Cafe কলামে – আত্মজ উপাধ্যায় (পর্ব – ৭)
পৃথিবীটা কার? আপনি বিচার করুন (১)
আমরা সবাই শৈশব থেকে মৃত্যু অবধি, নিজের একটা অধিকার ফলাই। শৈশবে ছোতখাট জিনিসের উপর। বড় হলে, অনন্তকে নিজের অধিকারে রাখতে চাই। রাজা/ সম্রাট হলে, কিংবা চীন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হলে বলি পুরো পৃথিবীটা আমার। নারী /পুরুষ হলেও বলি পৃথিবীটা আমার। কিংবা নারী হলে সমগ্র নারী জাতির প্রতিনিধি হয়ে বলি, পৃথিবীটা মহিলাদের। পুরুষ হলে বলি পুরুষের। কারুর তো বেশি অধিকার বোধ জন্মায়! কোন ব্যবসায় শরিকদের মধ্যে যার লগ্নী বেশি,তার স্বাভাবিক অধিকারবোধ অন্যদের চেয়ে বেশি থাকে। এমন ভাবনার অবতরণ করলাম কারণ আমার লেখার বিষয়, নারী পুরুষের যোগ্যতা।
দ্বন্দ্ব তো আছেই। এবং সত্যও আছে। সবাই চাই মিথ্যার অবসান হোক।
নারী পুরুষকে আমি তাদের লিংগ দিয়ে দেখিনা। তারা মানুষ একজন, এটাই তাদের পরিচয় আমার কাছে। আমার কাছে এই পৃথিবীতে যারা জন্ম নিয়েছে, যারা এই পৃথিবীতে বাস করে ও তাদের তাদের চরিত্র বা বৈশিষ্ট নিয়ে খাওয়া , বাঁচা, ও নিরাপত্তার অধিকার প্রত্যেকের আছে। প্রতিটি ক্ষুদ্র প্রাণী, পোকা মাকর থেকে, উদ্ভিদ, জীবজন্তু পাখী , ঠিক তেমন পুরুষ ও নারীর জন্মগত অধিকার, মানবাধিকার রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হল এই কোটি কোটি প্রাণীর জগতে সবাই সবার সমান?
সমান তো নিশ্চয়ই নয়। আকৃতিতে, ক্ষমতায়, কাজে , আগের আসার ভিত্তিতে দেওয়া নেওয়া ইত্যাদির হরেক রকম প্রশ্নে প্রাণিরা সমান নয়।
সবচেয়ে বড় কথা, প্রত্যেকে প্রত্যেকের মত বাঁচে, নিজের কাছে যা সম্ভব, যা রসদ আছে, রসদ অর্জন করতে পারে, তার ভিত্তিতে বাঁচে। সুতরাং এখানে কেউ প্রতিযোগিতায় আসেনি। অনর্থক প্রতিযোগিতায় আসাও উচিত নয়। কে সবার থেকে নিরাপত্তা ও নিজের বাঁচাকে সুরক্ষিত করতে পারে। এই সংগ্রাম চলছে। এই সংগ্রাম চলছে যেদিন এক কোষী প্রাণি জন্মাল তার পর মুহুর্ত থেকে। জীববিজ্ঞানীরা বলেছেন, এই এক কোষী প্রাণীর জন্ম ৩৮০ -৪০০ কোটি বছর আগে হয়েছিল। তখনও অক্সিজেনের আবির্ভাব হয়নি। অক্সিজেন ২৪৫কোটি বছর আগে (oxygen was first produced in atmosphere around 2.45 billion years ago,” says geochemist Dick Holland)। অথচ প্রত্যেকটা প্রাণী ক্ষমতা দখল করতে চায়। তার বাঁচা নিশ্চিন্ত করতে চায়।তার বংশধরকে নিরাপত্তা দিতে চায়। বাপেরও যেমন বাপ থাকে, তেমন এই ক্ষমতার আধিপত্য বিস্তারে কে সেরা?
অর্থাৎ পৃথিবীর শাসক কে?

এক কোষী প্রাণী
পুরুষ? নারী? বাঘ ? সিংহ? কে?
