ছোটদের গল্পে অজন্তাপ্রবাহিতা

As you sow,so shall you reap
যেমন কর্ম তেমনি ফল
ঋভু – ক্লাস ফাইভে পড়ে। বিগত কয়েকমাসে ওর চেনা পৃথিবীটা আচমকাই পাল্টে গেছে। সকালে উঠে স্কুলে যাবার জন্য ছুটাছুটি করতে হয় না। বাড়িতে বসেই অনলাইন ক্লাস হচ্ছে। আর হোমওয়ার্কও অনলাইন সাবমিট করছে।পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর ও সুরক্ষিত জায়গা এখন বাড়ি।
এর মধ্যে বিন্দিয়া ম্যাম ক্রিয়েটিভ রাইটিংয়ের জন্য বড্ডো অদ্ভুত কাজ দিয়েছেন। প্রভারব /প্রবাদ আর প্রবচনের সাথে মিলিয়ে একটা স্টোরি লিখতে হবে। তাও রিয়েল লাইফ থেকে। গুগল থেকে কপি পেস্ট চলবে না।
অনেক ভেবে কুলকিনারা করতে না পেরে মায়ের দ্বারস্থ হলো।
-মা ! আমায় একটু হেল্প করো।
-হ্যা সোনা। নিশ্চই করবো।
-ম্যাম আমায় as you sow,so shall you reap প্রভার্বের ওপর রিয়েল স্টোরি লিখতে বলেছেন। বুঝতে পারছিনা কি লিখবো।
– তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করে সোনালী ছেলের কাছে বসলো।
– ঋভু। তোমার মনে আছে, গতবছর গরমের ছুটিতে যখন দাদুর বাড়ি গেলাম। দাদুর বন্ধু সুন্দরদাদু আমাদের ডিনারে নেমন্তন্ন করলেন। ওনার বাড়ি গেলাম। দুর্গাপুর থেকে ইলামবাজারের রাস্তায় ওনার সুন্দর সাজানো বাগান বাড়ি।এক কথায় সবুজ বাংলো।
-হ্যা। মনে আছে।
– সুন্দরদাদুর পুরোনাম সুন্দর সান্যাল। উনি ফরেস্ট অফিসার ছিলেন। ভারতবর্ষের বিভিন্ন জঙ্গলে ওনার ট্রান্সফার হতো । কখনো আসামের কাজিরঙ্গা আবার কখনো বিহার বা রাজস্থানের কোনো বিখ্যাত জঙ্গলে। সারাজীবনই উনি বনেজঙ্গলে বন্য জন্তুদের সাথে কাটিয়েছেন। আমি যখন ছোট ছিলাম উনি তখন ওনার মধ্য যৌবনে ছিলেন । অসম্ভব সুন্দর ছিলেন দেখতে। ছ’ফুট মতো লম্বা,মেদ হীন চেহারা। মাথায় সর্বদাই কাউবয় হ্যাট। পায়ে দামি জঙ্গলবুট আর হাতে থাকতো স্টাইলিশ চুরুট।
এখন ওনার ধুতি পরা সাদামাটা চেহারা দেখে বোঝাই যায় না এককালে লুক ও স্টাইলে উনি যেকোনো হলিউড নায়ককে টেক্কা দিতেন ।
বন্যপ্রাণী শিকার করা ওনার শখ ছিল। ভীষণ মেজাজী মানুষ । কারো সাথে তেমন একটা মিশতেন না।শুধুমাত্র আমার বাবার সাথে ভালো বন্ধুত্ব ছিল।
ওনার আমন্ত্রণে একবার আমরা কাজিৰঙা বেড়াতে গেছিলাম। আমি তখন ক্লাস সেভেনে পড়ি।
ওনার বাড়িতে ঢুকতেই আমার কেমন যেন গা ছমছম করতে শুরু করেছিল। বিশাল ড্রয়িং রুম। একদিকের দেয়ালে বাঘের মাথা সমেত একটি ছাল ঝোলানো রয়েছে। আরেক দেয়ালে একই রকম আরেকটি মাথা সমেত বাঘের ছাল । আমার কৌতূহলী চোখ দেখে কাকু বুঝতে পারলেন আমার মনের কথা।
বললেন, “বাঘ আর বাঘিনী। একই দিনে দুজনকে শিকার করেছিলাম” ।
