সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে অভিজিৎ চৌধুরী (পর্ব – ১২)

না – মানুষের সংসদ

১২
কাছেই রয়েছে আম বাগান । আর সেই আমগাছে বাস করত এক শিলীন্ধ্রী । অনেকটা কাঠবেড়ালির মতন দেখতে । বাহারি লেজ আর লম্বা চঞ্চু । কাঠঠোকরার মতন ঠুকে ঠুকে গাছের ডালের ফাঁক থেকে পোকা ধরে খায় । ঘাসপোকা ছাড়া এই সভায় পোকাদের উপস্থিতি নগণ্য । তবে এতো শক্ত নাম ধরে শিলীন্ধ্রীকে কেউ ডাকে না । সবাই বলে তাকে ‘চোরপাখি’ । চোরপাখিদের বাসায় ঢোকার এক রকমের গর্ত রয়েছে । সেই গর্ত ইদানিং স্কুলের দুষ্টু ছেলেদের অত্যাচারে বারবার বুজে যাচ্ছে । পুরুষ ও স্ত্রী দুজন চোরপাখির পশ্চিম হিমালয়ের দিকে নিমন্ত্রণ ছিল । খানিকটা পথ ওরা বুধু ঘোড়ার পীঠে চেপে যেত । সেরকম কথা ছিল । সেদিন সন্ধেয় দুজনে কোটরে ফিরে এসে দেখে ওদের ৬টা ডিম ওই সমস্ত ছেলেপুলেরা ভেঙে দিয়েছে । সেই নালিশের আর্জি নিয়ে এসেছে পুরুষ চোরপাখি আর স্ত্রী চোরপাখি কোটরে রয়েছে বাকি কয়েকটা ডিম পাহারা দেওয়ার জন্য ।
ফলে টাটকা শোক থেকে চোরপাখির কণ্ঠেও প্রতিহিংসা ফুটে উঠল । সে কাছাকাছি আমগাছের ডালে ঠুকঠুক করতে করতে বলে উঠল –
মানুষদের শাস্তি দিতে হবে ।
এই প্রতিক্রিয়া সংক্রামিত হলে সভাপতি টিকটিকি সকলকে শান্ত হতে বললেন । স্ত্রী চোরপাখি দেখতে বেশ সুন্দরী । অপরূপা । ধেড়ে ইঁদুর কিছুটা হতাশ হল । সে একবার অপরূপা, সুন্দরী চোরপাখিকে চোখের দেখা দেখতে চেয়েছিল । তাই পুরুষ চোরপাখির সমর্থনে সভাপতির অনুরোধ অগ্রাহ্য করে বলে উঠল –
আমাদের গণহারে মৃত্যু হলে মানুষ বলে প্লেগ রোগ এয়েচে, তাদের জন্য হাসপাতাল রয়েছে । আর আমাদের টোপরের মতন শিশু ইঁদুরকে মারতে মানুষ খাদ্যের মধ্যে বিষ মিশিয়ে রাখে ।
মানুষের এই বর্বরতার বিরুদ্ধে সকলে সমস্বরে ধিক্কার জানাল ।
অগত্য টিকটিকি বলল,
শেয়ালভায়া তোমার প্ল্যানটা কি !
শেয়াল তখন বলল,
আমাদের পরিত্রাণ করতে পারে নদী ।
আঁতকে উঠল টিকটিকি । নদীর জলে তার খুব ভয় । সে একদম সাঁতার জানে না ।
সভাপতি বলল – নদীকে আবার ডাকা কেন ! সে কি করবে !

(চলবে)

Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!