ধারাবাহিকে কিশোর ভৌতিক উপন্যাসে আরিফা খাতুন (পর্ব – ১)

লুপ্ত কুঠি

পালাসপুর গ্রামে আড়াবাড়ি জঙ্গল সেই জঙ্গলে অনেক কাঠুরিয়া কাঠ কেটে তাদের জীবিকানিরবাহ করে । রজত ও আসিফ সেখানে রোজকার মতো সেদিনও কাঠ কাটতে গিয়েছিল । দুপুর তখন ১টা কি ২টো হবে হঠাৎ রজতের কানে কন্নার আওয়াজ আসে , রজত তাতে কান‌ না দিয়ে গাছ কাটতে থাকে । কিছুক্ষণ পরে আবার তীক্ষ্ণ চিৎকার আসিফ বলে উঠলো এই দিন দুপুরে এত আওয়াজ কোথা থেকে আসছে , রজত বললো” মনেহয় কারোর কোনো বিপদ আপদ হয়েছে, চল যাই দেখে আসি” । আসিফ – ” হ্যাঁ ভাই চল ওই দিক থেকে আওয়াজ আসছে দেখি গিয়ে কি হলো । তারা দু জন ক্রমশ এগিয়ে চললো আওয়াজ আসার উৎপত্তিস্থলের দিকে । রজত – “এই জঙ্গলে তো শুনেছি বাঘ ভাল্লুক নেই , আর মানুষজন ও তেমন আসে না তাহলে কি হলো বলতো “। আসিফ – ” চলনা গিয়ে দেখি , হতে ও তো পারে আমাদের মতো কেউ কাঠ কাটতে এসেছে বিপদ হয়েছে হয়তো,কথা শেষ হতে না হতে চাবুকের আওয়াজ ” বাবু গো আমাদের ছেড়ে দাও ” চিৎকার ভেসে আসছে কিন্তুু কোনো জনমানবের দেখা নেই , আস্তে আস্তে তারা প্রায় জঙ্গলের মাঝে চলে আসলো । রজত
– ” এসব কি হচ্ছে বলতো কাউকে তো দেখা যাচ্ছে না তাহলে এ কিসের আওয়াজ বলতো?
আসিফ _” আমার ও তাই ভাবাচ্ছে ” কথা শেষ হতে না হতে রজত বলে উঠলো দেখ একটা পুরাতন বাড়ি দেখা যাচ্ছে। তারা দু জন কথা না বাড়িয়ে শেখানে যায় । ও মা! এ তো কোনো রাজবাড়ি হবে আমরা এতদিন এই জঙ্গলে আসচ্ছি অথচ জানি না এমন বাড়ি আছে কোথাটা বলে আসিফ থামলো । বাড়িটার কাছাকাছি আসায় চাবুকের শব্দ যেন আরো প্রখর হলো , তারা দু জন বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করলো। ভিতরে অনেক দিন যেন কারোর প্রবেশনেই , থাকবে বা কি করে গভীর জঙ্গলে যে এত বড়ো রাজপ্রসাদ আছে তাই তো কেউ জানে না। চাবুকের আওয়াজের সাথে চিৎকার যেন বেড়ে গেলো । রজত একটা দরজা দেখতে পেলো যেন চাবুকের শব্দটা ওখান থেকে আসছে , দরজায় হাত রাখতেই ক্যাচক্যাচ শব্দ খুলে গেলো তারপর একটানে রজতের গলা পেঁচিয়ে কি যেন টেনে ধরলো , প্রাণ পন চেষ্টা করেও তখন রজত ছাড়াতে পারছে না গলা থেকে কোনো শব্দ ও বেরহচ্ছে না । আসিফ রজত কে অনেক ডাকাডাকি করছে কিন্তুু কোনো সাড়া শব্দ নেই ।

চলবে

Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!