ক্যাফে ধারাবাহিক উপন্যাসে উজ্জ্বল কুমার মল্লিক (পর্ব – ২৭)

শহিদ ভগৎ সিং চরিত

অষ্টম অধ্যায় || তৃতীয় পর্ব

কাহিনীকার বলে চলেছে –
“ভগৎ সিংজি আরো বলেন, ‘আমরা মানুষের জীবন পবিত্র বলে মনে করি; তাই, যারা আমাদের গায়ে সন্ত্রাস- বাদী তকমা লাগাতে তৎপর, তাদের উদ্দেশ্যে বলি, ইতিহাসের চাকা পিছনে টানবার চেষ্টা করবেন না; ফরাসী বিপ্লবের ভয়াবহ দিনগুলো কল্পনা করার চেষ্টা করুন; রুশ- বিপ্লবের কথা তো আজ আর কারও অজানা নয়! বিপ্লবের পথেই কেবলমাত্র সমাজতন্ত্র আনা সম্ভব; মহামতি লেনিনের দেখানো পথেই মানব- মুক্তি ঘটবে; দেশের যুব- সমাজই কালে, কালে রক্ত ঝড়িয়ে
পৃথিবীকে মানুষের বসবাসের উপযুক্ত করেছে। হে যুব সমাজ! মনে রাখবে, বিপ্লব একদিনে ঘটবে না, বছরের পর বছর, এ প্রচেষ্টা চলবে; লক্ষ্য স্থির করতে হবে,  নৌ- জোয়ান সভার   উদ্দেশ্য ঘোষণা কালে যে তিনটে ‘এস’র কথার উল্লেখ করা হয়েছে, তার উপরই নির্ভর করে নিজেকে গড়তে হবে (Service, Suffering and Sacrifice) , তা যদি না পারো, তবে  বিপ্লব, বিপ্লব খেলো না; প্রকৃত বিপ্লবীদের অসম্মান করার অধিকার তোমার নেই। বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক’। “
কাহিনীকার বলছে, “সেশন
কোর্টে, ভগৎ সিংজি’র দেওয়া
ষ্টেটমেন্ট, কেবলমাত্র হাভানাতে, জুলাই মাসে, 1953 সালে, Moncada Garrison Attack Trialএ ফিডেল কাস্ত্রোর  দেওয়া ষ্টেটমেন্ট ‘History Will Absolve Me’ এর সঙ্গেই তুলনীয়; এক ঐতিহাসিক দলিল হয়ে রইলো। “
“কোর্টের বিচারক পর্যন্ত দুই বিপ্লবীর প্রশংসা করেছেন, প্রকৃত বিপ্লবী আখ্যা দিয়েছেন, উদ্দেশ্য যে মহৎ তার সাথে সহমত হয়েছেন, যদিও তা ‘illusion’বলেছেন। লর্ড আরউইন
(Vice- Roy) পর্যন্ত ওদের প্রশংসা করেছেন, বিপ্লবীদের উদ্দেশ্য কোন ব্যক্তি- বিশেষের বিরুদ্ধে নয়, প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তাঁরা যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। এ সব বক্তব্যের পরও আমাদের অহিংসা ধ্বজাধারী, ওঁদের সন্ত্রাসবাদী, ওরা পাগল ইত্যাদি বলতে পিছপা হননি। ওঁনার কথাবার্তা যে মূল্যহীন, তা আজ ইতিহাস স্বীকৃত; ওঁনার অনুসরণকারীরা, আজ অহিংসাকে কুলুঙ্গিতে রেখে,দেশে
প্রতিবাদীদের  রক্তের হোলি খেলে।বিপ্লবীদের উদ্দেশ্য সফল হয়েছে। দেশের যুব- সমাজ উদ্দীপ্ত হয়েছে। ‘Inclub, Zindabad’দেশের কোনে, কোনে
উচ্চারিত। কেবলমাত্র, দক্ষিণপন্থী
হিন্দু- মহাসভা ও সাভারকারের
দল, কখনও এ স্লোগান উচ্চারন করেনি। গান্ধীজি’র কথা, ‘the youth should not follow Baghat Sing’s path’,দেশের যুব-
সম্প্রদায়ের মনে কোন ছাপ ফেলেনি;তাই তাঁকে বিদেশী সরকারের পৃষ্ঠ পোষকতায় ও প্রচারের সাহায্যে, আন্দোলন, আন্দোলন খেলা চালাতে হয়েছে। বিরোধী সুভাষবাবুকে দল থেকে বহিস্কৃত করে নিজের আখের গোছাতে হয়েছে। মাত্র ছ/ সাত বছরের রাজনৈতিক জীবনে, গান্ধীজির প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে, জন প্রিয়তায় তাঁকে পিছনে ফেলেছেন; না, এ কথা, অন্য কেউ নয়, গান্ধী জির পরম ভক্ত, সীতারামাইয়া, এ উক্তি করেছেন। দেশের আপামর অচ্ছুৎ-শ্রেণীর  নয়নের মণি হয়ে  রইলেন চিরকাল।
চলবে
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।