ওনার কথায় আমি ঢোক গিললাম। মায়ের পাশে একই সোফায় গুটিশুটি মেরে বসেছিলাম। মনে বেশ ভয় ছিল, আর কি দেখবো কে জানে।
ডাইনিং হলে যেতেই চোখ পড়লো ধনেশ পাখির ঠোঁট দিয়ে বানানো নানা রকম ডেকোরেশন পিস্ দিয়ে সাজানো দেয়াল।
পুরো বাড়িটা ঘুরে ঘুরে দেখে মনে হয়েছিল কোনো এনিম্যাল মিউজিয়াম। কোথাও কোনো জানোয়ারের স্কেলেটন রাখা। কোথাও বোতলে ভরা আছে নানা ধরণের সাপ আর পাখির ডিম্। কোথাও কারো ছাল। সব কিছুই কেমন কেমন ঠেকছিল।
কোথাও কোনো ফুল ,ফুলদানি বা কোনো শো পিস্ ছিল না। কেমন যেন গা শিউরে উঠছিলো বারেবারে।
রাতের খাবারে বনমুরগীর মাংসের ঝোল। কাকু বিকেল বেলা ওদের মেরেছেন।
রান্না ঘরেই ছাল ছাড়িয়ে ধুয়ে রান্না করা হলো। ওসব দেখে আমার ভীষণ পেট গুলোচ্ছে, মাথা ঘুরছে। এক দানা খাবারও আমার গলা দিয়ে নাবল না।
সব কিছু দেখে বাবা প্রচন্ড বিরক্ত হয়ে কাকুকে বকুনি দিলেন।
-সুন্দর, ঘরের শোভা বাড়ানোর জন্য মৃতপ্রাণীর দেহ মাউন্ট করে লাগিয়ে রেখেছো। কোথাও ধনেশ মেরে তার ঠোঁট দিয়ে ডেকোরেশন বানিয়েছো। কোথাও দেখছি হরিনের মাথা। কোথাও গন্ডারের খড়গ। এ কেমন ধরণের রুচি ? এখন খাবার জন্য গোটা গোটা প্রাণী হত্যা করে হজম করা। উফফ ! একি ইলিশ, মাগুর ? যে বাজার থেকে টাটকা এনে কেটে খেয়ে ফেললাম।
তোমার বাড়ি এসে আমার মেয়ে কেমন সিঁটিয়ে গেছে দেখো। তোমার বৌদির মুখচোখও ফ্যাকাশে হয়ে গেছে ।
তুমি ফরেস্ট অফিসার। কোথায় তুমি প্রাণীদের প্রাণ রক্ষা করবে, তা না করে শুধুই ওদের শিকার করেছো। এগুলো কি তোমার শখ ,না এডভেঞ্চার ? এতো শুধু প্রাণী হত্যা নয় ক্রূর মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছো তুমি । এগুলো আমার মোটেও ভালো লাগলো না।
কাকু হাসতে হাসতে বললেন, ” দাদা ! জীবে জীবে খাদ্য খাদক সম্পর্ক। এতো সৃষ্টি থেকেই চলছে। এ আর নতুন কি ! একেই তো ফুড চেন বলে। সোনালীকে বোঝাও। এটাই সত্যি। ”
– ” আমরা এগুলোতে অভ্যস্ত নই, ঠাকুরপো। ” মা বলেন।
– বৌদি ! প্রতিটা মানুষের কিছু হবি থাকে কিছু শখ থাকে। আমারও আছে।
শিকার করে শিকারকে চোখের সামনে রেখে দেয়া। আমি ওদের প্রভু। এ ভাবতে আমার বেশ ভালো লাগে।
আমার এই অদ্ভুত শখ কেউ বরদাস্ত করতে পারবে না জেনে আমি বিয়েও করি নি।আমি যেমন,তেমনই ভালো আছি ।
কারো জন্য আমি আমার শখ পাল্টাতে পারবো না।
কাজিৰঙায় আমাদের একসপ্তাহ থাকবার কথা ছিল। কিন্তু সুন্দর কাকুর বাড়িতে আমি এতো আতঙ্কে ছিলাম যে বাবা দুদিনের মাথায় আমাদের নিয়ে গুয়াহাটি চলে আসেন। তারপর সেখানে চারদিন খুব আনন্দ করেছিলাম। অনেক জায়গা দেখে অনেক শপিং করে আমরা বাড়ি ফিরি।
-তারপর কি হলো মা ?
