সাপ্তাহিক শিল্পকলায় “অশ্লীল ও সেন্সরশিপের ইতিকথা -০৩”- লিখেছেন আলবার্ট অশোক (পর্ব – ১৫)

যাদের সুরক্ষার ভাবনায় ‘অশ্লীলতা’ তকমা সাঁটিয়ে নগ্ন নারীদেহের শিল্প সাহিত্যে ব্যবহার বন্ধ করতে চেয়ে সমাজ নানা কর্মকান্ড করতে চেয়েছিল, সেই নারীরা এখন অনেক সচেতন। তারা আন্দোলন করছেন এই বলে যে তাদের যোনী স্তন ইত্যাদি কোন অশালীন বস্তু নয়। তারা তাদের বক্ষস্থল উদোম করতে চান, নগ্ন হয়ে আপনার সামনে একজন পূর্ণ মানুষের স্বাধীনতা নিয়ে দাড়াতে চান। তারা সমাজের পুরুষের সাথে সমান্তরাল ভাবে চলতে চান। ইউরোপের এমনএকটি গোষ্ঠি যার নাম ফেমেন ইন্টারন্যাশনাল।
আমাদের ভারতে আক্ষরিক অর্থে হয়ত শিক্ষিতের সংখ্যা বেড়েছে, কিন্তু যাদের আমরা শিক্ষিত বলি তাদের অধিকাংশই মধ্যযুগীয় মানসিকতায় অন্ধকারে ডুবে আছে। কুসংস্কারে পরিপূর্ণ। ফলে এখানে নগ্নতা মানে কোন রাজনৈতিক শিবিরের তান্ডব চালানোর মাঠ। শিল্পী লেখকদের মৃত্যু হূমকীদেওয়ার গর্জন। এখানে পুলিশ প্রশাসন সবই রাজনৈতিক গুন্ডাদের ক্রীতদাস। সভ্যতা নেই। আছে নানা হাজারো রকমের অসভ্যতা।
পুরুষ যুগে যুগে নারীকে নগ্ন করেছে। তার দেহবল্লরী পল্লব ডাল পালা সব সুন্দর বলে গান করে গেছে। নারী পুরুষকে নিয়ে কি ভাবেতা আমরা বহুদিন জানতে পারিনি। ইতিহাসে নারী আসতে চায়নি।নারী বিলাসী প্রবণ ও বৈষয়িক ভাবনা মশগুল থেকেছে। সে এত শিল্প সাহিত্যের পুরুষের সাথে পাল্লা দিতে চায়নি তার নারীত্বের বিশেষ চরিত্রের জন্য। ঊনিশ শতকের গোড়ার দিক থেকে নারী সাহেবদের দেশে অবগুন্ঠন সরিয়ে প্রকাশ্যে এল আর বুঝিয়ে দিল দেহবল্লরীকে গোগ্রাসে নারী ও খেতে জানে। দরকার একবার তার স্বাধীনতা সমাজ তাকে ফিরিয়ে দিক।
আমাদের ভারতে, নানা সামাজিক অসুখে দুর্দশাগ্রস্থ। ভারত এই অসুখগুলির সৃষ্টি কর্তা আমাদের ভারতীয় রাজনীতি বিদ্‌গন ও প্রশাসন। শুধু ভোটে লড়ে গদীতে যাবে, তারপর লুঠতরাজ করবে। রাতারাতি বিশাল ব্যারন বা কোটিপতি হবে, সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে এই ভাবনাতাই অনেক দায়ী।আরো সোজা কথায় ভোটের রাজনীতি সরাসরি দায়ী। স্বাধীনতার সত্তর বছর হল, একটি জাতীয় রাজনৈতিক দল শাসন করেছে। নিজেরা লুটেপুটে খেয়েছে, রাজবংশ তৈরী করেছে। প্রাইভেট এন্টার প্রাইজ। তেমন এই বাংলাতে যারা দীর্ঘ সময় জুড়ে লুটে পুটে খেয়েছে, বাংলার করুণ অবস্থার জন্য তারাই দায়ী।
আজ চারিদিকে বড় বড় টাকার অংকের দুর্নীতি, লুটপাটের খবর মাধ্যমে শুনি। বেকাররত্ব। শূন্য শিল্প সংস্কৃতি। চাষীরা আত্মহত্যা করে দেনার দায়ে। ধর্ষন, শিশু নির্যাতন। নারী পুরুষ দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক খুনোখুনী, অসুখ আরো অনেক রকমের। ভাবুন কি করে নিস্কৃতি পাবেন। শিল্প সংস্কৃতি এই অসুখে প্রভাবিত ও মৃতপ্রায়।
