শহিদ ভগৎ সিং চরিত
নবম অধ্যায় || প্রথম পর্ব
বায়োস্কোপওয়ালা, তার বাক্সের হ্যাণ্ডেল ঘোরাচ্ছে;ছেলের দল তন্ময় হয়ে বাক্সের ভিতরে চলা ছবির রিল দেখছে;ছবির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বায়োস্কোপওয়ালা বিবরণ দিয়ে চলেছে।
“১০ই জুন,১৯২৯ সাল,সেশন কোর্টে বিচার শেষ;ভগৎ সিংও বটুকেশ্বর দত্ত দোষী সাব্যস্ত হয়েছে;জীবন-ভোর কারাদণ্ড। 12ই জুন,ভগৎ সিংকে,পঃ পাঞ্জাবের মিয়ানওয়ালি জেলে,আর বটুকেশ্বরকে লাহোরের সেন্ট্রাল জেলে পাঠানো হয়েছে। এবার লাহোরের অতিরিক্ত পুলিশ- সুপার হত্যার মামলা শুরু হল; অভিযুক্তের তালিকায় ভগৎ সিংও রয়েছে,রয়েছে রাজগুরু,সুখদেব,আজাদ ও জয়গোপাল।এই জয়গোপালই পরে রাজসাক্ষী হয়ে পুলিশের কাছে সব ব্যক্ত করে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায়1914-1915 সালে,গাদার পার্টির সদস্যদের বিচারের জন্য যেমন Defence of India Rules 1915 অনুসারে SpecialTribunalগঠন করা হয়,একই ভাবে ইমারজেন্সি ঘোষণা করে, Special Ordinance ||| of1930 অনুসারে Special Tribunal গঠন করা হল; গাদার সদস্যদের বিচারের মতই 6মাস বিচারের সময় কাল নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়,অর্থাৎ ঐ সময়কালের মধ্যে বিচার পর্ব শেষ করতেই হবে।লোকের মুখে মুখে এ বিচার পদ্ধতি ঘুরছে,’na vakeel, na daleel,na apeal'(Sans Counsels,Sans Pleading,Sans Appeal); বিচারের আগেই শাস্তির ব্যাপারে মনস্থির।”
“৬ই মে,Tribunal,সমস্ত অভিযুক্তদের বিচার- সভায় হাজির থাকার নির্দেশ দিয়েছে।এদিকে,আজাদের নেতৃত্বে তৈরী হচ্ছে বোমা।”
“দিল্লিতে ভাইসরয়ের ট্রেনে বোমা ফেলার সময় অনেক বোমার খালি খোল মজুত করা রয়েছে,তাই দিয়ে বেশ কিছু বোমা তৈরি হল।1লা জুন, 1930 তারিখে ভগৎসিংদের জেল থেকে উদ্ধার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।”
“উদ্ধার পর্বের কিছুদিন আগে (28মে),ভগবতীচরণ ও অন্যান্যরা, লাহোরের zakira’র গভীর অরণ্যে রাভি নদীর ধারে বানানো বোমা পরীক্ষা করতে গেলে,হাতেই তা ফেটে যায়;ভগবতীচরণ মারা গেল,সুখদেবও ভয়ানক ভাবে আহত।এভাবেই ‘Philosophy of Bomb’এর লেখকের অপমৃত্যু ঘটলো।কেবল আজাদ রয়েছে জেলের বাইরে। সকলকেই রাজনৈতিক বন্দীর সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।HSRA’র প্রায় সবাই জেল- বন্দী;বোমা তৈরির সব আস্তানা পুলিশের দখলে,তাই বিপ্লবী কাজ – কর্ম প্রায় একরকম বন্ধ।জয়গোপাল ও হংসরাজ,সব গোপন ঘাঁটি ও কথাবার্তা, পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিতে প্রকাশ করেছে; প্রায় সবাই এখন জেলে। রাজনৈতিক বন্দীর মর্যাদার জন্য চলছে অনশন;সরকারের কোন হেলদোল নেই; অবশ্য শেষের দিকে জোর করে খাওয়ানোর চেষ্টা চলেছে,কিন্ত বাংলার বোমা তৈরির মাষ্টারজি,যতিন্দ্রনাথ দাসকে খাওয়াতে ব্যর্থ হয়।বিপ্লবী যতিন্দ্রনাথ দাস,63দিন অনশন.চালিয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে শহীদের মর্যাদা লাভ করলেন।”
চলবে