। যেমন ভারতের সংস্কৃতিতে, বিকিনি পরা মহিলা, পাবলিক প্লেসে, একদম বেমানান।
আমি জানি এক মহিলা কোন মন্দির তীর্থ স্থানে খাটো জিনসের প্যান্ট পরে  প্রবেশ করতে গেলে মন্দিরের কর্তৃত্ত্ব বাধা দেয়। মহিলা সেখানে নিজের স্বাধীনতা ফলাতে যান, আরো কিছু মহিলা নারী স্বাধীনতা নিয়ে মুখ খুলেন, এক পক্ষ হয়ে মন্দির রক্ষা কর্তাদের বিরুদ্ধে কথা বলেন।
মন্দির হল আধ্যাত্মিক জায়গা, রমণ করার জায়গা নয়। একটি মহিলা খাটো প্যান্ট পরে সব মানুষের নজর কাড়বে মন ধর্ষণ করবে, এই অধিকার তাকে কে দিয়েছে? সাধারণের জায়গা মানে সবাই নির্দিষ্ট

একটা কোড শৃঙ্খলা মেনে চলবে। যাতে প্রতিবেশির অসুবিধা সৃষ্টি না হয়। এছাড়া প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট তাদের সংবিধান  আছে এবং সোসাইটি এক্টে তা সরকারের মঞ্জুর করা। যে কেউ তা পাল্টাতে পারবেনা। একটা স্কুলে তার ড্রেস কোড রয়েছে। বহু প্রতিষ্ঠানের নিজের পোশাক আচার আচরণ ইত্যাদি বিধি রয়েছে কোন পাবলিক সেখানে বিধি না মেনে প্রবেশ করতে পারেনা।

 ইদানীং মহিলারা, স্বাধীনতার (স্বেচ্ছাচারিতা) নামে বহু প্রতিষ্ঠানে আধো ন্যাংটো পোশাকে প্রবেশ করছে কিছুটা সার্কাসের জোকার বা কোকশাস্ত্রের ‘রতি বিলাসিনী’ ভাবে; তারা ‘আধুনিকা’ ও স্বতন্ত্র সম্মান চাইছে। ‘আমাকে দেখ’, গৌরবে। এগুলি সম্পূর্ণ বোকামি ও মূর্খামি, শিক্ষা সচেতনতার অভাব।

অযোগ্যতা

স্থান কাল পাত্র নিরিখে নিজেকে খাপ খাইয়ে বাঁচা জরুরী। অযথা বিপ্লব আর পরিবেশের সাথে খাপ না খাওয়াতে পারলে সমস্যা নরনারীকে আলিংগন করবেই।
ঋণ স্বীকারঃ
https://www.ndtv.com/kolkata-news/kolkata-student-allegedly-abused-by-trinamool-men-for-smoking-1396734
https://www.timesnownews.com/mirror-now/crime/article/kolkata-woman-slaps-girl-for-wearing-shorts-says-girls-like-you-should-be-raped/465202

চলবে

Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!