T3 || স্তুতি || শারদ বিশেষ সংখ্যায় দেবারতি গুহ সামন্ত

আকাশের কাশফুল
আকাশের বুক যখন
দু হাত দিয়ে চিড়েছিল মেঘ
অঝোর ধারায় গড়িয়ে পড়ছিল
নোনতা স্বাদের জল।
প্রচন্ড আওয়াজে কান পাতা দায়,
তবু তারই মধ্যে দুলে উঠছিল
নরম সাদা শরীর,
হতাশ হচ্ছিল মেঘ!
সব পন্ড করার উদ্দেশ্য অসফল হচ্ছে
আক্রোশে চিৎকার করে উঠল মেঘ
তাতে ভারী বয়েই গেল শুভ্র কাশফুলের,
যে আসার সে তো আসবেই!
আকাশের বুকে।।
পুজোর গন্ধে
চাঁদের আলো ঝলমল করছিল
বেগুনী জামায়,নীল ওড়নায়,
পুজো পুজো গন্ধে আনন্দঘন্টা বাজছিল,
মনের কোনে,খোলা বারান্দায়!
বিশ্বকর্মার মূর্তিতে আলোর ছটা,
ঠিক যেমন অরন্ধনের পান্তার থালায়,
আকাশে রঙবেরঙের ঘুড়ি,সুতোর কাটাকুটি,
ঘুমন্ত উনুনে স্নেহ মাখা জলছাপ।
আর কটা দিন পরেই পুজো,
বেগুনি জামা তোলা থাক ট্রাঙ্কে,
ন্যপথলিনের সাদা আদরে বন্দী হয়ে,
শুধু মনটা মিশুক শরতের কাশফুলে!
মা দুর্গা হেরে গেছেন
রাবন ও দুর্যোধনের বাক্যালাপে,
কিছু চটুল রসিকতা,কিছু বিকৃত হাসি,
পাশে পড়ে আছে সুরা,সোমরস,
মদিরায় মগ্ন ওরা,দৃষ্টি লোভাতুর!
বন্দী সীতা,অসহায় বিবস্ত্র দ্রৌপদীর কান্না,
ওদের নির্লজ্জ অট্টহাস্যে চাপা পড়ে যাচ্ছে,
সূচনা হচ্ছে রামায়ন মহাভারতের যুদ্ধ,
সঙ্গ দিচ্ছে বীর হনুমান,সখা কৃষ্ণ।
ওদেরকে ছাপিয়ে যাচ্ছে মহিষাসুরের গর্জন,
তাচ্ছিল্যের সাথে পায়ের নীচে পিষছে নারীজাতিকে।
নিরুপায় ব্রহ্মা,বিষ্ণু,মহেশ্বর
তড়িঘড়ি জন্ম দিলেন অসুরনাশিনী মা দুর্গার!
বেজে উঠল শঙ্খধ্বনি,
পুষ্পবৃষ্টিতে ঢেকে গেলেন মা দুর্গা,
ভালো করে তাকিয়ে দেখো,
দুর্গা নন,দুর্গারা,হাতে ঝকঝক করছে খড়্গ।
যুদ্ধ হচ্ছে,ভীষন যুদ্ধ,
নমনীয় হাতে আজ উঠেছে অস্ত্র,
ভেঙে গুড়িয়ে দিচ্ছে যাবতীয় অহংকার,
পিছু হটছে রাবন,দুর্যোধন,মহিষাসুর,
হাসছে সীতা,দ্রৌপদী,দুর্গা।
হায়,তবু কেন কাঁদছে ওরা?
ওই তিলোত্তমা,নির্ভয়া,কামদুনির মেয়েরা,
কেন কাঁদছে পাঁচ বছরের অবুঝ শিশুটা?
তবে কি ওই রাবন,দুর্যোধন,মহিষাসুর ফিরে এসেছে??
হেরে গেছেন মা দুর্গা!
মা কালীর রূপ ধারণ করেও হেরে গেছেন!!