T3 শারদ সংখ্যা ২০২২ || তব অচিন্ত্য রূপ || বিশেষ সংখ্যায় স্নেহাশিস মুখোপাধ্যায়

(১)
ও
যখন নির্যাস তুলে ধরি,
তখন আমাকে ভয় পাও।
তারপরে ভালোবাসা আসে।
মন্থর-জ্ব’লে ওঠে দ্বীপ!
সে তোমাকে ভালোবাসে।
তুমি তার সাতদিন-ঘুমহীন।
ক্লোরোফর্ম সরে গেলে প্রথম চোখের জল
তোমাকে আবছা দেখে ভেবেছিলো,
আর একটা দিন।
দ্যাখো তো, মুখের রঙ ভেজা কি না!
আড়ালে কে ডেকেছিলো কৈশোর?
এ তোমার কবিতা না, আমারও না,
তোমাকে আমার মতো, আর একটি মেয়ের।
ওর ভালো লাগে একা একা নারাজ কবিতা।
মাঝে মাঝে অলসতা, তখন ওর মাঠ মনে পড়ে।
কেন যে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম!
ও রোজ আমার আগে ঘুম থেকে ওঠে!
ওকে সিঁদুরে ভাববো, না
ধানক্ষেত জুড়ে জল আসায়?
আমি মরে গেলে,
ও যদি শ্লেট-রঙা মেঘ হয়ে যায়!
ওর পুজো, হাঁড়িকাঠে ও
স্তোত্রে ওরই তো দাহ!
ও তাই আগুন জ্বালে রোজ।
ছাইয়ের আগুনে ওর পা!
দ্যাখো তো, মুখের রঙ ভেজা কি না!
নির্যাস তুলে ধরি।
ক্রমশঃ: ভালোবাসি ওর ভয়!
ও যদি ভালো না বাসে—
এমনকি ওর লুনি মিথ্যুক ঠোঁট,
যা সচরাচর মিথ্যে নয়!
(২)
মারিয়া
যে মারে, সেই-ই কি বাঁচায়?
মারিয়া, ও মারিয়া —
ঝড়, ভূমিকম্প কি আচায়?
না আচালে বিশ্বাস ক’রো না!
পটলডাঙার খাতায়…
মারিয়া ও মারিয়া,
সাগরচোখওয়ালি—
যে মারে, সেই-ই কি বাঁচায়?
আচায়?
পটলডাঙার খাতায়…
(৩)
হার
ঠিক এইভাবে দাঁড়িয়ে থাকো
খোঁপা, আমার আশৈশব—গ্লানি এঁকে দাও!
গতবার শীতকালে তোমাকে পাইনি কেন?
খোঁপাতে রজনীগন্ধা ছিলো না কেন?
ঠিক কিভাবে দাঁড়িয়ে ছিলে তখন?
এতো আগে সিঁদুর দিলে?
দিলে তো, এভাবে তাকায় কেউ?
শরতে গুমোট রোদ,
তুমি বাণী দিলে
আরো পুড়ে যাই!
তোমার গলায় আমার শত্রুর চিহ্ন লেগে।
কী পাড়, কি হার, কি ঘট তোমার শরীর ছোঁয়!
স্পর্ধা, এতো স্পর্ধা হয়েছে,
তোমার সিঁথিতে কার হাত!
এতো আগে সেজে নিলে,
মিথ্যে না,
মিথ্যে সেজেছো।
লালী ঠোঁটে কি ছুঁই-ছুঁই-বেদানা-ছুঁই…
সাদা,
তুমি তো অতুল নও,
কি দরকার এতো গয়নার?
সব খুলে এসো–
শীর্ণা, সাদা শাড়ি পরে নাও।
বুকের দু-পাশ ছুঁয়ে জেগে ওঠে আম্রপল্লব।
এমন সময় কান পাতো—
কোথাও বোমারু বিমান,
না না,
স্পষ্ট ঘাসে উল্টে পড়ে আছে চালচিত্র।
তোমার হাতের শাঁখা
কিভাবে দাঁড়িয়ে থাকে বলো?
তোমার শাড়ীর পাড়,
বুকের মাঝখানে রাখা ঘট—
সব তোমার, তোমার হতে পারে?
আর আমি, আমি কেউ নই?
—আমি কি সৃষ্টির দিকে দুয়ার রাখিনি খুলে কাল?—
তখন নির্যাস তুলে ধরি।
তখন, ও ততোটা মহৎ নয়।
ছাইয়ের আগুনে ওর পা!
ও তখন সিঁথি, জীবনদেবী নয়?