সুন্দরের সঙ্গে আনন্দের এক নিবিড় যোগ আছে। যা কিছু সুন্দর তাই আমাদের মনে আনন্দ দেয়। প্রকৃতির সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে এই সুন্দরের সুর আছে বলেই মন আনন্দে থাকে। আনন্দ আমাদের সঞ্জীবিত রাখে ,আমাদের বেঁচে থাকার রসদ জোগান দেয়। আমার ছোট্ট একচিলতে বাগানে যে কোনো গাছে একটা ফুল ফুটলেও সুন্দর লাগে, মন আনন্দে পরিপূর্ণ হয়। এই আনন্দ তো শুধু ফুলের মধ্যেই সীমিত নয়, যখন বর্ষার জলে গাছপালা স্নান করে ঝলমল করে অথবা বসন্তে নব পল্লবে গাছ রোমাঞ্চিত হয় ,সবুজ হয়ে ওঠে বনাঞ্চল তখনও বড় সুন্দর লাগে– মনে আনন্দ জাগে। ফুল ফোটার আগে গাছে কুঁড়ি আসে, গরবিনী ডালপালা বাতাসে দোলে আমি পুলকিত হই। প্রকৃতি তার রূপ-রস-গন্ধ-বর্ণে সাজিয়েছে এই চরাচর, এ তো সুন্দরের দান। তবে সুন্দর তো শুধু বাইরের বস্তুতে থাকে না, প্রকৃত সুন্দরের অধিষ্ঠান মনে। সুন্দরের সঙ্গে সংযত মন ও সুশৃঙ্খল ভাবনাও মিশে থাকে। যার মন যত সংযত, যার ভাবনা যত সুশৃঙ্খল সে ততই সুন্দরের স্রষ্টা এবং সুন্দরকে উপলব্ধি করতে পারে। বাগানের বা টবের কোনো গাছ শুকিয়ে গেলে সেই শুকনো গাছটি আমরা তুলে ফেলি।তারপর মাটি খুঁড়ে সার দিয়ে নতুন গাছ লাগানোর ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হয়। শীতকালে গাঁদা, চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া ও নানাবিধ মরসুমি ফুল আমাদের মন আনন্দে ভরিয়ে তোলে। কিন্তু এই সুন্দরের জন্য আয়োজন অনেক আগে থেকেই শুরু হয় এক সংযত ও সুশৃঙ্খল মনের ভাবনা থেকে ফুল ফোটানোর আনন্দের নেশায়। চাষি ঠিক এইভাবেই রুক্ষ শুকনো জমি প্রস্তুত করে বীজ রোপণ করে। মাঠ ভরা সবুজ ফসলের সৌন্দর্য আমাদের দুচোখে আনন্দের জোয়ার আনে। চাষিও খুশি হয়। পাকা ফসলও ঠিক একই রকম ভাবে সকলের কাছে সুন্দর ও আনন্দের উৎস।