এসব অনেকের কাছেই ঔৎসুক্যতার বিষয় । তবে বিশু ছোটো থেকেই এ সবের সাথে পরিচিত । ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে তাদের বাড়ি । দুই দেশের মাঝে , নীরবে একাকিনী ইছামতী বহু ঘটনার সাক্ষী হয়ে বোবা মুখে কুলকুল কলতানে বয়ে চলে । দুই দেশের মানুষকে পৃথক রূপে পরিচিতি দেয় , ভিন্ন সংস্কৃতির বাতাবরণের নীরব দর্শক হয়ে রয়ে যায় ।
এ সবের মাঝেই বেড়ে ওঠা বিশু সবেমাত্র দ্বাদশ শ্রেণি পাস করে বাড়ি থেকে আট কিলোমিটার দূরের কলেজে ভর্তি হয়েছে সে। বাড়ির অবস্থা খুব ভালো না হলেও একেবারে খারাপ না । নিজেদের হাল-বলদও আছে , বাড়িতে নিত্যদিনের কাজের জন্য মাইনদার রাখা আছে একজন । ওদের নিজস্ব জমিতে চাষাবাদ করে যা রোজগার হয় , তাতে মধ্যবিত্তের সুখ স্বাচ্ছন্দ্য ও মাঝে মাঝে অভাব অনটনের মধ্যে বেশ দিব্যি দিন চলে যায় । বিশুর বাবা সূর্য বাবু সৎ এবং দেশের প্রতি একনিষ্ঠ ভক্তি তার । তাই সীমান্তে বসত বাড়ি হওয়া সত্তেও কোনোরকম অবৈধ চোরা কারবারের সাথে তিনি যুক্ত নন । অথচ আশ-পাশে বিশুর বয়সী কি বলবো , ওর থেকে অনেক ছোটো ছোটো ছেলে গুলোও আবৈধ কাজে নেমে পড়েছে , কাঁচা টাকার লোভ যে বড়ো সাংঘাতিক । তাই সূর্যবাবুর মনে বড্ড ভয় , স্ত্রীর সাথে একান্তে কথা বলার সময় বার বার বিশুকে নিয়ে চিন্তায় মশগুল হয়ে বলে —
” খোকাকে সব সময় বুঝিও , ওর বন্ধু-বান্ধব যা জুটছে দেখছি , সব তো দু-নাম্বারি চোরা কাজের সাথে যুক্ত , ভুল করে বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে ও কোনো ভুল পথে পা না বাড়ায় । “
বিশুর মা’ও সর্বক্ষণ ছেলেকে নিয়ে চিন্তায় থাকে ।
ছেলেকে ডেকে বলে —-
” বাবা তুই যাদের সাথে মিশছিস , ওরা মোটেই ভালো ছেলে না , সবাই চোরা কাজের সাথে জড়িত , নেশা ভান করে , বাজে ভাষা দেয় । তুই ও সব সঙ্গ ত্যাগ কর । তোর সাথে কি ওদের মানায় বল বাবা !”
