গুচ্ছ কবিতায় তাপসকিরণ রায়

মৃত পাখিদের
কখনও আনাড়ির মতো আকাশের দিকে তাকিয়ে তুমি উড়ে যাওয়া পাখির ঝাঁক দেখো
তখন স্বপ্নময় চোখে মাখা মুখে মাখা মায়াময় প্রেমিক অথবা প্রেমিকার মত
সেই তুমিই আবার কখনও অনায়াসে চিবিয়ে খাচ্ছ সেই পাখিদের হাড়গোড় ও সুস্বাদু ঠ্যাং
নিজেকে একটু আড়াল রাখতে চাইছ, খেতে গিয়ে সে সব দৃশ্যমান কথা মনে আনতে চাও না।
তাই একটা পার্টিশন রাখা আধো অন্ধকারে বসে থাকো।
আবার এক পড়ন্ত বিকেলে প্রেমের ভাবঘোরে চেয়ে দেখো হলুদ পড়ন্ত রোদের বেলায়
পাখিরা ফিরে যাচ্ছে আপন কুলায়।
তখনো একটা আড়াল টেনে নিয়েছ তুমি, পৃথিবীর সব দৃশ্য সেখানে আধখানা রয়ে যায়,
এক দিকে মায়া-মমতা ও ভাবনার ঢল নামে, অন্য দিকে লেহ জিহ্বা-রসনাতে
মৃত পাখিদের ঝাঁক নেমে আসে…

 

কখনও সর্বনাশা

কখনও সর্বনাশা ভেবেও মন্ত্রপূতঃ বেড়ি পার করে দেখতে ইচ্ছে হয়
মন্ত্র শক্তি ও সাপের মানিক স্পর্শ করে দেখতে ইচ্ছা হয়
কখনও নষ্ট মেয়ের দেহ সেঁটে  তার বৈলক্ষণ্যগুলি খুলে দেখতে ইচ্ছে হয়
প্রেমের পঙ্কে সে মেয়েটা কি ভাবে নিমজ্জমান হয়, একটি দুষ্ট মন
তা দেখতে ইচ্ছে হয়। বৈরিতার মাঝ দিয়ে মৃত্যু থেকে তোমায় টেনে তুলি,
তুমি তখন আমায় ক্ষমা করতে পারোনি।

 

যে পিঠে হাসছো তুমি

যে পিঠে হাসছো তুমি
অন্য পিঠ অন্ধকার ও গভীরতা
কান্না গড়াতে গড়াতে তুমি প্রগলভ হেসে উঠলে
এমনি বারবার অনুশীলন করে
একদিন তুমি সত্যিই অভিনয় করতে শিখে গেলে।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।