ধারাবাহিক ভ্রমণ সিরিজে শতদ্রু ঋক সেন – ৫৪

ফেরা
বদ্রীনাথ থেকে পরদিন সকালে গন্তব্য যোশীমঠ। বেরোতে যদিও একটু দেরীই হলো। ট্যুর প্রায় শেষের দিকে বলে সবার একটু হলেও মন খারাপ, আবার তো কদিন পর থেকে সেই গতে বাঁধা জীবন শুরু। আমার নিজের চিন্তা অন্য, এইচ এসের রেজাল্ট বেরোবে, কাউন্সেলিং, কি পড়েন ইত্যাদি ইত্যাদি। তবে সেইসব ভাবনাকে পিছনে ফেলে, যখন যোশীমঠ পৌঁছলাম তখন বেলা প্রায় বারোটা। একটি হোটেলে মালপত্র রেখে, আগে আউলির কেবল কারের টিকিট কাটা হলো, তারপর খেয়ে দেয়ে বিশ্রাম। বেলা তিনটে নাগাদ এদিক সেদিক ঘুরে কেবল কার স্ট্যান্ডে।
ভিড় একদমই ছিলো না। তখনকার দিনেই, পার হেড টিকিটের দাম ৫০০ টাকা পার হেড। এত দাম কেন ভাবছিলাম। তবে কেবল কারে উঠে বুঝলাম ঠিক আছে। পরবর্তীতে অনেক জায়গায় কেবল কারে চড়েছি, তার মধ্যে গুলমার্গ গন্ডোলাও আছে, কিন্তু আউলি যাত্রা সবার থেকেই আলাদা। পান্না সবুজ বুগিয়ালের উপর দিয়ে মেঘের দেশে ভেসে যাওয়া, অসামান্য। আউলি পৌঁছে আমাদের হাতে এক ঘন্টা সময়, আমরা সবুজ ঘাসে লুটোপুটি খেলাম। পিস্তুতো বোন তখন আট বছরের, তার মা তাকে সদ্য হাইডির গল্প পরিয়েছে, সে তো নিজেকে হাইডি হিসেবে কল্পনা করে নিল। খুব ভালো কেটেছিল সেই দিনটি।
এক ঘন্টা পর যোশীমঠে ফিরে খেতে যাবার আগে মনে মনে ট্যুর রিক্যাপ করছিলাম। চটকা ভাঙলো পিসেমশাইয়ের কথায়। আমার বাবাকে বলছেন, যাই বলো রাঙাদা, আমাদের ড্রাইভারটা বিটলে হলেও গাড়িটি একদম বাঘের বাচ্চা, কি সার্ভিসটাই না দিলো সারা জার্নিটা।হায়রে, কে জানতো, পরদিন, এই কথাটা বুমেরাং হয়ে ফিরবে।