মায়ের কাকুতি মিনতি ভরা বিষণ্ণ গলায় বলা কথাগুলো বিশুর কানে বড়ো অসহ্য মনে হয় । এতদিন এই অস্বস্তিটা মনের মধ্যে গোপন রাখলেও আজ মুখের উপর জবাব দেয় ——
” তালে মিশবো কাদের সাথে ? তোমার বাবার সাথে ? “
মায়ের মনটাতে বিষণ্ণের কালো মেঘ ছেয়ে যায় , ছেলের ভবিষ্যৎ ভাবনায় সে চিন্তা যেন আরো গভীর থেকে গভীরতর হয়ে ওঠে । বেদনা বোধের সাথেই একটা ক্রোধের ছটা আর তীক্ষ্ণ নজর ছেলের উপরে প্রয়োগ করলে , মাথা নীচু করে বিশু ঘর থেকে বেড়িয়ে যায় ।
বিশুর এ হেন আচরণ ওর মা সবটাই লুকিয়ে যায় ওর পিতার কাছে । মা ভালো করেই জানে , বাড়িতে এসব বলার ফল বাপ-ছেলের মাঝে বড় অশান্তি সৃষ্টি করবে । তাই রোজকার এমন টুকিটাকি ছোটোখাটো অশান্তির কথা আর সন্তানের বেড়ে ওঠা অবাধ্যতার কথা স্বামীকে না জানিয়ে বিশুর মা প্রঞ্জা নারীর মতোই স্বামী ও সন্তান উভয়কেই সামলে চলেছেন।
বিকাল না হতেই বিশু ছোটে খেলার টানে । শুধু বিশুর কেনো , খেলাধূলার প্রতি এমন টান , এ বয়সী সকল ছেলের মধ্যেই কম-বেশি পরিলক্ষিত হয় । সে উপস্থিত হয় খেলার মাঠে । দল ভাগাভাগির পালা শেষ হতে না হতেই শুরু তর্জা , কোলাহল , চিৎকার , চেঁঁচামেচি । এ সবের মাঝে , কটা বলে ওঠে —–
” আমার পাঁঁচশো , তোদের কে লাগাবি টাকা ? “
অপর দলের ট্যামার উত্তর ——
” আমি সাতশো লাগালাম , যদি রাজি হোস বল , তবেই খেলা চলবে , নয়তো থাক খেলা বন্ধ , দরকার নেই । কি রে ? রাজি আছিস ? থাকলে বল । “
বেড়ে গেল টাকার অঙ্ক । এ সব যে চোরা কারবারি করা কাঁচা টাকার গরম , সে কথা সীমান্ত লাগোয়া গ্ৰামে গেলেই অনুভব করা যায় । খেলা শুরু । কেউ বল মিস করলেই অভব্য ভাষায় শুরু গালি গালাজ । বেশ কয়জনের পর এবারে ব্যাট ধরতে এল বিশু । প্রথম বলই মিস করলো সে। মাঠের এক কোণ থেকে আওয়াজ ভেসে এলো ——
” কি রে ঢ্যামনা পাঠা , মা’র কোলে গিয়ে শুয়ে থাক । প্রথম বলই মিস করলি , তা আর খেলবি কি রে ? যা যা উঠে যা । আমরা টাকা লাগিয়ে খেলি , ফ্রি খেলতে আসিনে তোর মতো । খেলতি পারিসনে তা মাঠে আসিস কেনো । পরদিন থেকে গাঁটে জোর থাকলে তবেই মাঠে নাবিস , বুঝলি ?”
এ তো গেলো সামান্য , এমন আরো অজস্র অভব্য ভাষা তীরের মতো তার দিকে ছুটে আসে । এর থেকে কেউ গোটা কতক থাপ্পড় মুখে বসিয়ে দিলেও অতটা গায়ে লাগতো না । সব শুনে বিশু মাথা নীচু করে বেরিয়ে যায় মাঠ থেকে । একা পাশের এক ডোবার ধারে গিয়ে বসে । কত কিছু চিন্তা করে সে । মনে মনে ভাবে
” যদি আমি টাকা লাগাই তবে তো আর কেউ এইভাবে মা-বাবা তুলে গালি গালাজ করতে পারবে না । আমি যা বলবো সেটাই হবে । “
