T3 শারদ সংখ্যা ২০২২ || তব অচিন্ত্য রূপ || বিশেষ সংখ্যায় রাজর্ষি পত্রনবীশ

আঠেরো

 

অকপটে সময় পাল্টে গেলো। মুখের আদল, জিভের আগল সব কিছুই একটু মার্জিত হয়ে গেছে। সেই বিখ্যাত রাগ,অনুরাগ, সব কিছুই একটু গা ঢাকা দিয়েছে। আমার কাছে আমিও একটু নম্র হয়ে গেছি, নিজেকেই একটু অন্যরকম লাগে আজকাল, খানিকটা অচেনা, খানিকটা বিরূপ।

অনেকগুলো বর্ষা হয়ে গেলো, দেখা হয়েছিল। খুব পরিষ্কার মনে পড়ে, সেই হলুদের ছটা, লালের গোমড়া মুখ আর তার ফাঁকে তোমার সবুজ হাসি। দেখা হয়েছিলো – কোথায় যেন? ইদানিং আমার স্মৃতিগুলো খুব বোকা বানায় আমাকে। দরকারের সময় মুখ বুজে বসে থাকে। তবে সেই জায়গার গন্ধ আজও খুব স্পষ্ট করে পাই। কি যেন একটা পুড়ছিলো, খুব ধোঁয়া আর তারই মধ্যে থেকে উদয় হয়েছিলে তুমি । তখন কি আর জানতাম, তুমি আমার হয়েও, ব্রাত্য হয়ে থাকবে!!

প্রথম দেখায় নাম দিয়েছিলাম অন্তরীক্ষা। তারপর যতবার দেখা হয়েছে, নতুন করে নাম দিয়েছি, নতুনরূপে তোমায় গ্রহণ করার জন্য। কখনো বা গোধূলি, কখনো অমৃতা আবার কখনো মহুয়া । প্রতিটি মরশুমে তুমি নিজেকে ভিন্নভাবে পেশ করেছো, আর আমি, নতুন নামে তোমায় গ্রহণ করেছি, নতুনভাবে আগলে রেখেছি। সব নাম আর মনে নেই, তবে প্রত্যেকটি অভিমান, প্রতিটি মিলন আর প্রতিটি ভাঙ্গন এখনো সাজিয়ে রেখেছি নিজের মণিকোঠায়। উহ্য হয়েছে অনেক কিছুই, কিন্তু সেই আনন্দ বেদনা এখনো ঘ্রাণ হয়ে জাপটে ধরে আমাকে।

এক বার মনে পড়ে, এইতো সেইদিন, তুমি ফিরে যাচ্ছ আর আমি ঠায় দাঁড়িয়ে তোমার দিকে চেয়ে আছি। একবার যদি ফিরে তাকাও – তাকালে বৈকি, একরাশ হাসি দিয়ে চলে গেলে। সেই ছিলো শেষ দেখা। মুখে তখনো তিতকুটে একটা স্বাদ আস্বাদন করে চলেছি। মিষ্টি হয়ে আবার দেখা হবে। আশা হয়ে রয়ে গেলে।

অন্তরীক্ষে আজ ঝড় উঠেছে। আসর বসেছে, মৃদঙ্গ বাজছে, শঙ্খধ্বনি গর্জন করছে আর বিপুল সুরে গান ধরেছে আকাশ। ইঙ্গিত দিয়ে যাচ্ছে বাতাসের আড়ম্বর। অপেক্ষার অবসানের বেলা? নাকি আরো কিছু আলোকবর্ষ সোনালি সূর্যের আশায় কেটে যাবে?

পিঠে হাত পড়লো একটি, ” যাও, পৃথিবীতে আবার ডাক পড়েছে, এই নিয়ে আঠেরোবার। এইবার তোমার আশাপূরণের বেলা… যাও দেরি কোরো না, নতুন নামে সে অপেক্ষা করছে। যাও…. ”

ফিরে এসে বাকিটা বলবো, কেমন?
অপেক্ষা করবেন কিন্তু!!!

Spread the love

You may also like...

error: Content is protected !!