শাসকের ক্ষমতা থাকা চাই, পিটিয়ে হো্ক, খুন করে হোক,ভালবেসে হোক, বা যে কোন মাধ্যমে ক্ষমতার কেন্দ্রকে ধরে রাখা চাই।
এই ক্ষমতা অর্জনের লড়াইয়ে কোন বৈধ অবৈধ ব্যাপার বা আইন নেই। কারণ যিনি ক্ষমতা অর্জন করেন তার খুশি ও মর্জিই শেষ কথা। সেই আইন।
আপনি জংগলে যান। আপনার বড় বড় কথা নিয়ে। দাঁড়ান, বন্য জন্তুর সামনে। দেখুন কে শাসক। আপনি শহর থেকে বহুদুরে কোন আদিবাসী গ্রামে যান, আপনার আইন বই কোন কাজ করবেনা। ওখানে মোড়ল শাসক। আপনি মাফিয়ার ডেরায় যান, তাকে বোঝান তিনি একজন অপরাধী, তাকে জেলে যেতে হবে। দেখুন কি হয়। আপনার বাবামায়ের দেওয়া প্রাণটা আর থাকবেনা। সেখানে তিনি- মাফিয়া শাসক। দিনের আলোয় অনেক নেতা সাংসদ সংবিধান অস্বীকার করে শাসক হয়ে যান। আপনি ঘরে চলুন। আপনার বাড়িতে যিনি টাকা রোজগার করেন তিনিই সেই ঘরের শাসক। নারী না পুরুষ? যেকেউ। যার টাকা রোজগার আছে বেশি।
যিনি পোষ্য নেন, তার ক্ষমতা বা ধন দিয়ে, তাকে ক্ষমতা বা ধন অর্জন করতে হয় প্রতিমূহুর্তে। তার নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা আগে। সেই নিরাপত্তা ভেংগে তার পোষ্যদের কথা মানা তাকে বিপদে ফেলে দিতে পারে। এছাড়া প্রত্যেক মানুষের একটা জীবন যাপনের প্রতি নিয়ত ভাবনা বা কল্পনা তৈরি হয়, থাকে। সে যখন রোজগার করে, তার ভাবনার দাম অগ্রাধিকার পাবে।এখানে ২য় ব্যক্তি থাকা উচিত নয় ও থাকেনা।
এবং সেইমত, সমাজ সৃষ্টি হয়েছে।
সবাই এক নয়। সবাই সমান নয়। যদি সমান হত, অর্থাৎ সমাজের ১০০ জন লোক, প্রত্যেকেই সমান ক্ষমতার অধিকারী হলে গন্ডগোলের সৃষ্টি হত। দেখা যাবে সমাজের একটা সেতু বানাবার দরকার, ১০০জনের ১০০ মতের জন্য সেতু বানানোর পরিকল্পনাই সিদ্ধান্ত নেওয়া গেলনা। একটা কর্পোরেট হাউস, একটা প্রশাসন বিভাগ, একটা প্রতিষ্ঠান প্রত্যেকটারই একজন শীর্ষব্যক্তি থাকেন। যার কথায় সবাই মানেন। সেই শীর্ষ ব্যক্তি আবার নিজের ভাবনাকে শক্তি শালী করার জন্য, তার কাজ সুষ্ঠ পরিচালনার জন্য তার অধীনে আরো ১০জন পরিচালক রেখেছেন। সেই ১০ জন পরিচালকের অধীনে আরো ১০০০ জন কাজ করেন, আবার এই ১০০০ জনের অধীনে অসংখ্য শ্রমিক,ইঞ্জিনীয়ার, নবিস, কেরাণী, হিসাব রক্ষক ইত্যাদি আছেন। সবাই সমান নয়, কিন্তু সবার কাজের দায়িত্ব দেওয়া থাকে, তার চলাফেরার গন্ডী থাকে। দায়িত্ব ও গন্ডী অমান্য করা যায়না। এটাই নিয়ম। যিনি অমান্য করেন, বা অবহেলা করেন তার শিরের উপর শাস্তি ঝুলছে অদৃশ্যভাবে।
ঠিক উপরের ছবিটার মত আমাদের ঘরে স্বামী, স্ত্রী সমান নন।স্বামী- স্ত্রী সমান হলে সন্তান ও আরো যারা পরিবারের সদস্য আছেন, তারাও সমান। আর সমান হলে একজনের কাঁধে সবার অন্ন জোটাবার দায়িত্ব স্বামীর বা পরিবারের কর্তা যিনি তার উপর বর্তায়না। যিনি পরিবারের সবার দায়িত্ব মাথায় নিতে পারেন , তিনি মহিলা হোন আর পুরুষ হোন তিনিই পরিবারের কর্তা। তার কথা শুনেই সবাইকে চলতে হবে। তবে আজ অবধি দেখা গেছে, মুনুষ্য সমাজের কর্তা ব্যক্তি পুরুষ। কারণ সেই কর্তা ব্যক্তি হওয়ার যোগ্যতা রাখে। যেহেতু সে পরিবারের সবার অন্ন যোগায় সেই হেতু যারা তার অন্ন খায় তাদের বাধ্য বাধকতা থাকে, কর্তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকার ও তার কথা শোনার।
এই ছবিটি পারিবারিক চিরন্তন ছবি। মর্যাদায় ছোট থেকে বড় এরকম থাকা চিরন্তন প্রয়োজন। তা হলে সমস্যা অনেক কমে যায়।
কিন্তু সারা পৃথিবীতে, দেখা যায় ৯০ শতাংশ, পুরুষ পরিবারের ভরণপোষণ এর দায়িত্ব নেয়। বিয়ের সময় একজন স্বামী হন একজন স্ত্রী বা দাসী হন। ফলে স্বামী স্ত্রী কখনোই বন্ধু নন।বা সমান সমান নন।যে পরিবারে উপার্জন পুরুষের স্ত্রী বন্ধু হয়ে উঠেন সেই পরিবারে অশান্তি ও কলহ থাকে। কেউ কাউকে মানতে চায়না। ফলে উপার্জন ক্ষম ব্যক্তিই পরিবারের প্রভু, আর বাকীদের কাজ সেই উপার্জন ক্ষম ব্যক্তির সেবা করা পরিশ্রম লাঘব করা যাতে তিনি নিজেকে আরো সতেজ রেখে বেশি উপার্জন করতে পারেন।