এশিয়ার মধ্যে জাপান সবচেয়ে উন্নত। মানব সম্পদ উন্নয়নে। তাদের দেশ ঝাঁ চকচকে। অফুরন্ত কাজ পাওয়া যায়। দারিদ্রতার ছবি নেই। ওরা মুছে দিয়েছে। সবাই গূনমানে ভাল বস্তু বেচে, কেনে। উৎপাদন করে। উপভোগ করে। যৌনতা নিয়ে সেখানে কোন ট্যাবু বা অপসংস্কার নেই।তাদের দেশের সংস্কৃতিতে যৌনতাকে অপব্যবহার করেনা। খোলামেলা। হেসে উড়িয়ে দেয়। কোন লুকোচুরি নেই। আমি দেখেছি, যেসব দেশে যৌনতা কোন ভন্ডামি নয় সেই সব দেশ অনেক উন্নত।

জাপানী শিশ্ন উৎসব।

পুংলিঙ্গ বা শিশ্ন উৎসব/ চিওয়াবা মাতসুরি Chiwawa Matsuri or বা হোনেন মাতসুরি Ho¬nen Matsuri বসন্তকালের উর্বরতার এবং তাজা ফসলের (নবান্ন?)উৎসব।
বসন্তকালে, জাপানে দুটি জিনিস – মানে -দুটি উৎসব হয়, একটা হল যৌনাঙ্গ বা শিশ্ন উৎসব আরেকটা হল যোনী উৎসব। এই দুটি উৎসবের শুরু ১৫০০ বছর আগে। ভাবনা ছিল সুন্দর ফসল ক্ষেত থেকে উঠে আসবে, ও নারীর গর্ভে সুন্দর বাচ্চা আসবে। পরিসংখ্যন বলছে জাপানে জন্মহার নাকি অনেক কম। মানুষের উপায় কম  তাই ওখানে সরকার প্রত্যেক বাচ্চাকে ২৮০ ডলার মাসোহারা দেয়।
নাগোয়া Nagoya, শহর থেকে ৪৫ মিনিট, কোমাকি শহরের তাগাটা মন্দির Tagata shrine, ওখানে পুংলিঙ্গের প্রতি উৎসর্গিত এক মন্দির আছে। প্রতি বছর ১৫ই মার্চ, বাঙালির পয়লা চৈত্র, ছোট বড় সকলেই আসেন এখানে, তারা সারাদিন দেখেন বিশালাকার এক কাঠের তৈরি শিশ্নের মূর্তী, খান শিশ্নের আকৃতির নানা রকম খাবার, প্রার্থনা করেন ঈশ্বরের কাছে শিশ্নসম্পৃক্ত ইচ্ছার।
এই ঐতিহ্য শুরু হয়ে ছিল ১,৫০০ বছর আগে। এটা একটা বসন্তকালীন উৎসব, শিশ্নউৎসব বা Honen-sai Matsuri, উর্বরতা ও সুফসলের আশায় জাপানী লোকেরা করে।
প্রতিবেশি শহরে ও গ্রামে শুরু হয় স্ত্রী-লিঙ্গ উৎসব, ১৪ই মার্চ, আগের দিন  বা এর আগের রবিবারে।
এর দ্বারা বোঝা যায় দু’টো পিঠাপিঠি যৌন-উৎসব। হাইম নো মিয়াতে Hime-no-miya বিশাল আকারে স্ত্রী-লিঙ্গ মূর্তী বা যোনিবিগ্রহ বানানো হয়। এবং উৎসবে সবাই মেতে উঠেন। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা অভিভাবকদের সাথে মেতে উঠেন।‘স্বাস্থ্যবান বাচ্চা’, বড়রা প্রার্থনা করেন। সমস্ত দিন সাকে মদ বা নিহনশু Nihonshu(ভাত থেকে গেঁজিয়ে তৈরি), বিয়ার থেকে শুরু করে নানারকম যোনির আকৃতির মিস্টি, আইস্‌ক্রিম, পিঠে ও নানাখাবার খেয়ে যোনি উৎসব পালন করা হয়।
সকালবেলায় শিশুরা ছোট একটা যোনির মূর্তি ওগাটা মন্দিরে Ogata shrine নিয়ে যায় পরে বড়রা বিশাল এক যোনি ৪০জন মিলে বয়ে এক মিছিল বার করে, তার সাথে ছোট ছোট যোনি মূর্তি নানা লোকে বয়ে আনে।
