Cafe কলামে – আত্মজ উপাধ্যায় (পর্ব – ১৫)

বিবাহঃ নারী পুরুষের যৌনমিলনের অনুমতি? – ৫

আমরা কি বিবাহের খোলনলচে পালটে অধিক স্বাধীনতা নরনারীকে দিতে পারি?
হ্যাঁ, নিশ্চয়ই ভাবতে পারি ও দিতে পারি। কারণ এই প্রতিষ্ঠান ৪৫০০ বছরের পুরাণো,  এই কয় বছরে পৃথিবীর বহু পরিবর্তন হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠান মানুষের তৈরি, মানুষের শৃংখল। একধরণের সামাজিক আইন। আইন সমাজের  সময়ের সাথে চলে.৪৫০০ বছর আগে যে সমাজ ছিল আজ সেই সমাজ নেই। সুতরাং খোলনলচে প্রয়োজনে পালটানো দরকার ও সম্ভব।
লিংগ সম্পর্কের প্রয়োজন ও আমূল পাল্টানোর কারণঃ
বিয়ে দুই বিপরীত লিংগকে সন্তান জন্ম দেওয়া ছাড়াও নানা সাহায্যের জন্য পারস্পরিক বোঝাপড়া দেয়, যাতে জীবন মসৃণ হয়। বিয়ে ছাড়া  সন্তানকে দায়িত্ব নিয়ে বড় করে গড়ে তোলা অসম্ভব। সন্তান শুধু বার্ধক্যে অবলম্বন নয়, সম্পত্তির উত্তরাধিকারীও বটে, এছাড়া মানুষের মানসিক আবেগ ও সুখ।
 সারা পৃথিবীতে বিয়ের হাজার রকম প্রথা রয়েছে। প্রায় সব প্রথাই বিয়ের মাধ্যমে পরাধীন বানিয়ে ফেলে, যে পরাধীনতা আজকের দিনে মনে হয় ব্যক্তি জীবনকে বাড়িয়ে মানবিক উৎকর্ষে যাওয়ার পথে বাধা। যেমন ধরুন একজন বিবাহিত মহিলা স্বপ্ন দেখতেন, তিনি গান নিয়ে বেড়ে উঠবেন, সংসার নাকি তার পথের বাধা। বা তিনি কপাল চাপড়ান এই বলে, তার স্বামী তাকে কিছু করতে দেয়না।
ঠিক উল্টোদিকে, স্বামীরও ধরুন ভ্রমণের সখ, কিছুতেই সেই সখ পূরণ করতে পারছেননা, কারণ, তাকে সংসার চালিয়ে, পরিবারের সকলের সাথে থাকতে গিয়ে কোথাও যেতে পারছেননা, টাকাপয়সা জমাতে পারছেননা, তিনি মুক্ত থাকলে করতে পারতেন।
এরকম বহু বিষয় আছে, চলিত বিয়ে প্রথা মানুষের কাছে দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠছে। এর থেকে মুক্ত হওয়ার আগে চলুন দেখি পৃথিবীর জনগণের অবস্থা ও বিয়ের মূল শ্রেণিগুলিতে লাভলোকসান কি চলছে।
পৃথিবীর জনগণের অবস্থা ও বিয়ের মূল শ্রেণিগুলি
বর্তমান মার্কিন আদমশুমারি ব্যুরো বিশ্বের জনসংখ্য ২০২০ সালে পৃথিবীতে জনসংখ্যা  ৭,৮৩০,১৯০,০০০ জন অর্থাৎ৭৮৪ কোটি প্রায়। ধর্মীয় ভাবে নানা শৃংখলা বিবাহ ঘিরে। মানুষের মধ্যে কত রকম  ধর্মীয় বিভাগ বা শ্রেণি আছে? নারী কত পুরুষ কত? এবং তাদের মধ্যেকার ধর্মীয় বিভাজন কত? তারা কি কি সুবিধা অসুবিধা ভোগ করেন?
যদিও ধর্মীয় জনসংখ্যা বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে সংখ্যার তারতম্য তবু ধরা যায়, মোটামুটি  খ্রিস্টান, মুসলমান, ও হিন্দু এই ৩টি বড় সংখ্যক।