-আমরা কলকাতা ফিরে এসে আবার যে যার মতো ব্যস্ত হয়ে পড়ি। আর এদিকে সুন্দরকাকু সরকারি চাকরি ছেড়ে সাউথ আফ্রিকা চলে যান। ওখানে পিলান্সবার্গ ন্যাশনাল পার্কের কাছে ডোম্বা ভিলেজে একটি একতলা বাংলো বাড়িতে উনি থাকতেন । স্টিভেন্স বলে একজন স্থানীয় ওনার সবসময়কার সঙ্গী ছিল। স্টিভেন্সের সাথে কাকুর ভীষণ ভাব হয়ে গেছিলো। স্টিভেনসও কাকুর পছন্দ অপছন্দের খুঁটিনাটি সব ব্যাপারে খেয়াল রাখতো। ওখানে গিয়েও ওনার শিকারের নেশা কমে যায় নি,বরং বেড়ে গেছিলো।
একদিন রাতে মুষলধারে বৃষ্টি। পাওয়ার নেই। স্টিভেন্স তাড়াতাড়ি রান্না করে কাকুকে ডিনার করিয়ে দিয়ে নিজের ঘরে চলে যায়।
কাকুও নিজের ঘরে একটা ক্যান্ডল জ্বালিয়ে বই পড়ছেন। বাইরে থেকে বৃষ্টি আর ঝোড়ো হাওয়ার শব্দ থেকে থেকে শোনা যাচ্ছে। মনে হচ্ছিলো যেন, সেদিনকার বৃষ্টি বোধয় পুরো পৃথিবীকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। জানলার কাঁচ দিয়ে বিদ্যুৎ চমকানোর আলো ঘরে ঢুকছিল।এই আলো –অন্ধকারের মধ্যে হটাৎ ওনার মনে হলো ঘরের কোনায় যেন আরো এক জোড়া আলো জ্বলজ্বল করছে।
ভাবলেন দেখার ভুল নয়ত। কিছুতেই বইয়ে মন বসাতে পারলেন না। বারেবারে ঘরের কোনায় জ্বলজ্বল করতে থাকা আলোর দিকে চোখ যাচ্ছিলো। ব্যাপারটা কি বোঝার জন্য উনি বালিশের পাশে রাখা টর্চ জ্বালালেন। দেখলেন কিছুই নেই।
ব্যাপারটা কি বোঝার জন্য উনি বিছানা থেকে নেবে এগোতে গিয়ে কিসে যেন হোঁচট খেয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন। টর্চটা ও হাত থেকে পড়ে গিয়ে ভেঙে গেলো। হটাৎ দমকা হাওয়ায় জানলা খুলে গেলো। মোমবাতিটাও নিভে গেলো। বিদ্যুতের আলোয় ঘরের পরিস্থিতি ঠাওর করে উঠবার চেষ্টা করলেন। জলের ছাঁটে গ্লসি টাইল লাগানো মেঝে পেছল হয়ে গিয়েছে। দাঁড়াবার চেষ্টা করেও পড়ে গেলেন আবার। এদিকে ঘরের কোনায় জ্বলতে থাকা আলোজোড়া ওনার দিকে খুব সন্তর্পনে এগিয়ে আসছে । এসে ওনার মাথার কাছে কয়েক ইঞ্চি দূরে থেমে গেলো। ভালো করে পলক ফেলে দেখলেন, একটি ব্যাঘ্র শাবক। কিন্তু বন্ধ ঘরে এলো কি করে? দিনের বেলাতেই ঢুকে বসেছিল কি ? নানা প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খেতে লাগলো।
স্টিভেন্সকে ডাকবার চেষ্টা করলেন। একে অন্ধকার তায়ে অত বৃষ্টির আওয়াজ। ওনার আওয়াজ দরজার বাইরে গেলো বলে মনে হলো না।
ছোট্ট বাঘটা কিছুই করছে না। শুধু মাত্র ওনার দিকে নিষ্পলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বসে আছে। কি তীক্ষ্ণ আর অসহায় সেই দৃষ্টি। আরেকবার উঠে দাঁড়াতে গিয়ে আবার স্লিপ করে গেলেন। এবার মনে হলো পা দুটো আড়ষ্ট হয়ে আসছে যেন।