দিনের শেষে গোলাপী ও সাদা রঙের মোচি mochi (আঠালো ভাতের গোলাকার দলা)ছুঁড়ে দেওয়া হয় জনতার ভিড় লক্ষ্য করে।

এই শিশ্নউৎসবে লাখ লাখ জাপানীর সাথে বিদেশিরা ও জড়ো হয়। মেলা-উৎসব ঘিরে কয়েকদিন আগের থেকেই শুরু হয়ে যায় আনন্দ, বড় বড় কাঠের লোহার তৈরি শিশ্নের মূর্তির সাথে পোজ দেওয়া। দেখা যায় তরুণ যুবক যুবতী থেকে আরম্ভ করে বুড়ো বুড়িরাও বিশাল এক শিশ্ন মূর্তী জড়িয়ে ফটো তোলার ভঙ্গিমা দিচ্ছেন। আর উৎসবের মূল ঘটনায় কোথাও ২ফুট বনাম সাড়েছয় ফুট জাপানী সাইপ্রাস Japanese cypress.কাঠে নির্মিত শিশ্নের মূর্তি বড়োরা মিছিল করছেন। মাঝে মাঝে রাস্তায় এই বিশাল শিশ্ন মূর্তি কাঁধে করে চক্রাকারে পাঁক খান, চিৎকার বা উচ্চস্বরে আনন্দ ধ্বনি তোলেন। বয়ে যায় আনন্দের হিল্লোল।এইভাবে মিছিল চলে এক থেকে দেড় ঘন্টা।
জাপানীদের কথায় (কোমাকী অঞ্চলের লোকেদের কথায় Komaki), “প্রাচীন জাপানীরা বিশ্বাস করত উন্নতি আর বেড়ে উঠার মূল হল বসুন্ধরা মা বা পৃথিবী মা, এই মাকে বাবার দ্বারা বা স্বর্গের দ্বারা গর্ভবতী করতে হবে।
লোক এখানে আসে সন্তান কামনায়, প্রতিবছরেই আসেন দূর থেকে। তারা এরপর ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানান।”
মেলা বসে, বিক্রেতারা যোনি ও শিশ্ন আকৃতির নানা ক্যান্ডি, কলার মাথায় চকোলেট ইত্যাদি খাবারের পসরা নিয়ে বসেন। কোথাও কাঠের তৈরি শিশ্ন ও যোনির খেলনা, বা ঘর সাজাবার জিনিস বা সিগারেটের ছাইদানি নিয়ে বসেন। মেয়েরা শিশ্নাকৃতির কানের দুল কেনেন। আরো কত মজার কথাবার্তা ছেলেমেয়েদের কানে কানে হয় তা কত লোক আড়ি পেতে শুনে্ন! যেসব খাবার পরাম্পরার বা ঐতিহ্যগত, বিক্রেতারা তাও বানায়। টাকোয়াকি Takoyaki (ময়দা দিয়ে বলের মত গোল করে বানায় ভেতরে একটা অক্টোপাস ভরে দেয়), ওকোনোমিয়াকি (ময়দা ও সব্জি দিয়ে), মিস্টি, ইয়াকিতোরি(কাঠিতে মুরগির মাংস),ওডেন (সব্জির নির্যাস), ইয়াকিসোবা(এক ধরণের নুডুলস্‌ ভেজে) বিয়ার, সাকে(মদ) ইত্যাদি উৎসবের অঙ্গ।
কাঠের খেলনা মত শিশ্নগুলু সন্তানকামী মানুষ যারা চাইতেন তাদের দিয়ে দেওয়া হত, তারা প্রয়োজন মিটে গেলে আবার তা ফেরত ও দিয়ে দিতেন।বা কখন নতুন কিনে দাতাকে ফিরিয়ে দিতেন। জাপানে শিশ্ন হলশক্তি ও ক্ষমতার প্রতীক, কখনো সুরক্ষার প্রতিনিধি। শিশ্ন উৎসব বড় করে প্রতিপালিত হয়, যোনি উৎসব আগের দিন ছোট করে হয়।
এসব না দেখলে বাকী এশিয়া মহাদেশের রাস্ট্রগুলু ভাবতেই পারবেনা যে আমাদের এই মহাদেশের একটি দ্বীপ দেশ জাপানে যৌনতা কত মুক্ত ও সামাজিকভাবে তার কেমন ব্যবহার।
