কবিতায় পদ্মা-যমুনা তে রাজু রোজারিও

ছোট্ট একটা স্বপ্ন
আশায় আছি, স্বপ্ন দেখি পৃথিবীতে সুস্থ ভাবে বাঁচতে
ভগবানের আশীর্বাদে, তাহারই অসীম কৃপাতে,
থেকে যাবো অতিবৃদ্ধকাল অবধি পৃথিবীর মায়াতে,
তোমাকে ভালোবেসে, ভালোবাসতে, ভালোবাসা পেতে
আমার বিশ্বাস তা হবে হবেই বাস্তবে!
জড়িয়ে কিন্তু রেখো আমায়! কাছে ডেকো আমায়,
অতিবৃদ্ধ আমার আমি, হয়তো থাকবো বিছানায় পরে।
নিজে হয়তো পারবো না নড়েচড়ে বসতে
রেখো না হয় হুইল চেয়ারে, আম বাগানের ছায়াতে
বন্ধু হয়েই পাশে থেকো
শক্ত করে হাতটি ধরো, একবারও ছেড়ো না।
রেখো আমায় হৃদয়েতে ভালোবাসায় আটকে
ফেলে আসা দুখসুখ ব্যথা উড়িয়ে দিয়ে নীল আকাশে।
কখনো তুমি হয়তো ডাকবে আমায় চিৎকারে
শ্রবনে শক্তি পাবো না, তোমার দিকে তাকাবো না,
বলতে যাবো ‘ভালোবাসি’, বাকশক্তিও থাকবে না।
কপোল বেয়ে ঝরবে শুধু অশ্রু ফোঁটা
সেই জলেতে বুঝে নিও আমার ভালোবাসা,
দীর্ঘ নিস্বাসে আমার পুরোনো কথা,
হৃদয়ের গহীনে আটকে থাকা না ভোলা কিছু ব্যথা,
স্মৃতিতে বরফ জমা নিরব অশ্রুকণা।
বুঝে নিও কিন্তু, না হয় থাকবো আমি রাগ করে
বলে দিলাম এখনই, খাবো না তখন কিছুই,
একদম থাকবো অনাহারে, শুধুই জল খেয়ে।
ইশারা আর ইঙ্গিতে যদি বলি হাতটি আমার ধরো,
একটু কাছে বসো,
কাজের অজুহাতে পশ্চাতে কিন্তু পালিয়ে যেও না।
ইচ্ছে হবে খেতে আমার কত্ত কিছু, এইটা ওইটা
স্মৃতি শক্তি হারিয়ে, সব খাবারের নাম ভুলে
কোন খাবার চাইবো বলো?
বুঝে নিও তোমার স্মৃতি থেকে,
কি চাই, কি খাই এই বয়সেতে, এই সময়েতে।
কতো সুখে রান্না করো তিতা করলা ভাজি
সজনে ডাটা সর্ষে দিয়ে মাখা চড়চড়ি,
এইসবই কিন্তু মনে রেখো
ভুলে যাওয়ার ভান করো না, কষ্ট পাবো আরো।
সাথে কিন্তু পেঁপের ঝোল, একেবারেই ভুলো না।
এসব যদি না হয়, কিংবা না পাই, এমনই রাগ হবে, তোমার দিকে ট্যাড়াচোখেও ফিরে আমি দেখবো না।
অভিমান বুঝে নিয়ে তখন কিন্তু তুমি কাছে এসে বসো
হাতটি আমার শক্ত করে তোমার বুকে রেখো।
তুমি কিন্তু একদম ছেড়ো না, মুচকি হাসিতে বলো-
‘হঠাৎ রাগ, হঠাৎ সাধ, ভালোবাসার আকুলতা
সেই জীবনের পাগলামো, ছেলেমানুষী
এই জীবনেও তোমার কিন্তু গেলো না।’
তখন যদি না শুনি আমি, তুমি কিন্তু রাগ করো না।