মাথার সামনে বাঘের বাচ্চার চোখ দুটোর দিকে আবার নজর পড়লো। বাঘটা কেমন চেনা মনে হচ্ছে,তাই না। স্মৃতি যেন জীবন্ত হয়ে চোখের সামনে ধরা দিচ্ছে। একটা বাঘের পরিবার। মা বাবার ঘাড়ে মাথায় উঠে গিয়ে একটা বাচ্চা খেলছে।
থেকে থেকে মা-বাঘিনী বাচ্চাকে চেটে দিচ্ছে।
ওদের সামনে সুন্দরবাবু রাইফেল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ওদের কোনো ভ্রূক্ষেপই নেই। এমন সুযোগ কি হাতছাড়া করা যায়।
গুড়ুম ! গুড়ুম ! আকাশ ভেদী দুটো শব্দ। বাঘ আর বাঘিনীর রক্তাক্ত দেহ ওনার পায়ের কাছে পরে আছে।
ছোট্ট বাঘ ছানা কিছুই বুঝলো না। কি হয়ে গেলো। যে-মা ওকে আদর করছিলো। সে আর নড়ছে না। কাতর দৃষ্টিতে সুন্দরের দিকে তাকিয়ে রইলো। সুন্দরের চোখে তখন জয়ের উল্লাস।
“কেন এমন করলে?” বাঘ ছানার চোখে জিজ্ঞাসা। ও কিছু বোঝার আগেই সব শেষ।
উফফ। সেতো কত বছর আগের কথা। সেই সুদূর আসাম থেকে বাঘের বাচ্চা পিলান্সবার্গে এসে পৌছালো ? কিভাবে ?
এদিকে বুঝতে পারছিলেন একটা ঠান্ডা কিছু ওনার গা বেয়ে উঠছে। বুঝলেন ওটা সরীসৃপ। ধীরেধীরে ওনাকে আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে নিচ্ছে। আপ্রাণ চেষ্টা করছিলেন দু হাত দিয়ে সরীসৃপের বাঁধন মুক্ত হবার। শরীরের হাড় ভাঙার শব্দ উনি স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছিলেন। এক বিশাল ময়াল যে ধীরে ধীরে সমস্ত শরীর গ্রাস করে ফেলছে। নিজেকে মুক্ত করবার সব চেষ্টা অসফল হলো। ক্লান্ত হয়ে পড়ছিলেন। চোখ বুজে আসছে।
বিদ্যুতের দমকা আলোয় খাটের রেলিঙের দিকে চোখ পড়তেই দেখলেন ধনেশ পাখির পরিবার । যাদের ঠোঁট কাজিৰঙাৰ বাড়িতে ডাইনিং স্পেসে সাজিয়ে রেখে ছিলেন । এরা কেন আজ এখানে ? হ্যা ! মনে পড়ছে, নতুন এয়ার রাইফেলটা এদের ওপরেই টেস্ট করেছিলাম। বাড়ির পেছনে বড় শিরিষ গাছের কোটরে ওর পরিবার ছিল। সেদিন প্রথম ওরা বাচ্চাদের উড়তে শেখাচ্ছিলো। আমার নতুন রাইফেলের কয়েকটা গুলিতেই সবাই শেষ। ঝুপঝুপ করে আমার পায়ের সামনে পড়লো একেএকে।
এদেরতো আমি কেটেকুটে ঠোঁট টুকু রেখে বাকি কবর দিয়ে দিয়েছিলাম। এখানে এলো কিভাবে। কি ঘৃণার দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। উফফ ! ওই দৃষ্টি সহ্য করতে পারছি না।
স্টি — ভে ———–ন্স। বলতে বলতে কেমন যেন জড়িয়ে যাচ্ছে কথা গুলো। সারা ঘরে বনমুরগির বাচ্চা কিলবিল করছে। যেন বলছে এতদিন আমাদের খেয়ে পেট ভরিয়েছ। জীবে জীবে খাদ্য খাদক সম্পর্কের কথাটাও তোমারই বলা।এবার আমাদের পালা। কোনটা মাথার ওপর দিয়ে চলে কোনটা হাতের বুকের ওপর উঠে পড়ছে।
সরীসৃপটা শরীরের অধের্ক অংশ গিলে ফেলেছে। আর পা নড়ছে না। অসার। আজ সবাই কি করে এই ঘরে ঢুকে পড়েছে ?
