গুচ্ছকবিতায় সুজিত রেজ

আদ্যানদী

সকালবেলায় মায়ের হাতের এক গ্লাস জল
খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই
আমার শরীরে নদী বইতে শুরু করে।
যে-নদীর কূল নেই—- কিনারা নেই।
আমার মন নৌকো হয়ে যায়—- যার হাল নেই—-
পাল নেই—- সেঁউতি নেই।
কোথায় যাব —-কোথায় যাব না,
দূর থেকে দেখব না কাছে গিয়ে বসব—-
মা সব বলে দেয়।
বাজুবন্ধে চিমটি কেটে আরও বলে দেয়
মাঝপথে খেয়ে নিস বেলপোড়া শরবৎ।
নৌকো চলতে শুরু করে
নদীর জল থেকে খসে পড়ে জলের খোলস
শঙ্খচিল ঘুরপাক খায় কানের দুপাশে
পশ্চিমা হাওয়ায় বোধ ও বোধির পাল্লা খুলে যায়
নৌকো চলে—- সূর্যের কিরণমালা আগুনকথা বলে জলকেলি শেষ করে চলে যায় মেঘেদের বাড়ি
বেলা পড়ে এলে ঘরে ফিরে আসি ঝিনুক ডালা নিয়ে।
দেখি , মা ভাত নিয়ে বসে আছে ;
গাছের সবুজ কাঁচা লঙ্কা , আধফালি পিঁয়াজ
দাঁড়কে মাছের টক।
দু’একটা ডিঙিলি মুখ বাড়ায় মায়ের খুশির মতন।

গোলোকধাঁধা

আমার কবিতা অন্যজন লিখে ফেলছে ,
আমি ভূর্জপত্র চিবিয়ে খাচ্ছি ।
আমার স্বপ্ন অন্যজন দেখে নিচ্ছে ,
আমি বিছানায় বসে তুলো ওড়াচ্ছি ।
আমার দাঁত অন্যের মুখে গজাচ্ছে ,
আমি মাটন-বিফ খাব কী করে ?
আমার পাওয়ার অন্যের পায়ে ঘুরছে ,
আমি কেদারনাথ যাব কী করে ?
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।