আগে তগাটা জিণজা অর্চনাগৃহ The Tagata Jinja shrine মানুষের  আধ্যাত্মিক সুরক্ষার জন্য ব্যবহৃত হত। সমস্ত বছর জিণজা হৈচৈ মুক্ত থাকে, হয়ত কয়েকজন সন্তানকামী যুগল আসে।
এখানে সব ধরণের লোক আসে উৎসবে আনন্দে ভাসতে, কিন্তু কখনও মারামারি, বদমায়েসি ভিড়ের মধ্যে দেখা যায়না।সাকে মদ সবাইকে বিনে পয়সায় সমস্ত মিছিলে বিতরণ হয়।
কোথাও প্রতি বছর একটা বিশাল মাপের, ১৩ ফুট লম্বা, ২৮০ কেজির শিশ্ন হিনকি গাছের hinoki (cypress)  কাঠ দিয়ে বানানো হয়। বিশেষ ভাবে পুরানো আমলের যন্ত্রপাতি দিয়ে ও কায়দায় বানানো হয়। শিশ্ন পৃথিবীর সকল নারী পুরূষের ঐক্যতার প্রতীক।পুরুষেরা সাদা পোশাক পরেন, সাদা পোশাক তাদের কাছে শুদ্ধতা ও পবিত্রতার প্রতীক। যারা এই শুভ্রবস্ত্র পরিধান করেন একমাত্র তারাই শিশ্নের বিকটাকায় মুর্তী বহন করার অধিকার পান। তাদের ন্যুনতম ৪২ বছর হতে হবে। এই বয়সটাকে জাপানীরা অসৌভাগ্যের বয়স মনে করে।
মিছিলে স্থানীয় শিন্টো (শিন্টো হল জাপানীদের আদিম আধ্যাত্মিক পথ) পুরোহিতরা নানা রকম বাজনা বাজিয়ে যান আর মদ্য পরিবেশন করেন।
পাহাড়ের উপর শিমেই-শা অর্চনাগৃহ থেকে মিছিল কাঠের পুংলিঙ্গ মূর্তী পাল্কীতে (মাইকোশি mikoshi) করে কাঁধে নিয়ে বের হয় বা কুমানো শা অর্চনাগৃহ থকে পৌছোয় তগাটা জিণজা অর্চনাগৃহে।
স্ত্রীলোকেরা ছোট ছোট শিশ্নের মূর্তী বহন করে। তারা মনে করে এর দ্বারা তারা সুরক্ষিত ও উর্বর। মহিলারা ৩৬ বছর বয়সকে অসৌভাগ্যের বয়স মনে করে। তারা জিণজার কাছে মানত ও দান করেন তাদের ইচ্ছা পূরণের জন্য একে বলে এমা ‘ema’।
আমার কাছে মনে হয় সত্যি জাপানীরা যৌনাঙ্গকে অন্যদের চাইতে অধিক ভালবাসেন। তারা তাদের জীবন, স্বাস্থ্য, সুফসল ও ইতিবাচক বিষয় নিয়ে মত্ত থাকে। তারা উষ্ণপ্রস্রবন ভালোবাসে যেখানে ওরা উলঙ্গ হয়ে স্নান করে। উলঙ্গ হওয়ার লজ্জাবোধ এদের নেই।এবং তারা খোলাখুলি মনে যৌনতা নিয়ে আলাপ আলোচনা করতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক ও মধ্যবয়েসিদের মধ্যে। তারা মনে করে যৌনক্ষুধা ভাল স্বাস্থের লক্ষণ।
কানামারা মাতসুরি Kanamara Matsuri হল স্টিল-শিশ্ন শিন্টোদের উৎসব Shinto Festival of the Steel Phallus ।এটা হয় জাপানের কাবাসাকিতে Kawasaki বসন্ত কালে।এখানে একটা গল্প আছে, যে একসময় এক সরাইখানার মালিকের কণ্যার সাথে দুর্ভাগ্যক্রমে এক দৈত্য প্রেম করতে চায়,তার দাঁতগুলি খুব ধারালো ছিল। সে সেই কণ্যার যোনিতে বাসা বাধল। এবং সেই কণ্যার পুরুষ বন্ধুদের শিশ্ন কেটে দিত। তখন এক কামার স্টিল দিয়ে এক শিশ্ন বানায়, আর তাতে দৈত্যের দাঁত গুলি ভেঙ্গে যায়। সেই থেকে এখানকার শিশ্ন মূর্তী স্টিলের। মিছিল বা প্যারেড নাচ গানের তালে তালে সবাই নাচতে নাচতে দৈশা মন্দিরে Daisha Temple পৌছয়। সেখানে বিকেল থেকে নানা রকম বৈকালিক অনুষ্ঠান চলে, রাতে কাবাসাকি ক্লাবগুলিতে চলে দেদার আনন্দ উৎসব।
