T3 || আমার উমা || বিশেষ সংখ্যায় উপমন্যু মুখার্জি

দুর্গা তার নাম
দুর্গা তার নাম
টেবিলেতে বসি দুপুরের ভাত,
পাত পরে আমার অন্য এক হাত।
শুধাই তারে আমি, দুর্গা কোথায়?
এলো না?
না বাবু আসে নাই আজ,
একটিই জামা তার শতচ্ছিন্ন
ঢাকে না যে লাজ।
তরুণীর আনন্দ তরুণীর চপলতা,
দোষ খুঁজি পুরুষেরা
খুঁজি অসফলতা।
জীবন যে কৌতুক
হেরে যাওয়া মেয়েরা
পণ্যের যৌতুক।
হ্যাঁ, দুর্গা তার নাম।
হ্যাঁ রে, তোর বয়স কত?এক কুড়ি পার?
আরে দুর্গার মা দেরি কোরোনাকো আর
দিয়ে দাও বিয়ে
হাতে আছে পাত্র ভালো,
যদিও দুই বাচ্চার বাপ
কি আর যায় করা,
মন তো অনেক ভালো।
রাস্তা দিয়ে চলা মেয়েটা
দৃষ্টি বহুজনের,
তাই বিয়ে হওয়া ভালো, পাত্র যাই হোক
ভোগ্যপণ্য একজনের।
হ্যাঁ, হ্যাঁ দুর্গা তার নাম।
শূর্পণখারা ভালোবাসতে চায়
ভালোবাসতে যায় এক মন নিয়ে,
সমাজের লক্ষণরা মান রাখে পুরুষত্বের
তাদের নাক কেটে দিয়ে।
কি অদ্ভুত সিস্টেম, অদ্ভুত বাতায়ন,
আধুনিক সমাজেও বেশ চলে রামায়ণ।
হ্যাঁ গো বন্ধুরা, দুর্গা তাদের নাম।
তুই মেয়ে? তুই শুধু কামনার শিকার
মন আছে তাতে কি,ভোগ্য তোর শরীর
আমাদের নেই কোন বিকার।
পাশবিক অত্যাচারে তার শরীর রক্তাক্ত
মারা গেছে সে, ভাগ্যটা খারাপ ওর,
একি করলে হরি,
আমাদের সকলের এক চোখে জল
রাস্তায় মিছিলের সমাবেশ
হাতে মোমবাতি ধরি।
হ্যাঁ দুর্গা ই তার নাম।
কিছু পারিনা তো করতে
চুপসে যাচ্ছে রোজ ভেতরের ফানুস টা,
পারি নি দুর্গার লাজ রাখতে
দেখি তাকিয়ে অবাক এ নিয়ম
হ্যাঁ, আমিও এই মোমবাতি ধরা মানুষটা।
মা গো, তুমি এসেছো তো মর্ত্যে
প্রতিবারের মতো কদিন পর যাবে চলে,
চিন্ময়ী নয় তুমি প্রমাণিত
আজ আবারও মৃন্ময়ী হলে।
সত্যি যদি থেকে থাকো
শক্তি কিছু দাও
সুরক্ষার বলয়ে রাখতে চাই
অন্ততঃ একজন কে,মহা পূণ্য এ ধাম,
আমি তোমার ঐ দশ অস্ত্র ধারণ করি
রক্ষা করবো আমার মায়েদের
হ্যাঁ মা এরা দুর্গা, তোমার নাম।।