একদিকে খেলার মাঠে নেতৃত্বের বাসনা , সাথে বন্ধুদের কথার প্রতিশোধ নিতে উদগ্ৰীব হয়ে ওঠে বিশু । এ বয়েসের প্রতিটি ছেলে-মেয়ের মনে প্রতিশোধ স্পৃহা একটু বড়ো বেশি কাজ করে। এই কারণে তারা নিজেদেরকে ভুল সিদ্ধান্তের দিকেও ঠেলে দেয় , যে জন্য জীবন-মরণ সম্মুখীন হতেও তারা পিছপা হয় না । খেলা শেষে বাড়ির পথে পা বাড়ায় বিশু । রাস্তায় দেখা হয় পাড়ারই সুবোল কাকুর সাথে । একই পাড়ায় বাড়ি , সেই সূত্রে কাকা । নতুবা রক্তের কোনো সম্পর্ক বিশুর সাথে তার নেই । বিশুকে উদ্দেশ্য করে বলে ওঠে ——-
” কি রে বিশু ? পড়াশুনা কতদূর ? কোনো কাজ করছিস ? নাকি ড্যাং ড্যাং করে এখনো নির্ভাবনায় ঘুরে বেড়াচ্চিস ? “
বিশু উত্তর করে ——-
” এই তো কলেজে ভর্তি হলাম কাকা । কাজ আর কি করবো । সরকারি কাজের যা হাল , আবার তার উপরে টাকা পয়সা , মানে ঘুষ দেওয়ার ব্যাপার স্যাপারও আছে , আমরা অতো টাকা পয়সা পাবো কোথায় । “
উত্তর আসে —–
” কি করবি মানে , তোর বাপ তো ভাঙা বেড়ার ঘরেই সারা জনম থেকে গেলো । তোর তো ভবিষ্যৎ অন্ধকার । আমার দেক , দেকে শেক । তুরা তো সারা জনম একেনে আচিস , আর আমি দশ বছর আগে যখন উটে এসেচি তখন খাওয়া জুটতো না । আর একন দ্যাক : বাড়ি ,গাড়ি । অতো সাধু সেজে লাব নেই , আমাদের সাতে কাজে যাও তো চলো । “
বছর আঠারো-ঊনিশের ছেলেদের মন বড় ভাবুক । নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবার আর স্বাবলম্বী হওয়ার বাসনা এ বয়সে তীব্র আকার ধারণ করে । তার উপরে যদি কেউ কোনোরকম কাজের সন্ধান দেয় , তবে হিতাহিত ভালোমন্দ বিচার না করে সে দিকেই ছুটতে থাকে । বিশু বেশি কথা না বাড়িয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয় ।
স্কুলের মত কলেজে রোজদিন ক্লাস করবার মানসিকতা বিশুর আর নেই । তাই আট কিলোমিটার দূরের কলেজটা তার কাছে দিন দিন উপেক্ষিত হচ্ছে । কোনো সপ্তাহে এক বা দুই দিন আবার কোনো সপ্তাহে একটা দিনও না – এভাবেই বিশুর কলেজ যাবার রুটিন হয়ে ওঠে । নিজেদের সম্পত্তির পরিমাণ একেবারে নেহাত কম নয় সে কথা আগেই বলেছি । বিশু চাইলে ওর বাবার সাথে চাষের কাজে একটু হাত লাগাতে পারে কিন্তু তা করে না । বিশুর বাবা ছেলেকে একটু আধটু চাষাবাদ শেখাতে চাইলেও ওর মা বেঁঁকে বসে ।
বিশুর বাবা ওকে বলে —-
” চল তো আমার সাথে , মাঠে যাবি । ধানে জল দিতে হবে , কাজের লোকটারও শরীর খারাপ , আজ আসতে পারবে না বলে গেলো । তোর দিয়ে বেশি কাজ করাবো না , পাশে পাশে একটু থাকবি , টুকিটাকি হাতের কাজগুলো একটু এগিয়ে দিবি ।”
এ কথা শুনে বিশুর মা বলে ওঠে —-
” তোমার কি একটুও কান্ডঞ্জান নেই ? ওর ওই তো বয়েস , তার ওপরে পড়াশুনোর চাপ । ও কখন যাবে তোমার সাথে কাজ করতে ? আর এতদূর পড়াশুনা করে ক্ষেতে কাজ করতে গেলে লোকেই বা কি বলবে ? “
মুহূর্তে মেজাজ বিগরে যায় সূর্যবাবুর —-