১৭ শতাব্দীতে গীশা Geisha ( আমাদের দেশের বাঈজি যাদের একটা সম্প্রদায় নাচ-গান করত আবার কেউ যৌনসেবাও দিত) তারা বা বেশ্যারা যৌনরোগ থেকে মুক্তি বা সুরক্ষা পেতে শিশ্নপূজা করত। কাবাসাকিতে এই উৎসব এপ্রিলের প্রথম রবিবার হয়। হনেন মাতসুরি Hōnen Matsuri । হনেন মানে হল জাপানী ভাষায় সমৃদ্ধ বছর বা দারুন ফলনের বছর. আর মাতসুরি মানে হল উৎসব।এই উৎসবের মূলই হল উর্বরতার প্রতীক শিশ্ন উৎসব।
পৃথিবীর মধ্যে জাপানের জন্মহার সবচেয়ে কম। সরকার প্রতিটি শিশুপালনের জন্য ২৮০ ডলার শিশু স্টাইপেন্ড দেয়।

 ভারতেও জাপানী শিশ্ন ঊৎসবের মতো ঘটা করে শিবলিঙ্গ, সতীর যোনী পূজিত হয়। এবং ঘটা করে।সকল ভারতীয় মানুষই জানেন তার পৌরাণিক কাহিনী। কিন্তু বলতে দুঃখ হয়, এই দেশে, ভন্ডামীর মাত্রা নারকীয় মাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। যৌনতাকে লজ্জার কারণ বানিয়ে রেখেছে। এখানকার মেয়েরা ভাবে, তার যোনী তার স্বামীকেই একবার দেবে , এবং বিয়ের মাধ্যমে। মানে তার জীবনের সখ আহ্লাদ ও দায়ভার এর মূল্য তার বিয়ে ও যোনী। বেশ্যাদের ভাবনার থেকে সে খুব দূরে নয়। সেই হিসাবে বেশ্যারা মহান নারী ও শক্ত মহিলা।বেশ্যারা স্বাধীন, তারা কোন ব্যক্তির অধীনে থাকেনা। ইচ্ছে হলে সে যৌনতা করবে নয় নয়। কিন্তু আমরা দেখি, ওশিক্ষিত ও কুসংস্কার আশ্রিত মানুষ, যুবতীরা  ভাবে, বিয়ের আগে তার যৌন সঙ্গম হলে তার বিয়ে আর কেউ করবেনা। বা কেউ তাকে বিয়ে করে ঠকিয়ে দিলে তার জীবন নষ্ট হয়ে গেল। বাস্তবে এই ভাবনার কোন যুক্তি আছে বলে আমি দেখিনি। বরং বিয়ে ভাঙ্গা মেয়েটি  জীবনে আরো পাঁচজনের চেয়ে অনন্য হয়ে বাঁচে। মেয়েদের স্বাধীন ভাবনায় সাথে ছেলেদের জীবন সম্পৃক্ত হয়ে আছে। একটা পুরুষের কাম ভাবনা তার ১২ বছর বয়স থেকেই শুরু হয়। ও হস্তমৈথুন সহ নানা উপায়ে সে তাকে শান্ত রাখে। যা মেয়েদের বেলায় তেমন সমস্যা হয়না। কিশোর বয়সের প্রারম্ভ থেকেই একটা পুরুষ, নারী শরীর নিয়ে কৌতূহলী। ফ্যান্টাসিজিং শুরু করে। পাবলিক পায়খানা বা প্রস্রাবখানায় দেয়াল ভরে কবিতা আর ছবি এঁকে নিজেকে তৃপ্ত করে।কত তরুণী, কিশোরীর নাম লিখে রাখে। যৌবনে পা রাখার সাথে সাথে কিশোর কিশোরীরা দুরত্ব তৈরী করে। যখন তখন একটি কিশোর বা যুবক তার বান্ধবীর সাথে দেখা করতে পারেনা। পাড়ার রাস্তায় কেউ কোথাও দাঁড়িয়ে গল্প করলে আকাশের হাজারটা চোখে দেখে। যেন এরকম নারী পুরুষ তারা দেখেনি কখনো। কোথাও কোথাও কিছু ম্যুরাল পুলিশ বা গ্রামবাসী  একদিন দুদিন কোন যুবক যুবতীকে একসাথে দেখলে ধরে নিয়ে গিয়ে মারধর করে, বা জোর করে বিয়ে দিয়ে দেয়। দেশে কোন আইন শৃঙ্খলা নেই। পুলিশ আরো খল নায়ক। সে নিজেও আইন জানেনা, উর্দী গায়ে চাপিয়ে মারধর করে, আকথা কুকথা, হাজার জেরা করে হয়রান করে ছাড়ে। সমাজের ৯০ শতাংশ লোক পুলিশকে তীব্র ঘৃণা করে। পুলিশ নিজেই তার অজ্ঞতার জন্য অপরাধ করে বেশি।  