খ্রিস্টান – ২৩৮কোটি  (২,৩৮০,০০০,০০০)
ইসলাম – ১৯১কোটি (১,৯১০,০০০,০০০)
হিন্দু ধর্ম – ১১৬কোটি (১,১৬০,০০০,০০০)
বৌদ্ধধর্ম – ৫০কোটি (৫০৭,০০০,০০০)
লোক ধর্ম – ৪৩ কোটি (৪৩০,০০০,০০০)
অন্যান্য – ৬কোটি ১০ লক্ষ (৬১,০০০,০০০)
আনএফিলিটেড– ১১৯কোটি (১১৯০,০০০,০০০)
এছাড়া নাস্তিক আছে যথেষ্ট- ৫০ থেকে ৭০ কোটি।
বিবাহ নিয়ে এদের নানা আচার ও নিয়ম আছে। বহু ধর্মে বহু বিবাহ প্রচলিত, বহু রাস্ট্রে ধর্মীয় শাস্ত্র হল আইন। মুসলিমদের মধ্যে পুরুষেরা ৪জন স্ত্রী অবধি রাখতে পারেন। এছাড়া নানা উপজাতিদের মধ্যে নানা বিবাহের সংস্কৃতি। প্রায় ধরে নিন ২০০ কোটির মত মানুষ বহুবিবাহ করে জীবন যাপন করে। আর বাকী ধর্মের মধ্যে লুকিয়ে চুরিয়ে নারী পুরুষ একসাথে বা একসাথে না হলেও একাধিক বিবাহ বা যৌনজীবনে অভ্যস্ত। তাহলে লুকিয়ে চুরিয়ে একাধিক যৌনজীবনের বাসিন্দা ধরুন ১০০ কোটি।মোট ৩০০ কোটি, মানে প্রায় অর্ধেক লোক যৌনজীবনের মজা নেয়, এবং তাতে সামাজিক কোন বাজে , মন্দ প্রভাব নেই। অথচ সরকার প্রতিটী রাস্ট্রের বড় নজরদারী করে ও পুলিশকে ঘুষ খাওয়াবার বন্দ্যোবস্ত করে রেখেছে। এঈ সামাজিক আচরণ বা পদ্ধতি কি ঠিক? বয়েসও অনেক ফারাক নিয়ে আসে বিবাহে। ১২ বছর থেকে পরাম্পরায় ও সরকারি ১৮ বছর বয়েস (মেয়েদের) মান্যতা থেকে বিয়ে দেখা যায়, যারা অল্প বয়েসে বিয়ে করে তাদের জুটি আর যারা ৩০ বছরের (মেয়েদের) পরে বিয়ে করে তাদের জুটি অনেক ইতিবাচক ও নেতিবাচক দাম্পত্য হয়। শহরের ও গ্রামের, শিক্ষিত ও অশিক্ষিতদের মধ্যে, দুটি ধর্মের মধ্যে, আর্থিক দুই শ্রেণির মধ্যে বিয়ে নানা জটিলতা ও নেতিবাচক জীবন তৈরি করে। যেখানে নারী পুরুষ একে অপরের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করে, অভিযোগ আনে।
ভারত সহ বহু দেশে, বিয়ে যত সহজে অনুষ্ঠিত হয় বিচ্ছেদ তত কঠিন ও জটিল প্রক্রিয়া আইন ধারণ করে। বিয়েতে পণ কোন দেশে মেয়েদের বাড়ি থেকে, কোথাও ছেলেদের বাড়ি থেকে নেওয়া হয়। আর দাম্পত্য জীবনে বনিবনা না হলে বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে খরপোষ দাবি একচেটিয়া ছেলেদের ঘাড়ে এসে চাপে। সর্বত্র আইন মহিলাদের পক্ষে সৃষ্টি করা।
সব মহিলা বিয়ের পর ঘর কন্নার কাজে করেনা। মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তদের মধ্যে  ঘরের কাজ করার জন্য পরিচারিকা থাকে, বৌয়েরা শুধু সুখভোগের জন্য, ফুলদানিতে সুন্দর ফুল হয়ে শোভা বাড়াবার (?) জন্য।