” মাথাটা আরো খাও , বুঝলে তো ? এক ছেলে বলে তো মাথায় তুলে রেখেছো । লোকে আর পড়াশুনো করে না , তারা আর মাঠে যায় না । আর যাবে তো নিজেদের ক্ষেতে , লোকের জমিতে তো ওকে কাজ করতে বলছি না । তাতেও এত অসুবিধা ? “
স্বামী-স্ত্রী’র মধ্যে একটা মনোমালিন্য কাজ করে মুহূর্তে । বিশু দাড়িয়ে সবটাই দেখে , কিছু বলে না । চুপ করে থাকে । ওর বাবা বেরিয়ে গেলে মা’এর সামনে গিয়ে বলতে শুরু করে ——-
” অতো বড়ো বড়ো কথা কিসের ? কি করেছে আমার জন্যে ? লোকের বাবারা নিজের ছেলের জন্যে ব্যাঙ্ক-ব্যালেন্স , ঘর-বাড়ি , সোনা-দানা সব করে রেখেছে । উনি আমার জন্যে কি করেছে ? এখন বলে কিনা ওনার সাথে মাঠে যেতে । সারা জীবন ধরে তো দেখছি মাঠে যাচ্ছে , কি করেছে শুনি ? তার কোনো নমুনা তো টের পাওয়া যাচ্ছে না । “
ছেলের এসব কথায় মা থতমত খেয়ে যায় । বাক্য হারা হয়ে যায় । কিছু সময় চুপ থাকার পর বলে —–
” খুব বড়ো হয়ে গেছিস , বল ! তোর বাবা দিন নেই রাত নেই মাঠে খেটে তোর মুখে খাবার তুলে দিচ্ছে । আর তোর মুখে আজ এসব কথা ! কোথা থেকে শিখলি এসব ! “
সুখের আকাশে মেঘ করেছে । মা বুঝতে পারে ছেলে আর ছোটো নেই । আন্দাজ করে নেয় আশ-পাশের পরিবেশ গুনেই ওর এমন ব্যবহার , সঙ্গদোষ ছেলেটাকে বিগড়ে দিয়েছে । স্বামীর সাবধান করা কথাগুলো বুকে ঘা মারতে থাকে । এক অজানা ভয়ে শিহরিত হয়ে ওঠে সারা শরীর । ছেলেকে বোঝাবে বলে ডাকতে গিয়ে দেখে বিশু বাড়িতে নেই ।
বিশু সোজা গিয়ে ওঠে খেলার মাঠে । শুধু ক্রিকেট নয় , চলতে থাকে তাসের আড্ডা । আর টাকা ছাড়া কোনো খেলাই যে হয় না , সে তো জানা । কাঁঁচা টাকার বাহারি রঙ ওড়ে সীমান্ত লাগোয়া গাঁ গুলিতে । ছোটো ছোটো ছেলের হাতে দামি আংটি আর নামজাদা কোম্পানির মোটর বাইক । বিশুদের গ্ৰামও তেমনই ।
বাড়িতে পিতার বাক্যবাণে বিশুর মনে এক বড় পরিবর্তন আসে । ওরই বয়সী প্রতিবেশি বন্ধুদের হাতে টাকার বান্ডিল দেখে বিশুর চোখ চকচক করে ওঠে । সংসারের দারিদ্র্য , মনোমালিন্য , স্বাবলম্বী হবার বাসনা , খেলার মাঠে খেলতে এসে বল মিস করলে চারদিক থেকে উঠে আসা অভব্য গালি গালাজ , সর্বোপরি কাঁচা টাকার লোভ , বিশুকেও গ্ৰাস করতে থাকে । মনে পড়ে সুবোল কাকুর বলা আগের দিনের কথাগুলো ।
খেলার মাঠ ত্যাগ করে সোজা রওনা হয় সুবোল কাকুর বাড়ির উদ্দেশ্যে । প্রসাদোপম বাড়ির সৌন্দর্যটা এতদিন বাইরে থেকে দেখেছে কিন্তু ভিতরে প্রবেশ করবার সৌভাগ্য তার হয়ে ওঠেনি । আজ সে সৌভাগ্যের মালিক হল বিশু । গিয়ে দেখে টাকার হিসাব পত্র আর অন্যদেরকে টাকা মেটানোয় সে । বিশু বলে ওঠে —–
” কাকু ? কথা ছিলো । “
বুঝতে বাকি থাকে না যে কেন সে এসেছে । টাকার হিসাব মেটানো থামিয়ে দিয়ে বলে ——–
” আমি জানতাম তুই আসবি । বোস বোস । কাজ চাই , তাই তো ? “
বিশু উত্তর করে — ” হ্যাঁ “