প্রাপ্ত বয়সের পর, বেশী বয়সে বা মধ্য বয়সে মানুষের  নানা হরমোন জাতীয় শারীরিক পরিবর্তন আসে। তার মধ্যে যৌনক্ষুধা তীব্র হয়। এই সমস্ত কিছু  মানুষের কামনা বাসনা সমাজ তার নিয়মে চেপে রাখে। মানুষের যৌনতার মুক্তি ঘটার কোন রাস্তা থাকেনা। তার উপর মানুষের নানা দৈনিন্দিন বিপর্যয়ের মধ্যে তার এই যৌনখুশীই তাকে সুস্থ রাখে। যখন মানুষ তার যৌনতাকে মুক্ত করতে পারেনা তখনই সে মরীয়া বা বেপরোয়া হয়ে উঠে। একটা মানুষকে আমরা ধর্ষক বলে চিহ্নিত করে নিজেকে সাধু প্রমাণ করার চেষ্টা করি। ৯৯শতাংশ পুরুষ, জীবনে কোননা কোন সময় ধর্ষকের ভূমিকা নিয়েছে। অহরহ সে সুযোগ পায়না বলে সাধু সাজে। এই সমাজ পুরো ভন্ড। নারী পুরুষ উভয়ই। যেই ব্যবস্থা পুরুষকে ধর্ষক বানায় সেই ব্যবস্থাকে সমুলে উৎপাটিত করার কোন চাঁদু নেই। ছেঃ! তো আমরা এমন একটি সমাজ ব্যবস্থায় শ্লীল ও অশ্লীল নিয়ে মাথা ঘামাই। প্রয়োজনকে অশ্লীল বলি।
 যেখানে লোকে নিজের শরীরকে সুস্থ রাখতে পারেনা। হাগা-মুতা, যৌনতাকে চেপে চলতে হয়, সেই সমাজ কোনদিন সুখী হয় কি করে। সেই সমাজে শিল্প বিজ্ঞান হয় কি করে? অথচ এই দেশেই কামশাস্ত্র, কোকশাস্র রচিত হয়েছিল।
ভারত একটা ভন্ড দেশ, তুলনা মূলকভাবে বলতে পারি। এখানকার রাজনৈতিক দাদারা পার্লামেন্টে বসে মোবাইল ফোনে পর্ণো ছবি দেখে, আর অন্য দিকে যৌনতার গন্ধ পাবলিকের কাছ থেকে এল রে রে করে ছুটে আসে। এখানে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক দাআরা, নেতারা, সংবিধান চ্যালেঞ্জ করে, গুন্ডাবাহিনী, মাফিয়ার মতো হুঙ্কার দেয়, হুমকী দেয়, ‘কেটে ফেলব, মেরে ফেলব, রেপ করব, ইত্যাদি ইত্যাদি’, এবং তা সত্যি করে দেখায় তাদের লোকজনদের দিয়ে। আইনশৃঙ্খলা বলে কিছুই নেই, পুলিশ দুর্বলের বেলায় অতিসক্রিয়। চালায় রাজনীতির তরজা গান। কে কাকে লজ্জা দেবে। ভারতের রাজ্যগুলিতে যৌন অপরাধে অনার কিলিং হয়। পরিবারের মর্যাদা রাখতে নিজেরাই নিজেদের আত্মীয়কে, পরিবারের সদস্যকে খুন করে। পরিবারের সম্মান বাঁচাতে পরিবারের ইচ্ছার বাইরে বিয়ে হলে খুন করে। কোন শিল্পী যৌন বিষয়ক শিল্প কীর্তি করলে তাকে হেনস্থা করা হয়। মারপিট, দাঙ্গা শুরু হয়ে যায়। কারণ আমাদের দেশের নেতারা অসভ্য জগতের। অধিকাংশ অশিক্ষিত, মধ্যযুগীয়। ভাল লোক রাজনীতির মতো অপরাধী জগতে যায়না। গেলেও তাকে সিস্টেম