সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে সোনালি (পর্ব – ১৪)

পুপুর ডায়েরি
মা যখন এলো, আমি অন্ধকার সিঁড়িতে কোলাপ্সিবলের এপারে, গেটের লোহাগুলো ধরে চুপ করে বসে আছি।
মা এসে হাঁউমাউ করে উঠলেন, ” একি! সবাই কোথায়? দারোয়ান কই? তুমি একা কেন? ”
আমি খুব আস্তে আস্তে মাকে সব বললাম।
বললাম, দারোয়ান কাকু বলে গেছে দুষ্টুমি না করতে, আমি চুপটি করে তাই বসে আছি।
মা ভীষণ চেঁচামেচি করলেন। তারপর, চাবি কোথায় খুঁজতে হবে…
আমি বললাম, তুমি দারোয়ান কাকুকে ডাকো, আমি ঠিক বসে আছি।
তুমিও চলে যাবে না তো?.. ”
মা কেঁদে ছিলেন অনেক সেদিন । তারপর লোহার গেটের ফাঁক দিয়ে আমার হাত ধরে সিঁড়িতে বসে বসে রইলেন।
সারাদিন অফিস। না খাওয়া। সকাল থেকে পরিশ্রম। কত ক্লান্তি। তার মধ্যেও মাকে কী সুন্দর দেখতে।
দারোয়ান আরও কিছু পরে এসে প্রচণ্ড বকুনি খেয়েছিল।
আর, সেদিনই মা বলে এলেন, আর পাঠাবেন না ওখানে।
মা ছুটি নিলেন কয়েক দিন। তারপর আমায় নিয়ে গেলেন, ২৫ সাউদার্ন অ্যাভিনিউ, কলকাতা ২৬- এর নব নালন্দা ইস্কুলে।
সেটা তখন একেবারেই নতুন স্কুল। দশম শ্রেণি অবধি ও পৌঁছায়নি।