ইতিমধ্যে বিশুর সমবয়স্ক কাবু এসে হাজির হয় । সুবোলের খুবই বিশ্বস্ত সে । সুবোলের হাতেই তার অপরাধ জগতে হাতেখড়ি । চোরা কারবারিতে সে এখন দক্ষ অনুচরের মতোই সুবোলের কারবারির বেশ অনেকাংশ তদারকির দায়িত্বে । সুবোল বাবু কাবুকে সবকিছু বুঝিয়ে দেন , বিশুকে কি কি কাজ করতে হবে ।
সন্ধ্যার আবছায়া অন্ধকার নেমে এসেছে চারিদিকে । সীমান্ত লাগোয়া গ্ৰামের বাড়িগুলিতে ঘণ্টাধ্বনি সহ শাঁখের আওয়াজ এক সুন্দর মনোরম পরিবেশের সৃষ্টি করেছে । এমন শান্ত স্নিগ্ধ মোহময়ী পরিবেশে বাইরে থেকে কেউ হঠাৎ করে বেড়াতে আসলে বুঝতেও পারবে না যে , এটা কোনো সীমান্ত , চব্বিশ ঘণ্টা সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর নজরদারি থাকে এখানে। আর মাঝে মাঝে বন্দুকের গুলি , রক্তাক্ত করে নীরব ইছামতীর জল ।
কাবু , বিশু আরও পাঁচ-ছয় জন , সন্ধ্যার আবছায়া অন্ধকারে বেড়িয়ে পড়ে । কাবু একটা ব্যাগ নিয়ে বিশুর হাতে ধরিয়ে দেয় । সবার হাতেই অমন ব্যাগ । সে গুলো নদী পেরিয়ে ওপারে বাংলাদেশ পৌঁছে দিতে হবে । বিনিময়ে জুটবে মোটা অঙ্কের টাকা । কাজ যে খুব পরিশ্রমের তা নয় , বেশি সময়ের কাজও না । তারা কখনো সোজা রাস্তা , কখনো গাঁ’এর মেঠো পথ , কখনোবা বাগানের ভিতর দিয়ে সকলে চলতে থাকে । সকলেরই মনে এক উত্তেজনা , এই বুঝি পুলিশে ধরে ফেলে । বিশুর মনে এতক্ষণ পর ধীরে ধীরে ভীতির সঞ্চার হতে থাকে । মনে পড়ে মা’এর বলা কথাগুলো ।
চোখ-মুখ লাল হতে থাকে বিশুর । তাদের গন্তব্যের বেশি অংশই পেরিয়ে নদীর কাছে এসে পড়েছে তারা । হঠাৎ পেছন থেকে জোরালো সার্চ লাইটের জ্যোতি । সন্ধ্যার পরবর্তী মুহূর্তের গাড়ো অন্ধকারেও সে আলো সবকিছুকে স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দেয় । সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উঁচু কণ্ঠস্বর চারিদিকের নিস্তব্ধতা ভেঙে এক শিহরণ জাগিয়ে তোলে ——-
” কউন হ্যায় উধার ? রুখ যা শালে । “
বিশুর বুঝতে বাকি থাকে না যে তারা পুলিশের নজরে পড়ে গেছে । ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে সকলের পেছনে পেছনে সেও নদীর জলে ঝাঁপ মারলো । তাতে কি হয় । প্রহরীর অতন্দ্র পাহাড়া কিছুই দৃষ্টি এড়ায় না । মুহূর্তে গর্জে উঠলো বন্দুকের স্বর । সাথে তীক্ষ্ণ চিৎকার । আর ইছামতীর জলে কেউ যেন আলতা ঢেলে দিল । সমস্ত জেদ , লোভ আর লালসা নিমেষে ধ্বংসীভূত হল ইছামতীর জলে । বোবা ইছামতী আবারও একটা সংখ্যার সাক্ষী হয়ে রইল ।
সীমান্তের গ্ৰাম গুলিতে এমন হাজারো বিশু কাঁচা টাকার লোভে অকালে ঝড়ে পড়ছে । সন্ধ্যার পরও বিশু বাড়িতে না ফেরায় ওর বাবা-মা চারিদিকে খুঁজতে থাকে । তখনও এক অজানা আশঙ্কা বুকে নিয়ে । একসময় রাত গভীর হতেই বাড়িতে পুলিশ আসে , বলে ——-