অপরাধী বানিয়ে ফেলে। তারা শুধু জনসাধারণের কোটি কোটি টাকা হাতড়াতে পটূ, খুন জখম কিডন্যাপিং করতে পটূ। ভারতের অধিকাংশ ভোটে জয়ী নেতার বহু অপরাধের আসামী। তাদের কেস ভারতের নানা কোর্টে কেস চলছে। টিভি চ্যানেলগুলি তার ডকুমেন্ট হাতের কাছে রেখে প্রচার করে। শিল্প সাহিত্য সৃষ্টির পথে এই রাজনৈতিক নেতারা প্রথম প্রতিবন্ধক। কারণ শিল্প সাহিত্য ১০০% শতাংশ স্বাধীন না হলে সৃষ্টি হয়না। শুধু শিক্ষাব্যবস্থা কোন জাতিকে হাতে ধরে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেনা।
সম্প্রতি, সঞ্জয়লীলা বানশালি র পদ্মাবতী নিয়ে রাজনীতির লোকেরা যা করছে তা কলঙ্ক সভ্য সমাজের। ভারত ইউনাইটেড নেশনের মানবাধিকারগুলি মেনে নিয়েছে। তারা অভিব্যক্তি স্বাধীনতার উপর কিছুই করতে পারেনা। কিন্তু দেখা গেল, পদ্মাবতী সিনেমার পরিচালক কে খুনের হুমকী, তার নায়িকার মাথার দাম ৫ কোটি, ইত্যাদি মধ্যযুগীয় খেলা চলছে। সরকার যে পার্টির সেই পার্টির নির্দেশে চলে; ফলে মানুষ ন্যূনতম নিরাপত্তাও পায়না।
অথচ এই দেশেই খাজোরাহো, অজন্তা ইলোরা, ও নানা মন্দির গাত্রে মানুষের যৌনজীবন নিয়ে সুপ্রাচীনকাল থেকেই ছবি ভাস্কর্য, সাহিত্য, নৃত্য ইত্যাদি নানা কলা প্রদর্শিত হচ্ছে। আমরা হতাশ, স্বাধীনতার পর থেকে। ভারতের অবস্থা করুণতম। আমরা ভালই ছিলাম বিদেশীদের শাসনে। এত সঙ্কট ছিলনা।
আমাদের দেশে লিংগ পূজা হয়, ধূমধাম করে, নানা রীতি করে, যোনীপূজা হয় ধূমধাম করে। অথচ এখানেই বজ্জাত কিছু ধান্ধাবাজ, রাজনীতির গাধা ঘোড়ার মিশেল, বদমাস, শিল্প সংস্কৃতি নিয়ে শুচিবায়ু রোগগ্রস্থ।মজার ব্যাপার হল, উপর তলাতে (ক্ষমতাবানদের জন্য, যাদের টাকার জোর, রাজনৈতিক সংযোগ আছে, বা জনপ্রিয়তা আছে) তাদের জন্য সামাজিক আইন একরকম, আর নীচের তলায় দুর্বলদের জন্য অন্যরকম। ফলে সাধারণ মানুষ মরীয়া ও হতাশ। তারা থানা আক্রমন করছে, পুলিশকে মারছে, সুযোগ পেলে যা খুশী তা করছে। একটা নৈরাজ্যময় দেশ। বিশেষ করে এই বাংলা। এগুলি শিল্প সংস্কৃতির গলা টিপে ধরছে। মানুষের সুন্দর মনকে বিষিয়ে দিচ্ছে। একটা দুটো শিল্পী বা ব্যতিক্রমী জন্মায় তবু এই আবহাওয়াতে, কিন্তু হতাশ হয়ে সুযোগপেলেই বাংলা ছেড়ে পালায় অন্য রাজ্যে।শিল্প সংস্কৃতির প্রথম জমি হল তার দেশ, তার রাজ্য। শিল্পী যে জমিতে দাঁড়িয়ে আছে , সেই জমি তাকে পুলকিত করে , উত্তেজিত করে প্রথম। তারপর শিল্পী প্রতিক্রিয়া করে। আপনি খেতে পাবেননা, আবর্জনার মধ্যে একটা বিস্কুটের টুকরা দেখে আপনার লোভ জাগবে, এই নোংরা বস্তুটি আপনার পেটের দাহন নেভাতে পারে কিঞ্চিৎ। এরকম হলে আপনার শিল্পের ভাবনা মনে আসবে?, আসলেও কোথায় আপনার ভাবনা ফলাবেন? হাওয়াতে?
