• Uncategorized
  • 0

T3 || আমি ও রবীন্দ্রনাথ || বিশেষ সংখ্যায় অমিতা মজুমদার

মন জানালায় কিছুক্ষণ

জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ী দর্শন।
“আকাশে তো আমি রাখি নাই মোর,
উড়িবার ইতিহাস।
তবু,
উড়েছিনু এই মোর উল্লাস”
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মন জানালার খিড়কী গলিয়ে কত কী যে এসে পড়ে তার কোনো হিসাব নেই। শসার মাচানে উড়তে থাকা প্রজাপতি বা লাল ফড়িং, সাথে মাচানের ফাঁক গলিয়ে ঝুলে থাকা ছোট ছোট শসা। যা চুরি করে খেয়ে মা-বাবার কত বকুনী খেয়েছি । শসার মতো একটু পরেই তা হজম হয়েও গেছে।আর বৈশাখ সে-তো বনে বাদারে ঘুরে বেড়াবার মাস। বন্ধুদের কারও সাথে একখানা ঘসা ঝিনুক, কারও সাথে কাগজ কিংবা পাতায় মুড়ে নুন, চিনি, সর্ষেবাটা, একটু চুন হলেই হলো। কারও গাছের কাঁচাআম,কাঁঠালের মুচি, লেবুপাতা, জাম, জামরুল, গাব এসবের সাথেই বসবাস।
সেই বৈশাখে আছে এক পূণ্য তিথি,যা জেনেছি অনেক পরে। পঁচিশে বৈশাখ তারিখটি বাঙালির জীবনে এক উজ্জ্বলতম দিন। দিনটি অন্য দশটি দিনের মতোই ছিল। বিশেষ দিন হয়ে উঠল এক বিশেষ মহামানব জন্মেছিলেন এই দিনে ।
হয়তো বাঙালির পূর্ণ বাঙলি হয়ে ওঠা হতো না, যদি না তিঁনি জন্মাতেন।
তাই বাঙালি হয়ে আমার জন্মও সার্থক হল।
আমার মতো একজন মানুষ যার কী-না বাংলাদেশের কোনো এক প্রত্যন্ত গ্রামের কৃষক পরিবারের গৃহিণী হয়ে ঘর সংসার সামলিয়ে, এতদিনে নাতি নাতনির মুখ দেখে ইহলোক ত্যাগ করার কথা, সেই আমি কাঁটাতারের প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে, সকল বাঙালির আরাধ্য বলে জানি যাঁকে তাঁর বাড়ি, তাঁর শৈশব কৈশোরের বিচরণ ক্ষেত্র, তাঁর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের জায়গা নিজের চোখে দেখেছি এ কথা ভাবলেই মনে হয় আমার এখন মৃত্যু হলেও কোন আফসোস নেই। যারা জ্ঞানী,গুণীজন কিংবা সামর্থ্যবান তাদের কাছে আমার এ উচ্ছ্বাস খুবই হাস্যকর ছেলেমানুষি মনে হবে। কিন্তু আমি-তো জানি আমার এ পাওয়া আমার কাছে কী! সেই ছোটবেলায় হয়তো কথা বলতে শিখেছি তখন না-কী দাদা দিদিদের শেখানো ”বীর পুরুষ” কিংবা ”পুরাতন ভৃত্য” তোতা পাখির ম্তো আওড়াতাম। তারপর বর্ণ পরিচয় হলো। বাংলা শব্দ চিনতে শিখলাম পড়তেও শিখলাম। একটু একটু করে পড়তে পারলাম “মেঘের কোলে রোদ হেসেছে, বাদল গেছে টুটি, বহে মাঘ মাসে শীতের বাতাস- বিপদে মোরে রক্ষা কর- নিজের অজান্তেই ভালবাসলাম ” সোনার তরী, দুই বিঘা জমি, দুই পাখি, পলাতকা, দেবতার গ্রাস—-“ কিশোরী বয়সে হাতে পেলাম “গল্পগুচ্ছ” নামক সোনার খনি। না বুঝেই কাঁদলাম হৈমন্তীর বেদনায়, খোকা বাবুর প্রত্যাবর্তনে, নিজেকে কল্পনা করলাম রতন, মৃন্ময়ী আবার কুড়ানির ছায়ায়। ভয়ে শিউরে উঠলাম কঙ্কাল পড়ে। না বোঝা বয়সের অনুভূতিতে দেখা দিয়েছিল অন্যরকম চারুলতা। তারপর কেটে গেছে কয়েক যুগ। আমার সাধ আর সাধ্যের সমন্বয়ে ধরা দেয়নি এই নাগালহীন পর্বতশৃঙ্গ।
আজকাল যেন ঘোরের মাঝে শুনতে পাই নিজের অন্তরের গহীনে কেউ গেয়ে উঠছে—যে রাতে মোর দুয়ারগুলি ভাঙল ঝড়ে,তুমি কোন্‌ ভাঙনের পথে এলে,আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে,দেখতে আমি পাইনি–
আমি পারিনি এই অথৈ সমুদ্রে অবগাহন করতে। ঘড়ায় তোলা জলের মতো সাথী হয়ে রইল ”সঞ্চয়িতা” নামক সঞ্চয়টুকু। যেখানে আমি আমার সকল সুখ দুঃখ ব্যথা বেদনা নিয়ে আশ্রয় নেই। শুধু বলতে ইচ্ছে করছে-
“ তোমার জ্যোতিষ্ক তারে
যে পথ দেখায়
সে যে তার অন্তরের পথ,
সে যে চিরস্বচ্ছ ,
সহজ বিশ্বাসে সে যে
করে তারে চিরসমুজ্জল।“
রবীন্দ্রনাথ।
রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে লেখার ধৃষ্টতা আমার নেই,শুধু মনের আবেগ সম্বল করে এ লেখা।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।