সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে অর্ঘ্য রায় চৌধুরী (পর্ব – ১১)

মুনকে লেখা চিঠিগুলোর থেকে

(এগারো)

মুন,
সেই নবজলধর নীরদপুঞ্জ মেঘদল, সেই
মেঘগর্জনের ধ্বনি, পিনাকপানীর সহস্তে ধৃত ধনুকের টঙ্কারের মত প্রলয়রভসে সহ্যাদ্রীর ওই উপত্যকাকে তছনছ করে বেজেই চলল, যেন প্রবল পুরুষ তছনছ করছে তার নিজস্ব নারীকে।আর বনের ভেতর থেকে উত্থিত তার তীব্র শীৎকার ধ্বনি, সেই সকাতর আত্মনিবেদন আমার শ্রবণে চিরকালীন হয়ে আছে।
বৃষ্টির পর সেই উপত্যকা, সেই বন, যেন মনে হল রতিক্লান্তা রমণীর মত সুখের আবেশে নিমীলিত চোখে সেই তাণ্ডব স্মৃতি রোমন্থন করছে।
বৃক্ষরাজী থেকে ঝরে পড়ছে জল।ঘন মেঘ সেই বন পাহাড়কে ঝুঁকে পড়ে যেন পুনরায় চুম্বনোদ্যত হয়ে আছে।নিথর বন পাহাড়, সেই স্পর্শের আকাঙ্খায় আবার উন্মুখ হয়ে আছে।
সহ্যাদ্রীর প্রকৃতি স্বভাবতঃ রুক্ষ।কিন্তু সেই বনেরও এক অন্য সৌন্দর্য আছে।যা চোখ টেনে ধরে।আমি সেই সৌন্দর্যের সম্মুখে বারবার বিস্মিত হয়েছি।
এক রাতে বিঠঠল এক অদ্ভুত কথা বলল, বন পাহাড় ভীষন কূহকিনী।মানুষ অনেক সময় নির্জন বনের গভীরে এমন কিছু দেখে, যে কৌতুহলাক্রান্ত হয়ে ছুটে যায়।কিন্তু অনেকে সেই মায়ার কবলে পড়ে উন্মাদ হয়ে গেছে।
আমার বিশ্বাস হয়নি। কিন্তু আরণ্যকের সেই বন্য মহিষের দেবতা টাঁড়বারোর কথা মনে পড়ে গেছিল।ওই মাইলের পর মাইল গভীর বন পাহাড়ের ভিতর গভীর রাত্রে এইসব কথা শুনে বিশ্বাস না করে উপায় থাকেনা।আমরা বিশ্বপ্রকৃতির কতটুকুই বা জেনেছি? বিজ্ঞান এই সমস্ত রহস্য থেকেও একদিন সুনিশ্চিতভাবেই পর্দা অপসারণ করবে।
বিঠঠলের মত বন পাহাড়ের গভীরে ঘুরে বেড়ানো মানুষ বানিয়ে বলেনা।বনকে ওরা হাতের পাতার মত চেনে।যা কিছু বলে সবই ওদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার ফসল।
বিঠঠলকে ওই অভিজ্ঞতার কথা জিজ্ঞেস করেছিলাম।ও যা বলেছিল সেটা শুনে ভীষণ অবাক লেগেছিল।
সেই দূর্যোগপূর্ণ রাত্রে বিঠঠল বলেছিল, নির্জন বনের গভীরে দূর থেকে কোনওকিছু দেখে এগিয়ে যেতে নেই।

চন্দ্রতাড়িত।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।