।। ত্রিতাপহারিণী ২০২০।। T3 শারদ সংখ্যায় চৈতি চক্রবর্তী

জোকার

আমাদের সকলের মধ্যেই একটা জোকার বাস করে। প্রত্যেকেই অন্যকে খুশি করার জন্য রঙ মেখে নিজেদের কাজ উদ্ধার করি।
সেদিন নির্ভয়ার লাশটা জংলি গাছের আড়ালে নিথর হয়ে পড়েছিলো
পশু কবলিত দেহটা। নির্মলের দেহ যেন দাঁড়িয়ে দেখতে পারছিলো না। কিন্তু কে দেবে ছাড়? কে দেবে তাকে শোক করার সময়?
গতকাল নির্মল পাড়ার নাটকে একটা জোকারের রোল পেয়েছে ১০০ টাকা দেবে বলেছে।
মেয়ের লাশটা ঢাকা রয়েছে পোড়াতে হলে টাকা চাই। আজই সন্ধ্যেতে শো। চোখে জল আসতে দেওয়া চলবে না তাকে যে হাসাতে হবে সকলকে। নাহলে টাকা দেবে না বলেছে। তাকে যে মেয়ের লাশটা পোড়াতে হবে।
স্টেজে ওঠে সে আধঘন্টা জোকারের রঙ মেখে নাচ গান সমস্ত অ্যাক্টিভিটি করে। লোকে হাসে আর সে মনে মনে ভাবে মেয়ের লাশটা তাহলে সে সৎকার করতে পারবে।
শো শেষ হলে সে নাটকের প্রোযোজককে একটা অনুরোধ করে, বাবু আমাকে একটু
সকলকে কৃতজ্ঞতা জানানোর জন্যে দু মিনিট বলতে দেবেন?
প্রযোজকের কি মনে হয় সে পারমিশন দেয়।
সে বলে—-বাবুমশায়রা আমি কৃতজ্ঞ যে আপনারা আমার অভিনয়ে খুশি হয়েছেন।
আজ যে পারিশ্রমিক পাব তাই দিয়ে আমার মেয়ের লাশটার সৎকার করবো। বাড়িতে তাকে ঢাকা দিয়ে রেখে এসেছি। আপনাদের দান আজীবন মনে রাখবো। আমি তো জোকার নিজের শোক করার সময় কোথায় আমার? বলেই ঝরঝর করে কেঁদে ফেলবো
সে।
নাটকের হল তখন নিঃস্তব্ধ।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।