Poem In Other Language By ইউসুফ মুহম্মদ (Bangladesh)

দোঁহা
৩৩১
তোমাকে হঠাৎ ঝুলতে দেখেছি বাতাসের উদ্যানে
নিজের কথাই শুনতে পেয়েছি অশ্রুত ভবগানে।
৩৩২
তারার আলোয় নাইতে নেমে, পূর্ণিমা চাঁদ ভাসলো আঁধার বন্যাতে
হৃদয় উথাল, উড়াল পাখি; ভ্রমর মাতাল কোন সে সাধুর কন্যাতে।
৩৩৩
গোয়াল ঘরের কামকথা শুনে কানকথা নেই, কেউই করো না তর্ক
সকলে দাঁড়াও খড়গ হস্তে, আদৌ যদি পাও মানবিক সংসর্গ।
৩৩৪
প্রকৃতি আমাকে ডাকে, পাখিদের প্রেম লিখে দগ্ধ-প্রাণ পাখিদের কেউ নই,
তাদের অভিসম্পাত দেবো, মানুষের মায়ালোকে অহেতুক যারা করে হৈচৈ।
৩৩৫
ঠোঁটের ওপর ঠোঁট চর্চায়, পৃথিবী কাঁপিয়ে বলেন শকুন,
এ নাচ ফুলের- সালসাবিলের; কী করে থামিবে যতই বকুন?
৩৩৬
চাইলাম শুধু তৃষ্ণার জল তুমি ঢেলে দিলে ফুটন্ত রাগ-আগুন
মৌমাছি-দোয়েল সরবে উধাও- আমার আকাশে যদিও পলাশ-ফাগুন।
৩৩৭
বদলে যাচ্ছে, দ্রুতই বদলে যাচ্ছে হাওয়া পৃথিবীর সব ঋতু
কেন ছুঁতে চাও বাতাসি কাঁচুলি- হতে চাও নাকি অসম্ভবেই থিতু?
৩৩৮
ইউসুফ দিলো তৃষ্ণার জল, সুশীতল রোমকূপ
তাহার কবরে ঢেলে দিও সুরা, জ্বালিও গন্ধ-ধূপ।
৩৩৯
আমার পিতামহের কবরের গায়ে
লেখা আছে শ্রীসফর আলী নাম
কেউ তাতে জেয়ারত রাখে জানায় সেলাম,
কেউ কেউ করে সাষ্টাঙ্গ প্রণাম।
৩৪০
জন্মকালে তো মানুষ ছিলাম, নিজেকে হারিয়ে জাতে খুঁজি পরিচয়
রাম ও রহিমে, বুদ্ধ-যিশুতে ব্যবধান বাড়ে, মানুষেই বরাভয়।
৩৪১
ও ছিলো আমার ঘুমের ভেতর স্বয়ম্ভূ এক জাতিস্মর
সুরের মহিমা, বানালো সে কোন্ পূর্ণ তন্বী হে ঈশ্বর।