T3 || সমবেত চিৎকার || বিশেষ সংখ্যায় মৌ চ্যাটার্জী ভট্টাচার্য্য

রেখে গেলাম
জীবন রে, ও জীবন
মাঝে মাঝে বড় কষ্ট হয় রে–
কিছু টুকরো স্মৃতি, কিছু প্রিয় মুখ,
হাতড়ে ফেরা কিছু হারানো ঠিকানা-
সময় যে আর কখনো ফেরেনা!
দুরন্ত গতিতে এগিয়ে চলা সময়ের কাঁটা,
রোজই নতুন করে জেতার জন্য
খুঁজে ফেরা সেই চেনা রাস্তাটা–
মূল্য কি আছে বল তো মন?
খড়কুটো দিয়ে সাজানো ঘর,
অলীকের পিছে ছুটে চলা জীবন ভর-
শূন্য খাতায় বৃথাই কিছু আঁকিবুকি কাটা।
হয়তো বলবি,”ভালবাসা, বিশ্বাস, বন্ধুত্ব?”
মিথ্যে এসবই জেনেছি এখন,
ঠকতে ঠকতে দেওয়ালে ঠেকেছে পিঠ,
বুঝেছি পলকেই খোলা যায় মা’র আঁচলের গিঁট।
এক পলকেই মুছে যাওয়া, রঙহীন ধূসর-কুয়াশা,
নিভন্ত দীপশিখা বিষন্নতায় মোড়া অসীম হতাশা।
জানি আবছায়া মায়া সবই কায়াহীন,
তবু রয়ে যায় পিছে কিছু ঋণ,
সবই কি শোধ হয় এক জীবনে রে?
প্রতিশ্রুতির পাহাড় জমে জীবনের প্রতি বাঁকে-
আজকাল শব্দগুলো নিঃশব্দে ব্যঙ্গ করে
আমার তুচ্ছ মরে যাওয়া আমিটাকে।
জীবন রে, কতো কিছু কল্পনায় ভেবে
শুধু শুধু চোখের জলে রঙ মেশালি।
বড্ড অভিমানী রে তুই,
তেমন করে একটিবারও ডাকলি আমায় কই!
একটা গোটা জীবন তলিয়ে গেল কালের গর্ভে,
থামাতে পারলি বুঝি তুই?
তাকিয়ে দ্যাখ ফুটছে ফুল, সবুজের রেশ
শত কষ্টের মাঝেও লাল নীল ফুলরেনুর দেশ।
হারানো দিন, হারানো সময় ছোঁয়া যায় না তো আর।
নেই কোনো অবকাশ শুধু ফিরে দেখবার,
তবু; যা গেছে তাকে উড়িয়ে দিই কিকরে অক্লেশে!
ছাই হয়ে পড়ে থাকে মুহূর্তের কিছু অবশেষ,
বিচারের প্রহসনে ছায়ামাখা মনখারাপের বেলা,
নিজেকে বার বার বলা,”ভালো আছি এই বেশ।”
তোর স্মৃতির পাতায় তবু থেকে যাবো আমি-
ঝলমলে দিনের কতো স্মৃতি-
কোনটায় রঙিন আমরা সবাই,
কোনটায় মলিন চাদরে মোড়ানো ব্যস্ত শহর,
কোনটায় মেঘলা আকাশ দুফোঁটা বৃষ্টি,
কোনটায় সূর্য ওঠা সোনালী ভোর।
সময়ের অন্ধগলি, আলো আঁধারি,
নেই অধিকার থামবার,
শুধু পিছু ফিরে দেখা বার বার–
একবার আরো একটিবার,
তোর আর আমার যতো টুকরো কথা…
সময় এসেছে এইবার হাত ছেড়ে, হারিয়ে যাবার।