না, সুন্দর একজায়গায় গেছেন, দৃশ্যটি মনোরম, আপনার পেটে বা পিঠে কিছুর ভাবনা নেই , মন বলছে, দৃশ্যটির সাথে কাল্পনিক কিছু ভাবনা মিশিয়ে পরিবেশন করলে আরো কিছু মানুষ খুশীটি ভাগ করে নিতে পারে।
সামাজিক বিপ্লব  ও রাজনীতি আমাদের প্রতিবারই ঠকিয়েছে। নেতা আমরা যাকেই তৈরী করেছি, সেই আমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এখন এমন একটা সময়, আপনার মন যেই কাজটা করে আপনাকে সামাজিক নিরাপত্তা দেবে, তার দিকেই ঝুকুন। আপনার মন আপনার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলেও আপনার যদি তার্গেট থাকে সামাজিক কল্যাণ তাহলে আপনার ভুল সিদ্ধান্ত অচিরেই শুধরে আসবে। আমরা সবাইকে আমাদের সামাজিক পরিবেশটাকে নিরাপত্তা দিলে, চলতি বিষাক্ত রাজনীতির দলগুলি বর্জন করে আমাদের নিজেদের বিচার ও ভাবনা ধরে এগুলে, আশাকরা যায়, নৈরাজ্য থেকে কিছু উপশম হতে পারে।
আমরা প্রতিটি এলাকায়, পাড়ায়, চলুন, অব্যবহৃত লাইব্রেরীগুলিতে গিয়ে বসি। নিজেদের মধ্যে আলোচনা করি অরাজনৈতিক। মন্দ কাজ যিনিই করুন তাকে লজ্জা দিই। যিনিই দলবাজী করবেন, তাকে চিহ্নিত করি ও লজ্জা দিই।  ক্লাবগুলি শিক্ষা ও সংস্কৃতির জন্য ব্যবহার করি। সেখানে নিয়মিত, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড করি। ছোট ছোট, নাচের, গানের, নাটকের ইত্যাদির ইভেন্ট করি, মহড়া দিই। রুটিন করে প্রত্যেক বাড়ির সদস্যদের নিয়ে আসি সপ্তাহে একদিন একঘন্টার জন্য ক্লাবে। ছবি ও ভাস্কর্যের প্রদর্শনী করি। যিনি এসব কাজে উৎসাহ দেখান তাকে পুরস্কৃত করি।
আমার প্রস্তাবটুকু বাস্তবায়িত করার কোন প্রতিবন্ধকতা নেই। আছে শুধু আপনার মাইন্ডসেট বা মানসিকতা। আপনি আপনার এটুকু সামাজিক দায় যদি না পালন করতে পারেন তাহলে আপনি কিসের সমাজবদ্ধ জীব? অসামাজিক ও সমাজের ক্ষতিকারক উপাদান নন?
শ্লীল অশ্লীল বিচার খুব শক্ত। মানুষের আচার উৎসবকে অশ্লীল বলব? মানুষের নিত্য প্রয়োজনকে অশ্লীল বলব? জৈবিক দাবিকে অশ্লীল বলব? শিল্প সাহিত্যকে অশ্লীল বলব?
 পাঠক আপনি উত্তর দিন।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।