এই ময়ালের চামড়া দিয়ে আমি ব্যাগ আর বেল্ট বানিয়েছিলাম। কার্তিকের সাহায্য নিয়ে একে মেরেছিলাম।
আজ দল বেঁধে সবাই এসেছে। কেন ? তাহলে কি আজ এরা আমায় মেরে ফেলবে।
ক্ষমা করে দাও আমাকে। আমি আর প্রাণী হত্যা করবো না। বিড়বিড় করে বলতে লাগলেন। বুঝলেন,পুরো শরীরটাই ভয়ঙ্কর সরীসৃপের কবলে চলে গেছে । চারিদিক অন্ধকার। শরীরে এক বিন্দু শক্তি নেই লড়াই করার। শেষ বারের মতো ডাকলেন,স্টিভেন্স।
-তারপর ?
– পরদিন অনেক বেলা অব্দি সুন্দর কাকুর সাড়াশব্দ না পেয়ে স্টিভেন্স দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকে। ঢুকে দেখে,জানলার কাঁচ ভেঙে চারিদিকে ছড়িয়ে আছে। টর্চলাইটটার চার টুকরো চার দিকে পরে আছে। সুন্দর কাকু মেঝেতে উপুড় হয়ে শুয়ে। ওনাকে ওঠাতে গিয়ে দেখে ওনার শরীর ঠান্ডা। তাড়াতাড়ি এম্বুলেন্স কল করে ওনাকে হাসপাতালে শিফট করা হয়। তখন মাইল্ড হার্ট বীট ছিল।
জানা গেলো ওনার “Ipsilateral Paralytical attack” এসেছিলো। কপাল ভালো সময়মতো স্টিভেন্স দরজা ভেঙেছিল।
এরপর কাকু সুস্থ হবার জন্য অনেক দিন হাসপাতালে ছিলেন। তারপর ওনার মানসিক সুস্থতার জন্য ওনাকে Rehabilation সেন্টারে রাখা হয় বহুদিন। স্টিভেন্স এক মুহূর্তের জন্যেও ওনাকে একা ছাড়ে নি।
প্রায় বছর বাদে কাকু যখন দেশে ফিরলেন, বাবা আর আমি ওনাকে এয়ারপোর্টে রিসিভ করতে গেছিলাম।
ওনাকে দেখে আমি চমকে উঠি। একী ? কি চেহারা হয়েছে ? শরীর ভেঙে আধখানা। ঠোঁটের কাছটা বেঁকে গেছে।
বাবাকে দেখতে পেয়ে কাকু জড়িয়ে ধরে বলেন, ” দাদা ! আপনার কথাই ঠিক। আমার অপকর্মের শাস্তি আমি পেয়েছি। আর নয়। এবার আমি প্রাণী হত্যা করবো না। ওদের বাঁচাবো। আপনি আমার সাথে থাকবেন তো ?”
-নিশ্চই থাকবো সুন্দর।
সেই থেকে বাবা ও কাকু দুজনে মিলে প্রাণী সংরক্ষণের জন্য একটি স্বেচ্ছাসেবীর দল গঠন করেন। পশুপাখিদের বিপদের কথা শুনলেই কাকু ছুটে যান। আপ্রাণ চেষ্টা করেন ওদের প্রাণ রক্ষার।
রাজ্য সরকারের কাছ থেকে উনি ওনার কাজের জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন।
এই যে কিছুদিন আগে আম্ফান এসে সুন্দরবন,কাকদ্বীপ এই অঞ্চল গুলো লন্ড ভন্ড করে দিয়ে গেলো। উনি প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে ঠিক পৌঁছে গেছেন বিপর্যস্ত মানুষ ও পশুপাখিদের বাঁচাতে। সুন্দরবনে ওনার সংস্থা বিশেষ ভাবে কাজ করছে বাঘেদের বাঁচাবার জন্য।
তাহলে বুঝলে,যেমন কর্ম তেমনি ফল।
As you sow,so shall you reap .
-থ্যাংকু মা। বিন্দিয়া ম্যাম আমার গল্প পড়ে নিশ্চই খুব খুশি হবেন।
Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!