বিবাহ প্রথা উচ্ছেদ করে, নতুন নিয়মে, কাজ ও পছন্দ নির্ভর করে,মাইনে/ বেতন দিয়ে পুরুষ/মহিলা-শ্রমে বিবাহ পর্যবসিত হলে সমাজের অনেক নরনারীর যৌন বিবাদ মুছে যাবে। নরনারী হবে পেশাদার স্বামী ও স্ত্রী। প্রতিটি মানুষ অধিক স্বাধীননিজের জীবনকে নিজের মতো করে পাবে
এই নিরিখে মহিলা শ্রম কত হতে পারে তার হিসাব।
২০১৬তে বিবিসিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে (The value of unpaid chores at home By Kevin Peachey, Personal finance reporter) বলা হয়েছে মহিলারা বা যারা ঘরোয়া কাজ কর্ম করেন, তাদের শ্রমের মূল্য কত হওয়া উচিত?  যেমন রান্নাঘরের কাজ, ঘর ঝাড়্যদেওয়া, মোছা, বাচ্চা সামলানো,পরিবারে বয়স্কদের সেবা, বাগান দেখাশুনা, ছোটখাট মিস্তিরী গিরি করা , বাজার করা ইত্যাদিতে  বাৎসরিক মাইনে – ২০১৪ সালের সমীক্ষা অনুযায়ী ৩৫-৪০ হাজার পাউন্ডের মতন (£38,162 per UK household over the course of a year.) এবার সেখানকার লোকেদের গড়ে বাৎসরিক আয় ও  তেমন অর্থাৎ একজন সাধারণ লোকের আয় বছরে ৩৫-৪০ হাজার পাউন্ড। (সূত্রঃ findcourses.co.uk)
মোটামুটি এই হারে ( এটা অর্থনীতিবিদ্‌দের তৈরি করা , সূত্রঃ economictimes.indiatimes)
Essential expenses: 60% of the income
প্রয়োজনীয় ব্যয়: আয়ের ৬০%  প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ব্যয় করা উচিত।
Food and groceries: 18.8% খাদ্য ও মুদিগুলি: ১৮.৮%:
Healthcare (including insurance): 4%:স্বাস্থ্যসেবা (বীমা সহ): 4%:
Life insurance: 3% জীবন বীমা: 3%:
Housing: 20% আবাসন: 20%:
বাকী ৪০%
Utilities: 4% ইউটিলিটিস: 4%:
Education: 6% শিক্ষা: 6%:
Transport: 8%: পরিবহন: 8%:
প্লাস
Clothing: 7% পোশাক: 7%:
প্লাস
Savings: 20% should be invested for financial goals
সঞ্চয়: 20% আর্থিক লক্ষ্য জন্য বিনিয়োগ করা উচিত
প্লাস
Discretionary items: 20% বিচক্ষণ আইটেম: আয়ের 20% বিবেচনামূলক
Entertainment:  3% বিনোদন: 3%
Communication (including TV, internet):3% যোগাযোগ (টিভি, ইন্টারনেট সহ): 3%
ভারতের আয় গড়ে মাথা পিছু কমবেশি ৩০,০০০ টাকা ধরা হচ্ছে।
সেই হিসাবে ২০২০ সালের নিরিখে একজন মহিলার সংসার সামলানোর মাইনে ৩০ হাজার টাকা।(বাস্তবে কলকাতার লোকেরা, ৬০ শতাংশ ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা উপায় করে সংসার চালায়) সে এই টাকা তার পরিবারের পিছু উপরোক্ত খরচ বিভাজন করে কত টাকা বাঁচাতে পারে সেটা হবে তার ডিভোর্সের সময় পাওনা। বা চুক্তিবদ্ধ বিয়ে করলে পাওনা নাও হতে পারে।

চলবে

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।